লেখা তরজমা

বিজ্ঞানে মুসলিমদের অবদান

উপস্থাপনা :

আমাদের চলার পথে বিজ্ঞান ছাড়া একটি মূহুর্তও আমরা কল্পনা করতে পারিনা। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে বিজ্ঞান তার স্বমহিমায় নিজের উপস্থিতি জানান দেয়। ঘুম থেকে উঠা দিয়ে শুরু এবং ঘুমাতে যাবার আগপর্যন্ত সব-খানেই বিজ্ঞান তার নিজস্ব কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছে। বিজ্ঞান আমাদের জীবনে অপরিহার্য তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিজ্ঞানের অপরিহার্যতা কিছু মানুষের হাত ধরে পৃথিবীর আলো দেখেছিলো যাদের আমরা বিজ্ঞানী বলেই চিনি। এবং এই উজ্জ্বল মানুষদের মাঝে সবচেয়ে উজ্জ্বল যারা অর্থাৎ মহাশূন্যের বিশালতায় যারা তারার মতো দীপ্তিময়, যারা বিজ্ঞানের জগতে নিজের পরিশ্রম এবং প্রতিভা দিয়ে এভাবে তারার মতো উজ্জলতা ছড়িয়েছিলেন তারা ছিলেন কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী। সময়ের পরিক্রমায় আমরা তাদের নাম ভুলতে বসলেও ইতিহাসে তাদের নাম বারবার ফিরে আসবে। তাদের অবদান, তাদের ত্যাগ, পরিশ্রম ইতিহাসের পাতায় এখনো স্বর্ণখচিত অক্ষরে জ্বলজ্বল করছে। সেই তাদেরকে নিয়ে, তাদের আবিষ্কার, অবদান নিয়েই আজকের এই পদক্ষেপ। 

বিজ্ঞানে মুসলিমদের অবদান:

বিজ্ঞানে মুসলিমরা কিরকম অবদান রেখেছে তা যদি বলতে হয় তবে বিজ্ঞানের শুরু থেকেই শুরু করতে হবে। বিশ্বের সকল মানবের শান্তির পয়গাম পবিত্র আল-কোরআনই হচ্ছে বিজ্ঞনের পরম বার্তা। এবং এটি একটি বিজ্ঞানময় গ্রন্থ, এই ব্যাপারে গবেষকরাও ঐক্যমত্ প্রকাশ করেছেন যে আল-কোরআন গবেষণা করার মাধ্যমে অনেক নতুন তথ্য পাওয়া গিয়েছে যা তাদের আশ্চর্য হতে বাধ্য করেছিলো। আর মুসলিমরাই হচ্ছে সেই কুরআনের ধারক ও বাহক। 

ইতিহাসে বলা আছে বিজ্ঞানের যাত্রা শুরু হয়েছিলো গ্রীক এবং ভারতীয়দের হাত ধরে। তারা ছিলো শূণ্যের উদ্ভাবক, রসায়ন ,পদার্থের বিভিন্ন সূত্রও নাকি তাদের হাত থেকে বের হয়েছে। পৃথিবীর আন্থিক গতি, বার্ষিক গতি, মহাকর্ষ, অভিকর্ষ সবই তাদের মস্তিষ্কপ্রসূত বলেই ইতিহাসে লিখা। কিন্তু বাস্তবতা আমাদের ভিন্ন কিছু ঈশারা করে। দেখিয়ে দেয় অন্য একটি পথ। যে পথ আমাদের নিয়ে যায় সেইসব মুসলিম বিজ্ঞানীদের গবেষণাগারে যাদের মস্তিষ্কজাত উদ্ভাবন গুলো, গবেষণাগুলো কিছু বিকৃত নামের আড়ালে বন্দী। যেখানে ইবনে সিনাকে বলা হয় আভিসিনা এবং জাবির ইবনে হাইয়ান হয়ে যান আল-গাবের। ইতিহাসের পাতায় নাম বিকৃতি মুসলিম বিজ্ঞানীদের আড়াল করে রেখেছে। 

মুসলিম বিজ্ঞানী বা গবেষকবৃন্দ মূলত কি ধরণের অবদান রেখেছেন বিজ্ঞানে তা বুঝতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ৮৫৯ সালে মরক্কোতে, যেখান্র প্রতিষ্টিত হয়েছিলো বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়।  রাজকুমারী ফাতেমা আল ফিহরী নিজ উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত করেন জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার জন্য। একটি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে বিজ্ঞান চর্চার উর্বর কেন্দ্র। আর সেই সময় ছিলো মুসলিমদের স্বর্ণযুগ। শুধু মরক্কোতেই নয়, এভাবেই বাগদাদ, স্পেন, মিশরে প্রতিষ্টিত হয়েছিলো তৎকালীন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠগুলো এবং সেগুলো ছিলো মুসলিমদের প্রত্যক্ষ উদ্যোগে,পরিচালনায়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই শিক্ষার্থীরা বিদ্যাপীঠগুলোতে আসতো সর্বোচ্চ লেখাপড়ার জন্য, নিজেদের জ্ঞানকে শাণিত করার উদ্দেশ্যে। মরক্কোর ফেজ শহরে প্রতিষ্ঠিত সেই “ কারুইন বা কারউইন বিশ্ববিদ্যালয় ” এখনো স্বমহিমায় বিদ্যমান।

মুসলিমদের এই জ্ঞানচর্চা প্রভাব ফেলেছিলো পুরো বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থার উপর।  ১৮ শতকের শেষ পর্যন্তও ফ্রান্স, পর্তুগালের মতো দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ মুসলিম বিজ্ঞানী,গবেষকদের মতো কাপড় পরিধান করতো যাতে তাদের জ্ঞান অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ ভালো এবং সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মুসলিমদের তারা আদর্শ মানতো। অথচ আজ আমরা তাদেরই অনুসরণ করছি।

বিজ্ঞানের গবেষণার জন্য প্রয়োজন
গবেষণাগারের। বিশ্বের প্রথম গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জাবির ইবনে হাইয়ান। প্রথম আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণাগার তার হাত ধরেই আলোর মুখ দেখেছিলো। তৎকালীন বিবেচনায় অত্যাধুনিক সেই গবেষণাগারে ছিলো সবকিছুই বিজ্ঞান গবেষণার জন্য। সেই গবেষণাগার থেকেই লেখা হয়েছিলো রসায়নের একেকটি তত্ত্ব, বীজগণিতের সূত্রগুলো, ত্রিকোণমিতির অ আ ক খ। মুসলিম জ্ঞানসাধকগণ একটি বিষয়ে পারদর্শী হতেন না কখনো, জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি কোণায় তারা তাদের মাথা খাটাতেন। তাই ইতিহাসে আমরা মুসলিম জ্ঞানসাধকদের বিভিন্ন চরিত্রে দেখতে পাই। তারা দার্শনিক, তারা বিজ্ঞানী, তারা পরিব্রাজক, তারা সাহিত্যিক, তারা কবি। এমনিভাবে জ্ঞানের প্রতিটি চত্ত্বরে তারা তাদের ছাপ ফেলেছেন।

রসায়ন,  পদার্থের মতো মৌলিক বিজ্ঞান বিষয়গুলো মুসলিমদের হাত ধরেই পরিপূর্ণতা পেয়েছিলো। রসায়নে জাবির ইবনে হাইয়ান, চিকিৎসাবিদ্যায় ইবনে সিনা কিংবা আল বিউকাসিস, পদার্থে আল খুজান্দী, ইবনে আল হাইথাম, আল হাজেন, ভূগোলে ইবনে বতুতা, আল খাওয়ারিজমী, গণিতে জাবির ইবনে হাইয়ান, আল খাওয়ারিজমী এরকম ভাবে আরো অনেক নাম উল্লেখ করা যাবে। মুসলিমরা ছিলো পৃথিবীর শিক্ষক। যাদের আলোতে উদ্ভাসিত হয়েছিলো ইউরোপ সহ পুরো পৃথিবী। আজ আমরা আমাদের জ্ঞানগুলো হারিয়ে ফিরছি বারবার।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে মুসলিমদের অবদান একটু বেশিই বলা যায়। ইউরোপে যখন অন্ধকার যুগ চলছিলো ঠিক সেই সময়েই স্পেনের আন্দালুসিয়ায় জন্মগ্রহণকারী আবু আল কাসিম চিকিৎসাশাস্ত্রে বিপ্লব সাধন করেন। তিনি আল বিউকাসিস নামে পরিচিত। সার্জারি বা শল্যচিকিৎসা বিষয়ে তিনি প্রায় ৩০ টি বই রচনা করেছিলেন। তিনি মূত্রনালি এবং খাদ্যনালীর অস্ত্রোপচারের পদ্ধতি উদ্ভাবন এবং গর্ভাবস্থার ব্যাপারে ধারণা দেন। তাকে আধুনিক সার্জারির পথিকৃৎ বলা হয়।

জ্যোতির্বিজ্ঞানে আল খুজান্দীর অবদান অবিস্বরণীয়। একাদশ শতাব্দীতে তিনি “সেক্সট্যান্ট“ নামক একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন যেটি দিয়ে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করা যেতো। ইউরোপীয়রা তখনো গীর্জার দেয়ালেই বন্দী ছিলো যখন মুসলিমরা মহাকাশ দেখার জন্য তাদের ছাদ উম্মুক্ত করে দিয়েছিলো। বিজ্ঞানী আল-বাত্তানী এবং আল-ফরাজী দুজনে মিলে গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতেন এবং এদের উন্নতি নির্ণয় করার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। ইবনে ইউনুস নামক আরেকজন মুসলিম বিজ্ঞানী, যিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানের সমস্ত গবেষণাপত্র একত্রিত করে “ হাকেমাইট অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টেবিল ” নামক একটি সারণী প্রণয়ন করেন যা জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণায় নতুন যুগের সূচনা করেছিলো। বিজ্ঞানের ইতিহাসে এসব নাম আজ বিলুপ্ত হবার পথেই।

আলোকবিজ্ঞানে ইবনে আল হাইথাম এবং আল-হাজেন তাদের পূর্ববর্তী সকল গবেষণাকে ভূল প্রমাণিত করে সঠিক পথ দেখিয়েছিলেন। বিজ্ঞানী আল-মাসুদী সর্বপ্রথম বায়ুকলের ধারণা দেন। বিজ্ঞানে মুসলিমদের অবদান হেলায় ফেলবার মতো নয়ই বরং সামনের কাতারে থাকবে।

ভূগোল, মুসলিমদের অবদান কম বললে ইতিহাস মিথ্যা হয়ে যাবে। আল-খাওয়ারিজমী সর্বপ্রথম পৃথিবীর মানচিত্র অঙ্কন করেছিলেন। সেই সাথে তিনি একজন বিখ্যাত গণিতবিদও ছিলেন। তিনি পৃথিবীকে সর্বপ্রথম সাত মহাদেশে ভাগ করেন এবং মহাসাগরগুলোও চিহ্নিত করেন। তিনি ত্রিকোণমিতির সাহায্য নিয়ে পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব নির্ণয় করেছিলেন এবং পৃথিবীর ব্যাসার্ধ এর প্রায় সঠিক মান নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বীজগাণিতিক ব্যাপারেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি এর প্রভূত উন্নতি সাধন করেছিলেন। তিনি একাধারে দার্শনিক, বিজ্ঞানী সহ জ্ঞানের প্রতিটি বিষয়েই দক্ষ ছিলেন। আল-খাওয়ারিজমী তাই ইতিহাসে একটি স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়।

জাবির ইবনে হাইয়ান, আরেকজন মুসলিম জিনিয়াস। বিশ্বের প্রথম বিজ্ঞান গবেষণাগার তিনিই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আল কেমি তথা রসায়ন শাস্ত্রে তার অবদান সবচেয়ে বেশি। তিনি কেমিক্যাল তৈরি করতে পেরেছিলেন এবং চিকিৎসা সহ বিভিন্ন প্রয়োজনে তিনি সেগুলো ব্যবহার করতেন। প্রচলিত ধারণা আছে যে, তার কাছে এমন পদার্থ ছিলো যা দ্বারা লোহাকে স্বর্ণে রূপান্তর করা যেতো। 

রসায়ন শাস্ত্রে তার অর্জনগুলো অধিক প্রচারিত হলেও গণিতশাস্ত্রে তিনি বীজগণিতের ধারণা প্রবর্তন করেন। তার নামের অংশ জাবির(Jabir) থেকে বীজগণিতের ইংরেজি পরিভাষা Al zebra নেওয়া হয়েছে বলে ইতিহাসে লিখা পাওয়া যায়। জ্ঞানের প্রতিটি শাখায় তিনিও তার পদচিহ্ন রাখতে পেরেছিলেন। ইতিহাসে তিনি রসায়নশাস্ত্রের জনক হিসেবেই পরিচিত।

মুসলিম বিজ্ঞানীদের মাঝে সবচেয়ে বেশি যার নাম পাওয়া যায় অথবা শোনা যায় তিনি হচ্ছেন ইবনে সিনা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের উপর তিনি ৩০০ টিরও অধিক গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তার রচিত গ্রন্থ সমূহ বহু বছর ইউরোপের বিদ্যাপীঠগুলোতে প্রথম সারির পাঠ্যপুস্তক হিসেবে অন্তর্ভূত ছিলো। তার “ আল কানুন ফিত তিব্ব ” নামক গ্রন্থটি  ৩০ টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তিনি একজন প্রথম সারির জ্ঞানসাধক ছিলেন। অন্যান্য মুসলিম সাধকদের মতো তিনিও একাধিক বিষয়ে পারঙ্গমতা অর্জন করেছিলেন। মূলত এটিই ছিলো মুসলিমদের জ্ঞান অর্জনের বৈশিষ্ট্য।

মুসলিমরা সামরিক বিজ্ঞানেও যথেষ্ট অগ্রগামী ছিলো অন্যদের থেকে। রাসূল(সাঃ) এর যুগ থেকেই আমরা তা দেখতে পারি। মুসলিমরা তখনি দূর্গের দেয়াল ভাঙতে মিনজানিক নামক কামান ব্যবহার করতো যার উদ্ভাবক ছিলেন পারস্যের একজন সাহাবী। মুসলিম বাদে অন্যান্যরা তখনো মিনজানিকের ব্যবহার সম্পর্কে জানতো না, এটি ছিলো একেবারেই নতুন প্রযুক্তি। শুধু মিনজানিক নয়, মুসলিমরা আরো নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে থাকতো যুদ্ধ সামনে রেখে। মুসলিমরা এই ব্যাপারে ছিলেন খুবই চিন্তাশীল এবং দক্ষ। 

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিজ্ঞানেও মুসলিমরা অন্যান্য জাতি থেকে ঢের এগিয়ে ছিলো। ইসলামে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। তাই তো পাঁচবার ওযু করা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত বিভিন্ন মাসআলা, ইত্যাদি মুসলিমদের সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে উৎসাহিত করেছে। খাবার আগে পরে হাত ধোয়া, মিসওয়াক করা, টয়লেট শেষে পরিষ্কার হওয়া সহ ইসলাম আমাদের সবসময় বলেছে পরিষ্কার থাকতে। পবিত্র থাকতে বলেছে। 

ইউরোপে যখন নূন্যতম টয়লেট ছিলোনা তখন মুসলিমরা গোসল, পায়খানার জন্য আলাদা আলাদা স্থান ব্যবহার করতো। বর্তমান আধুনিক সভ্যতায় মুসলিমদের অবদান সবার উর্ধ্বেই।
সর্বপ্রথম বিমানের মডেল আবিষ্কার করেন একজন মুসলিম বিজ্ঞানী, নাম ইবনুন নাফিস। তার নোটবুকে মডেলটি পাওয়া যায়। যেটি অনুসরণ করে রাইট ভ্রাতৃদ্বয় পরবর্তীতে তাদের মডেল প্রণয়ন করেন। 

বিজ্ঞানময় কুরআনে বলা হয়েছে অনেক অজানা রহস্যের কথা, যা বিজ্ঞানীরা এই ১৪০০ বছর পরে এসে প্রমাণ করছে বা প্রমাণ পাচ্ছে। কুরআনে মার্তৃভ্রূণের গঠন, সমুদ্র সংক্রান্ত, বিগব্যাং রহস্য সহ আরো অনেক অজানা তথ্য আলোচিত হয়েছে, যেগুলোর প্রমাণ এখন বিজ্ঞানীরা পাচ্ছেন। তারা বাধ্য হয়েছেন এই মহাগ্রন্থটিকে শ্রেষ্ঠ এবং ঐশী গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে।

মুসলিমদের বিজ্ঞানে অবদান মুসলিমদের এক উন্নত মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছিলো কিন্তু আমরাই পিছিয়ে পড়েছি আমাদের স্থান হতে।

উপসংহার:

বিজ্ঞান এবং ধর্ম একে অপরের পরিপূরক, প্রতীদ্বন্দী নয়। বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনষ্টাইন বলেছেন, “ ধর্ম ছাড়া বিজ্ঞান অন্ধ এবং বিজ্ঞান ছাড়া ধর্ম পঙ্গু ”। এই কথা এখানে বলার কারণ হচ্ছে যে, যে মুসলিমরা একসময় জ্ঞান-বিজ্ঞানে পৃথিবীতে নেতৃত্বাসীন ছিলো তারাই এখন কিনা গবেষণা বিমুখ। এই কথা ভাবতেও কষ্ট হও। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের গবেষণালব্ধ জ্ঞান নিয়ে আর গবেষণা করিনি বরং তাচ্ছিল্য করেছি, ভোগ-বিলাসে মত্ত হয়েছি। এভাবেই পিছিয়ে পড়েছি আমরা জ্ঞান-বিজ্ঞানের এই সুন্দর ময়দান থেকে। ধর্মের দোহাই দিয়ে পিছিয়ে থেকেছি বিজ্ঞান গবেষণা থেকে। সেই শাস্তি স্বরূপ আজ আমরা আমাদেরই পূর্বপুরুষদের অর্জিত জ্ঞান আমাদের নিতে হচ্ছে পাশ্চাত্য থেকে। মুসলিমদের জন্য বিষয়টি হতাশাদ্দীপক। মুসলিমদের আবার এগিয়ে যেতে হবে গবেষণার মাধ্যমে। যদি আমরা আমাদের অর্জিত জ্ঞানকে সম্পদে রূপান্তর করতে পারি তবেই আমরা আমাদের হারানো সম্মান ফিরে পাবো এবং আমাদের অর্জনগুলো আবার আমাদেরই নামে প্রতিষ্ঠিত হবে।

জ্ঞান মুসলিমদের হারানো সম্পদ। বিজ্ঞানে আমাদের এতো অবদান আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা,বিশ্বের সামনে তা আবার তুলে ধরতে হবে। আমাদের কথা বিশ্ববাসীকে অবগত হতে হবে,মুসলিমদের অবদান জানতে হবে,জানাতে হবে সবাইকে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ