লেখা তরজমা

বাংলাদেশ কা গাদ্দার, সংস্কার, পুরাতন বাস্তবতা

সংস্কার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটা বইলা গেছেন মোল্লা নাসিরুদ্দিন। তিনি বুঝাইসিলেন, সংস্কার করতে চাইলে জাস্ট করে ফেলতে হবে। সবার কাছ থেকে অনুমতি চাইতে গেলে সেইটা হবে শুধু কাজ আর সময় নষ্ট করা। তাই দেখা যায় সংস্কার, উন্নয়ন সব স্বৈরাচারদের আমলেই হইতেসে। খুবই ভয়ানক কথা তবে এইখানে কিছু নুকতা আছে। 

সর্বপ্রথম, বাংলাদেশ আসলে রাষ্ট্র হয়ে তো উঠতে পারে নাই এতদিন। এইটা ছিলই একটা ট্রাইবের মত, ট্রাইবাল লর্ড, কুইন আদেশ দিত, শির নিত, যা মন চায় করতে পারত। জুলাইয়ের পর সবাই বুঝতে পারতেসে এই বাংলাদেশের রাষ্ট্র হইয়া উঠতে গেলে তাদের হিস্যা থাকা লাগবে। যেহেতু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, তাই জনগণই মূল কথা। 

বড় দল, সংগঠন সংস্কারকে ভূতের মতই দেখে। দেখলে চমকায়, প্রস্তাবনা পড়লে শিউরে উঠে। নিজেদের অভ্যস্ততা ঝাড়তে চায় না। এডপ্ট করতে চায় না।  তাই তাদেরকে গাদ্দার বলেন বা আদর করেন, তারা সেরেফ বুঝতে চাবে না। নিজেদের পথেই থাকবে। 

সংস্কারের শক্তির জায়গাটা কোথায়? তরুণরা, যারা এখনো অভ্যস্ত হয় নাই। তারা ভেঙেচুরে নতুনত্বে বিলীন হইতে চায়। যেহেতু জনগণ নিজেদের হিস্যা বুঝে নিতে শিখতেসে, একইসাথে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টে এখন তরুণদেরই জয়জয়কার, আবার ক্ষমতালোভীরা ছাড়া বাকিরা চাচ্ছে নতুন রূপে সবকিছু সাজাতে, অতএব সরকারকে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে গিয়ে জনতাকে সাথে নিয়ে যতটুকু পারা যায় সংস্কার করে ফেলতে হবে। অন্য পথ নাই। পরবর্তী আউটকামকে জনগণ রক্ষা করবে। 

কথাবার্তা লাগতে পারে স্বৈরাচারী কিন্তুক এইরকম ছাড়া তো আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব না। পুরাতন হালচালকে আলবিদা জানানোর এরচেয়ে উত্তম পন্থা তো নাই। তবে এরকমভাবে আসলে টেকসই হবেও না। পথ এখন একটাই, সংস্কারের পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন আদায় করা এবং দেখানো। 

হিস্যা নেবার আকাঙ্ক্ষা যখন তৈরী হচ্ছেই তখন জনগণের মাধ্যমে এর পুরো ফায়দা নেওয়া উচিত। বাংলাদেশে গাদ্দারী করে অন্তত কেউ রেহাই পায় না। সবাইকেই পালাতে হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ