লেখা তরজমা

রাজনীতির বয়ানঃ নূতন, পুরান, এবং মধ্যম

রাজনীতির ক্ষেত্রে দুইটা জিনিস বাদ দিতে হবে। 

১/ বিরোধীতার জন্য রাজনীতি বা প্রতিহিংসার রাজনীতি

২/ এপোলোজেটিক রাজনীতি 

আওয়ামীর অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশী রাজনীতি একটা কমন এনিমির অভাবে ভুগতেসে। বিএনপি-জামায়াত স্বচ্ছতা মেইনটেইন করতে চাচ্ছে না বরং কোন পয়েন্টে কিভাবে শুধু বিরোধীতা করা যায় সেটাকেই সামনে আনতেসে। এইযে সত্যতা যাচাই ছাড়া, স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করা, জাস্ট ঝাপায়ে পড়ার যেই রাজনীতি এইটা জুলাই স্পিরিট বলতে যা বুঝানো হচ্ছে সেইটাকে উষ্ঠা মেরে ভাগায়ে দিসে মানুশের মন থেকে।

বরগুণার পাথরঘাটার ঘটনা সবচেয়ে বড় এক্সাম্পল। বিএনপির যাচাই-বাছাই না করেই এজাম্পশনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত করে শিবিরের নেতা রাকিবকে কুপানো, পুরোটাই হচ্ছে আওয়ামী সিস্টেমের আত্মপ্রকাশ। 

আবার, আজকে ঢাবি সিনেটে ডাকসু সংক্রান্ত, ডাকসু পেছানো নিয়ে ভিসির সাথে ছাত্রদল বাকবিতণ্ডা চালালো। গতকাল তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বক্তব্যেও নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমালোচনা, কৌশল সংক্রান্ত কথা মিডিয়ায় না এসে আসল শিবিরের নির্বাচন নিয়ে তাদের অসন্তুষ্ট হবার কথা! 

এইযে পদে পদে শুধু প্রতিহিংসার জন্যই রাজনীতি করা, বিরোধীতার জন্যই কথা বলা এইসব জাস্ট আগের সিস্টেমটারই আন্ডার ডেভেলপড ভার্সন। বিএনপির ত্যাগ-তীতিক্ষাকে কেউই অস্বীকার করছে না, তবে এইসবের বিনিময়ে যদি তারা প্রাক্তন সিস্টেমকেই বহাল চায় তবে পরিণতি এরচেয়েও খারাপ হবে। 

একইসাথে এপোলোজেটিক রাজনীতির ব্যাপারটাও দেখা লাগবে। জুলাই ছিল সব ফ্রন্টেই ডানপন্থীদের বিজয়, ডানপন্থীদের আন্দোলন। এখানে দাঁড়িয়ে জামায়াত যদি ভাবে তাদের রাজনীতির গতিপথ হবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক, তাহলে সেটা মধ্যমপন্থী ইসলামিস্টদের জন্য এক প্রকারের শোক সংবাদ। 

জামায়াতকে দাওয়াতের ময়দানে আরোও বেশী ইসলামিস্ট হয়ে যাইতে হবে। নইলে তাদের ফেলে আসা ফাকা জায়গাটাকে ব্যবহার করবে হিজবুত তাহরিরের মত সংগঠনগুলো, এবং করছেও। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে যারা কিছুটা সচেতন তারা এইটা ভালোভাবেই ধরতে পারবে। প্রত্যন্ত সামাজিক ব্যবস্থায় এইটা আগামীতে আরোও ভয়াবহ রূপে সামনে আসবে। 

এখন ভোটের রাজনীতিতেও জামায়াতের ইসলামিস্ট দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপক গুরুত্ব ছিল। এখন জামায়াতের কেউ কেউ যদি বলে আমরা ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না, আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং ইসলামের জন্য করি, আরেকদল ভোটের জন্য যদি বলে আমরা লিবারেল ডেমোক্রেটিক ফর্মে যাচ্ছি, তাইলে একচুয়ালি দিনশেষে দুইটাই ধরা খাবে। জনগণ কনফিউজড হবে, ভোটব্যাংক দ্বিধাবিভক্ত থাকবে। 

জুলাইতে শিবির যেহেতু পলিসি মেকিংয়ে লীড পজিশনে ছিল, সেখানে শিবিরের এই কোরকে কেন্দ্র করে সুযোগ ছিল নতুন ধারার রাজনীতি চর্চার। এদের হাত ধরে উঠে আসতে পারত নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা। এইখানে মূলধারার রাজনীতিতে কোনো ধরণের ব্যাকল্যাশ ছাড়া জামায়াতের মনোনিবেশ করার সুযোগ ছিল। সেটা ফিকে হয়ে গেছে। 

পরিশেষে আসলে এইসব কথাবার্তা খুবই পুরাতন, চর্বিত চর্বন, গরুর জাবর কাটা। এটাই বলা যায় যে ভাবনার চেয়েও দ্রুততর সময়ে আমরা আবারো পুরনো ধারায় চলে এসেছি। সহস্রদুয়েক শহীদ, কুড়িহাজারেরও অধিক আহত ভাই-বোনদের কাছে আমাদের জবাব কী? তাদের শূণ্য, নির্লিপ্ত চাহনী থেকে আমরা কিভাবে মুখ ফেরাব?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ