অধিক জনসংখ্যাঃ যতটুকু সমস্যা ততটুকুই সমাধান
সাজ্জাদুর রহমান
নাজমুদ্দীন আরবাকান যখন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী হলেন তখন সেখানকার সার্বিক রাস্তাঘাট, ট্রান্সপোর্ট, ইত্যাদির অবস্থা যথেষ্ট খারাপই ছিল। রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাইপ্রাসের সাথে যুদ্ধের রেশ, সিস্টেমের অরাজকতা, কেমালিস্টদের তৎপরতা সব পাশ কাটায়ে তিনি দেশের উন্নতির জন্য ইন্ডাস্ট্রির দিকে গুরুত্বারোপ করেছিলেন।
স্মৃতি থেকে বলি, অনেক আগের পড়া। আরবাকানের লেখা দাওয়াম বইটা থেকে। সম্ভবত প্রথমত তিনি রাস্তা সংস্কারের জন্য জার্মানীতে ইঞ্জিনিয়ার খুজেছিলেন, পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে এসে তুরস্কের মানুশদেরকেই যোগ্য করে নিজেরাই কাজ করেছিলেন। একইভাবে মোটর ইন্ডাস্ট্রিতেও পরিবর্তন এনেছিলেন, নিজেরা গাড়ি অ্যাসেম্বল শুরু করেছিল তখন।
চীনা বা ভিয়েতনামিজ একটা প্রবাদ আছে। একজন গরীবকে মাছ দেবার বদলে বর্শি কিনে দাও, মাছ দিলে একবেলার খাবার হবে, বর্শি দিলে সারাজীবনের। সারকথা এইটাই। বিসিএস ক্রেজ বা অন্যান্য সরকারী চাকুরীর প্রতি কাড়াকাড়ি মানসিকতা যেটাই বলেন এর প্রধান কারণ হচ্ছে বাংলাদেশী শিক্ষা সেক্টরে লেখাপড়ার সাথে রেলেভেন্সড চাকুরীক্ষেত্র আর সংশ্লিষ্ট বাস্তবিক সমস্যাভিত্তিক কাজের সংখ্যা নিতান্তই কম।
আমি আমার সাবজেক্ট নিয়ে বলতে পারি। সয়েল, ওয়াটার, এবং এনভায়রনমেন্ট, গুরুত্বপূর্ণ ডিসিপ্লিন। যদি সরকারী চাকুরী ধরি, তাহলে দেখা যাবে এই সেক্টরে সর্বোচ্চ ২০-৩০ জনকে একোমোডেট করতে পারবে, তাও সেখানে কৃষি ডিসিপ্লিনের ছাত্রদের সাথে করতে হবে তুমুল প্রতিযোগীতা। অপরদিকে ঢাবি, কুবি, ববি আর দুই একটা কলেজসহ আমার ডিসিপ্লিনের ছাত্রের সংখ্যা ৩৫০-৪০০ এর মতই হবে। বিষয়-সংক্রান্ত ইন্ডাস্ট্রির অপ্রতুলতাও ছাত্রদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশে বড় ধরণের সমস্যা তৈরী করে।
এতসংখ্যাক ছাত্র, যাদেরকে একোমোডেট করার মত না আছে সরকারী ব্যবস্থা অথবা বেসরকারী উদ্যোগ, এখান থেকেই কতক ছুটে উচ্চশিক্ষার জন্য। এরচেয়েও বড় কথা, পরিকল্পনাও নেই এদের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করার। আলাপ আলোচনা উদ্যোগ কি আমরা দেখাই নাই? দেখানো হচ্ছে, আলাপের কথা হচ্ছে, কে শুনে কার কথা, বিড়ালের গলায় ঘণ্টি বাধানো তো ঝামেলারই!
এতসব নানা কারণেই বিসিএসের ক্রেজ কমবে না। সিকিউরড লাইফ, সামাজিক সম্মান, আত্মীয়স্বজন-বাবামার কটুকথা থেকে বেচে স্বাচ্ছন্দ্য জীবনযাপনের সুযোগ, এরই সাথে অনেকের ছিল টুপাইস কামানোর সুযোগও।
দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য তাই দরকার ইন্ডাস্ট্রি বেজড ডিসিপ্লিন নিয়ে আগানোর আলাপ। একইসাথে কৃষিকেও ফার্স্ট প্রায়োরিটি রেখে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়নের। কৃষি আমাদের লাইফলাইন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনভলভমেন্ট এখানে হতে পারবে আমাদের আসল উন্নয়নের স্পাইন।
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের একটা ভালো পর্যায়ে আমরা অবস্থান করছি। সোজাকথায়, আমাদের কর্মক্ষম জনশক্তির পরিমাণ রিটায়ার্ড জনশক্তি থেকে অনেক বেশী। এদেরকে নানা উপায়ে কাজের সুযোগ দিতে হবে। এর আগে দরকার তাদেরকে স্কিল্ড হিসেবে গড়া। এখানে ভাষা শিক্ষারও গুরুত্ব রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যেই বলা যায়, ভাষাগত অযোগ্যতার দরুণ আমাদের প্রবাসী ভাইদের অধিকাংশরাই শ্রমিক হিসেবেই কাজ করেন। একটু সূক্ষ্ম, সহজ এবং সরল পরিকল্পনার মাধ্যমেই বিষয়গুলোকে সামনে এনে সমাধান করা যায়।
এইতো, এইটুকুই আজকে।
0 মন্তব্যসমূহ