শুনতে হার্শ শুনাবে কিন্তু আবরার ফাহাদের মৃত্যু আমাদের জন্য ছিল একটা রিলিফ পয়েন্ট। ব্যাখ্যা করি।
ঢাবিতে ভর্তি হবার পর আমাকে প্রথম যে সতর্কবার্তা দেওয়া হইসিল সেটা ছিল তামিরুল মিল্লাতে পড়েছি, রেটিনায় কোচিং করেছি, এইসব পরিচয় বলাই যাবে না। কারণ, মিল্লাত মানেই শিবির। আর শিবিরকে যেকোনোভাবে মেরে ফেলা, হাত-পা ভেঙে দেওয়া, নির্যাতন করা জায়েয। আবরার ফাহাদ জীবন দিয়ে এই জিনিসটাকে ভার্সিটিগুলো থেকে হটাতে পারসিলেন। একইসাথে ১৯ এর ডাকসু ঢাবিতে ছাত্রলীগের তাণ্ডবকে কিছুটা হলেও কমিয়েছিল।
শিবির মানেই একজনকে ঊণ-মানুশ হিসেবে ট্রিট করা হত এই কথাটা তো বাংলাদেশের কারোই অস্বীকার করার কথা না পলিটিকো-আইডিওলজিক্যাল প্রস্টিটিউটদের ছাড়া! নামের পর নাম বলে যাওয়া যাবে, রাবির নোমানী থেকে শুরু করে বুয়েটের সিরাজ। বিশ্বজিৎ, আবরার ফাহাদরাও রেহাই পায় নাই।
নয়াদিগন্ত, সংগ্রামের পেজে লাইক দেওয়ার অপরাধে, টেবিলে ইসলামী বই, কুরআন, তাফসীর রাখার অপরাধে কত মানুশের হাত-পা ভেঙেছে সেইসব কি এরা দুম করেই ভুলে যাবে?
নিজেদের মতাদর্শকেন্দ্রিক ব্যর্থতা ঢাকতে বা রাজনীতি বাঁচায়ে রাখতে ছাত্রদল শাহবাগী-কালচাড়াল-আওয়ামী ন্যারেটিভকে যে আবারো অন্ধের যষ্টির আঁকড়ে ধরছে, আওয়ামী এ-টিমের সাথে ওপেন কোলাব করতেছে এইসব তাদেরকেও বিপদে ফেলবে।
জুলাইকেন্দ্রিক নতুন রাজনীতি বিনির্মাণ তো দূরে, পারলে তারা জুলাইকে অস্বীকারই করে বসে কারণ জুলাই ঘটানোর জিয়নকাঠি ছিল সাদিক-ফরহাদদের হাতেই। নিজেদের স্টেইক ক্লেইম করতে শহীদদের নাম বেঁচতেও দ্বিধা করে না। নিজেদের(!) শহীদদের নিয়ে অনলাইনে কান্নাকাটি করা ছাড়া তারা একচুয়ালি কিছু করেছে কিনা এইটাও প্রশ্ন রাখা যায়।
জামায়াতকে অন্তত এইক্ষেত্রে আমি দেখেছি শহীদ পরিবারকে দুই লক্ষ এবং আহত পরিবারকে এক লক্ষ করে দিতে। টোটাল কত দিয়েছে তারা, এইটা কেনো ভালোভাবে নিউজ হয় নাই, কেন এই আলোচনা হারায়ে গেল, প্রচারণাও পায় নাই, এইসব জামায়াতের রাজনৈতিক ব্যর্থতা।
পরিশেষে, ছাত্রলীগ যারা করেছে, এই নাম ব্যবহার করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, সাঁয় দিয়ে, উসকানিমূলক কাজ করেছে এরা অস্পৃশ্য না। এদের নামও লুকানো তাও না। ভিক্টিমরা স্পষ্ট জবানবন্দী দিচ্ছে, প্ল্যাটফর্ম পেলে আরোও দিবে। ছাত্রদল এইখানে চাইলে কাজ করতে পারে। একচুয়াল ছাত্রলীগারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসাতে। তা না করে আন্দোলনের হিরোদেরকে বেছে বেছে ডিহিউম্যানাইজ করা, চেরি পিকিং করে সুস্পষ্ট ব্যাপারকেও বারবার ঘোলা করা এইসব তাদের রাজনীতিকে আরোও ডুবাবে।
শেষমেশ, ফান্দে পড়িয়া বগাও পস্তাবে!
0 মন্তব্যসমূহ