লেখা তরজমা

নয়া বন্দোবস্তের বিবিধ আলাপ

জানাক (নাগরিক কমিটি) ভেঙে কয়েকটা দল হবে এইটা তো এক্সপেক্টেডই। আমার তীব্র ইচ্ছা ছিল দ্বিতীয় ধাপে যারা এখানে যোগ দিল তাদের কাউকে কাউকে শুরুতেই ভিন্ন নামে রাজনীতিতে দেখার। তাদের দ্বারা নতুন ধারার রাজনীতির সূচনা হতে পারত। 

নতুন বন্দোবস্ত (!), চব্বিশের চেতনা বলতে যা বুঝানো হচ্ছে তার ভালোরকম ডেফিনেশন আসলে নাই। আন্দোলনের সাথে মিল রেখে চব্বিশের মূলভাষ্যকে বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ হিসেবে চিত্রিত করা যায়। কিন্তু এই নতুন বন্দোবস্তের জায়গাটা এখনো ক্লিয়ার না। 

জুলাই পরবর্তী পাচটা দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম দৃশ্যমান। বিএনপি, জামায়াত, এবি পার্টি, জানাক, আর খোমেনী এহসানের বিপ্লবী পরিষদ। বিএনপির ৩১ দফা, জামায়াতেরও রাষ্ট্রসংস্কার প্রস্তাবনা দৃশ্যমান, এবিপি নিজেদেরকে ভালোমতই গুছাচ্ছে, বিপ্লবী পরিষদ নিজেদেরকে একটা দৃঢ় প্রেক্ষাপটের (মুসলিম জাতীয়তাবাদ) সামনে দাঁড় করায়ে ভিত্তি মজবুতের চেষ্টা চালাচ্ছে। 

ঠিক এই জায়গাটায় জানাকের কার্যক্রম অস্পষ্ট। একেতো জেলায়-উপজেলায় তাদের কমিটিকেন্দ্রিক কার্যক্রম দৃশ্যমান, কিছু এলাকায় কমিটি গঠনের জন্য নির্বাচনকেন্দ্রিক কাজের কথাও বলা হচ্ছে, আবার তাদের কেন্দ্রীয় অবস্থান থেকে জানানো হচ্ছে জানাক ভেঙে কয়েকটা দল হবে! এই জায়গাটায় অস্পষ্টতা খুবই খারাপভাবে দেখা দিতে পারে কারণ জুলাইয়ের পরিচিত মুখগুলো, তরুণ প্রজন্মের সচেতন অংশ এই দলেই জড়ো হয়েছে। তাদের কাছে প্রত্যাশা অনেক বেশী, সেটা তারা পূরণ করতে পারবে আসছে সময়ে সেটাও মানুষ বিশ্বাস করে। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে এইরকম দোদুল্যমানতা মানুষকে সিদ্ধান্ত নেবার বেলায় বিভ্রান্তিতে ফেলতেও পারে।

ইতিহাস বেঁচে থাকে রাজনৈতিক ক্ষমতাধারীদের কলমে। জুলাইয়ের বেঁচে থাকা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন, এইটার উত্তরও এই তরুণদের হাত ধরেই লেখা হবে। তাই সর্বোপরি এই জায়গাটায় অংশীজনদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী এবং আচরণের সাবলীলতা, স্বচ্ছতা, এবং দৃঢ়তা জরুরী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ