লেখা তরজমা

আযাদীর সারকথা

আযাদী জিনিসটা কোনো স্থিতিশীলতা না, এইটা একটা কমিটমেন্ট, একটা ওয়াদা, একটা খোয়াবের মত। এইটাকে ধারণ করতে হয়, গোড়াতে নিয়মিত পানি দিতে হয়, পেলেপুষে বড় করতে হয় যাতে মানুশ এইটাকে নিজের মনে করতে পারে। 

কাজী নজরুল ইসলামের একটা প্রবন্ধ আছে, আমার পথ নামে। এক্স্যাক্ট তো খেয়ালে নাই তবে  কয়েকটা লাইন এরকম, "আমার সত্য আমিই, আমার রাহবার আমিই, আমাকে পথ দেখাবে আমার সত্য, নিজেকে চিনলে মানুশ আপন সত্য ছাড়া অন্যকিছুকে কূর্ণিশ করে না, তাকে ভয় দেখায়ে পদানত করা যায় না।" 

অনলাইনে পেলে লিংকটা দিয়ে রাখব প্রবন্ধের। এইটাকে জাতীয় কর্মসূচীর আওতায় এনে সর্বস্তরের মানুশের জন্য, তাদেরকে সত্যের মূল্য, আযাদীর অধিকার নিয়ে বোঝাপড়া তৈরী হবার জন্য পড়ানো এবং বুঝানো উচিত। 

বাংলাদেশে যেটা হয়ে আসতেসে, আমাদের একের পর এক আযাদী ধূলিস্যাৎ হচ্ছে, পথ হারাচ্ছে। কেন? এর উত্তরে আমি ঐতিহাসিক সিলসিলাতেই যাব। আমাদের প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনাতেই আছে একেকটা বড়সড় গাদ্দারীর আখ্যান। এখানে শুধু নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রস্তাবনাই যথেষ্ট না, নতুন মানসিক বন্দোবস্তও লাগবে। রাজনৈতিক প্রস্তাবনা আগে জরুরী কারণ সেটা মানসিকতাকে রিফর্ম করবে। 

দুইটাই দীর্ঘ লড়াই। ভাতের সহজলভ্যতা পাওয়ার জন্য আমরা হরদম নিঃশ্বাসের হককে কুরবানী দিই। ফিলিস্তিন থাকে আমাদের মাফলার আর স্কার্ফেই, উপরে উঠে মগজে ঢুকে না। 

রুম্মানা জান্নাতের তর্জমায় বলি, 

"যে খোয়াব তোমার হক, তার সাথে সমঝোতা কইরো না।"

আমাদের সত্যকে আমরা দেখেছি, আমাদের ওয়াদা এই সত্যকে চিরন্তন করার, আমাদের খোয়াব এই সত্যকে কায়েম করার, আমরা সমঝোতা করব না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ