জুলাই পরবর্তী অন্যতম প্রধান কাজটাই ছিল ব্যাপক ইন্টারন্যাশনাল কাভারেজ নিয়ে আসা। আওয়ামী যুলুম, ন্যারেটিভ, প্রোপাগান্ডা, স্টেট-স্পন্সরড ভায়োলেন্সকে সামনে এনে চিত্রিত করে ব্যাপক হারে প্রচার-প্রসার চালানো, জনমত তৈরী করা। এই কথাটা একযোগে বাংলাদেশী সব অনলাইন এক্টিভিস্টই বলেছিল।
আজকে, ডিসেম্বরের দুই তারিখে দুইটা সাংঘাতিক ঘটনা কিন্তু ঘটে গেল। পার্শ্ববর্তী গুণ্ডা রাষ্ট্র এক প্রকারের স্টেট স্পন্সরড প্রোপাগাণ্ডা, কম্যুনাল ভায়োলেন্স ছড়ানোর চেষ্টা করেই যাচ্ছে, এইসবকে খণ্ডন করে, প্রমাণ সহ দেখায়ে ইন্টারন্যাশনাল কাভারেজ আনা অত্যন্ত জরুরী ছিল।
আজকের সীমান্তে হামলা, আগরতলার হামলা নিয়েও প্রমিনেন্ট পত্রিকাগুলো নিউজ করে নাই। সমস্যা এখানে যে তারা সোর্স হিসেবে সবসময়ই নিয়েছে ডেইলী স্টার-প্রথম আলোর লেখাকে, ওরা মেবি ঘটনা ঘটার কয়েক ঘন্টা খুবই নিম্নরুচি এবং দালালীর ভাষায় নিউজ করেছে।
দেশীয় অন্যান্য মিডিয়াগুলোও নিশ্চুপ, প্রোপাগাণ্ডা, মিসইনফো নিয়ে তারাও ডেডিকেটেড কাজ করে নাই, কিছু ফ্যাক্টচেকার অর্গানাইজেশন ছাড়া। আজকে আবার আমাদের কনস্যুলেটে হামলার ঘটনার চাইতে ওদের দুঃখপ্রকাশের ব্যাপারটাই বেশী হাইলাইটেড হয়ে গেছে নানা ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ায়।
এক্টিভিস্টরা বারবারই বলে আসছেন যে টাকা খরচ করে হলেও বিদেশী কতক সাংবাদিকদের দেশে এনে রাখা দরকার। ওরা ফার্স্টহ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স থেকে নিউজ করতে পারত, সেসব নিম্নশ্রেণীর এইসব প্রোপাগাণ্ডা, কাজকারবারকে কিছুটা হলেও কমাতে পারত। সরকারের এই বিষয়গুলো পাত্তা দেওয়া উচিত।
একটা আল জাযিরা, টি আর টি স্পন্সর করার মত টাকা নাই এরকমটা প্রশ্নই আসে না। লোকবলও হবে না সেটাও না। এতসব ল্যাকিংসের পরেও একমাত্র বাংলাদেশীদের পরম সহনশীলতা, সৌহার্দ্যতা, এবং ভ্রাতৃত্ববোধ এই দেশকে সুস্থ রাখছে।
আধিপত্যবাদী শত্রুর বিপক্ষে একমাত্র বেসামরিক অস্ত্রই হল ঐক্য। শীশা ঢালা প্রাচীর টাইপ ঐক্য। সবকিছুর পরে আমাদের সবাইকে একটা বিষয়েই এক থাকতে হবে যে, যারা আমাদের গোলামীর জিঞ্জিরে আটকাতে আসবে, আমরা তাদের স্বাধীনতার পতাকা এবং সার্বভৌমত্বের আযান দিয়ে রুখে দিব।
শহীদ তিতুমীর, হাজী শরিয়তুল্লাহ, ফকির মজনু শাহ আমাদের পূর্বপুরুষ। এই মাটিতে শত শতবার আমাদের রক্ত ঝরেছে, এই মাটি আমাদের মাতৃভূমি।
মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু!
0 মন্তব্যসমূহ