মিল্লাতে ছাত্রদলের জোরপূর্বক ঘটনাকে অন্যদিকে ঘুরানোর অপচেষ্টা মূলত নতুন ধারার (!) ছাত্ররাজনীতির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকল।
নতুন ধারা হতে পারত নতুন জেন্টলম্যানস অ্যাগ্রিমেন্টের মাধ্যমে। বাংলাদেশকে নতুন আঙ্গিকে গড়ার লক্ষ্যে, ক্যাম্পাসগুলোতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ছাত্রসংগঠনগুলো পারত ইন্টারনাল খোঁচাখুঁচি বাদ দিয়ে জাতীয় ইস্যুগুলোকে সামনে রেখে কাজ করে যেতে।
কর্মী, সমর্থকদের মাঝে নানান কনফ্লিক্ট হতেই পারে। তারা আবেগী, পরিস্থিতি বুঝে না, আগ বাড়ায়ে বিপদ আনে। সমাধান ছিল নেতা পর্যায়ের মধ্যে সমঝোতা।
ওয়েল, কুয়েটের ঘটনা যদিও শুরু না তবে এইখান থেকেই হতে পারত নতুনের সূচনা যদি ছাত্রদল সুস্পষ্ট প্রমাণসমেত অপরাধের পক্ষে অবস্থান না নিত। সেক্ষেত্রে এমসি কলেজের ঘটনায় শিবিরের নেতাদের ভূমিকা প্রশংসনীয় তবুও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। তারা সময়ক্ষেপণ করে অস্পষ্টতাকে উপজীব্য করে নানা ধারণাকে বিস্তৃত হতে সুযোগ দিয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী এবং ছাত্রদলের সিলেটের ঘটনাকে যথাযথ প্রমাণের অপেক্ষা না করেই রগকাটার সাথে সম্পর্কিত করে অযাচিতভাবে প্রচার, প্রসার এবং মিছিল করায় রাজনৈতিক শিষ্টাচার ক্ষুন্ন হয়েছে। তারা এরজন্য ক্ষমাও চাবে না।
এই নতুন ধারার তথাকথিত রাজনীতি মিল্লাতের ঘটনাতে এসেও সঠিক পথে ফিরতে পারত যদি ছাত্রদল কেন্দ্রীয়ভাবে জিনিসটাকে ধামাচাপা দিতে গিয়ে চরমভাবে ব্যর্থ না হত। শিবিরের কিছু অংশ এইসবকে এক্টিভলি এড্রেস করতে থাকলেও অভারল ফেইল্ড গান্ধীবাদী এপ্রোচ তাদেরকে এই ন্যারেটিভ এবং পাওয়ার পলিটিক্সের আখড়ায় যথেষ্ট দূর্বল দেখাচ্ছে। কর্মীদের রক্ষা করতে না পারা, নিরাপত্তা দিতে না পারা এবং নিজেদের স্ট্যান্সকে দৃঢ় করতে না পারা তাদেরকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে।
তো, বলা যায় যে লুপ শুরু হয়ে গেছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিণতি চরমমাত্রায় দূর্দশাগ্রস্থ। এই অবস্থায় এরকম ঘটনা বাড়া বৈকি কমার সম্ভাবনা নাই বললেই চলে। প্রশাসনের তথৈবচ অবস্থায় জিনিসগুলো একমাত্র কেন্দ্রীয় লীডারশিপই পারত সামলাতে। কারা সেটা পারছে না কিংবা চেষ্টাও করছে না সেটাও স্পষ্ট।
এখনই সময় তথাকথিত নতুন ধারার রাজনীতি নিয়ে নতুন (!) করে ভাবার। বর্তমান ফরম্যাটকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করে হলেও স্থিতিশীলতা আনা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেটাও হবে না, অস্থিতিশীলতা বাড়বে আরোও।
একচুয়ালি, সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক এই দোয়া করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নাই।
0 মন্তব্যসমূহ