লেখা তরজমা

দ্যা মুজিব সিন্ড্রোম

মাহফুজের আশপাশের লোকেরা এখন জোর গলায় বলছে, "শাপলা-শাহবাগ বাইনারি জিইয়ে রাখলে বাংলাদেশ হবে না।" আশ্চর্যের বিষয়, এই কথাটাই তো শাপলার মানুষরা জুলাইয়ের পর থেকেই বলে আসছিল। তারা প্রস্তুত ছিল—ইভেন শাহবাগীদের মতো ফ্যাসিস্টদেরও এই দেশের একটি জায়গা দিতে। শর্ত ছিল একটাই—তারা যেন নিজেদের খাসলত ঝেড়ে ফেলে। অথচ বাস্তবতা বলছে, স্বাধীনতা, স্বকীয়তা, সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়া গোষ্ঠীকে এমন ছাড় দেওয়া কতটা যৌক্তিক?

জুলাইয়ের পর বিভাজন কে শুরু করল? জুলাইয়ের স্মৃতি মুছে ফেলতে কারা মরিয়া হয়ে উঠল? কার ইন্ধনে জুলাইয়ের সহযোদ্ধাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হলো? এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—কারা হাসিনার বছরের পর বছরের চাটুকারিতা সত্ত্বেও কোনো প্রশ্ন বা জবাবদিহিতার সম্মুখীন না হয়েই জনপরিসরে জায়গা করে নিল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কারও অজানা নয়।

এখন শাহবাগের মোকাবেলায় গড়ে ওঠা ইনসাফ মঞ্চকে দোষারোপ করা হচ্ছে বাইনারি তৈরির জন্য। হায় সেলুকাস! তারা শাপলার সহনশীলতা দেখতে পাচ্ছে না। তারা দৈত্যকে নামিয়ে আনবে, অথচ আশা করবে জনগণ প্রতিদিন একজন একজন করে তাকে উৎসর্গ করবে! সুস্পষ্ট ফ্যাসিবাদের কাফফারা শুধু সুযোগসন্ধানী অংশগ্রহণের মাধ্যমে আদায় করা যায় না। সন্দেহযুক্ত, জনতাড়িত (mob-driven) ও পরিকল্পিত রাজনৈতিক বিচার, জিঘাংসা এবং হত্যাকাণ্ড—কোনোভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না। যদি যোগ-বিয়োগের খেলা খেলতেই হয়, তাহলে ইনসাফ নিশ্চিত করেই তা করতে হবে।

এদিকে, মাহফুজকে জুলাইয়ের পর একমাত্র মধ্যপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত করানো হচ্ছে। অথচ বাস্তবে, তার অযোগ্যতা, হীনমন্যতা এবং শাহবাগীতাই একের পর এক নতুন বাইনারি, বিভাজন, দ্বন্দ্ব ও দূরত্ব সৃষ্টি করছে। মধ্যমপন্থা আর 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল' কখন থেকে এক হয়ে গেল? তথাকথিত তৌহিদী জনতা—যাদের সাথে ইসলামপ্রিয়, হাসিনার দ্বারা নির্যাতিত জনগণকেও এক করা হচ্ছে এবং বিশৃঙ্খলাকারী বলে এক ব্র্যাকেটে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। অথচ প্রকৃত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরা ছিল হাসিনারই উচ্ছিষ্টভোগী। অপরদিকে, বারবার অশান্তি সৃষ্টি করা, নিরাপত্তা লঙ্ঘনকারী এবং উন্মুক্ত সন্ত্রাসের ডাক দেওয়া শক্তিকে ‘কমরেডস’ বলে বুকে টেনে নেওয়া হচ্ছে। এটাই তাহলে নতুন বন্দোবস্তের 'মধ্যপন্থা'!

মুজিব সিনড্রোম ভয়ংকর! এখান থেকে বের হতে না পারলে গন্তব্য মাত্র দুটো—হয় ‘৭৫, নইলে ‘২৪। শহীদানের মায়েদের অশ্রু যাদের কাছে কেবল মসনদ পাকাপোক্ত করার হাতিয়ার, গাযীদের করুণ চাহনি যাদের কাছে কেবল ফটোগ্রাফির ‘গুড মোমেন্টস’—তাদের হাশর আবু লাহাবের সাথেই হোক!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ