লেখা তরজমা

লড়াইয়ের সিলসিলা

লড়াইয়ের সিলসিলা

সাজ্জাদুর রহমান  


অবরুদ্ধ উপত্যকার গল্প আমাকে শুনিয়েছিলে সেদিন,

মুক্ত আকাশে ঈগলের জায়গায় তোমাকে এফ-১৬ দেখতে হয়,

যয়তুনের সবুজ ভেদ করে তোমার দৃষ্টি ফেরে রক্তলালে,

জীবন্ত মাটির ভেতর থেকে তোমরা ইনকিলাবের গর্জন দাও,

ইন্তিফাদা, ইন্তিফাদা চিৎকারে প্রকম্পিত করো আকাশ!

আমাকে কিছু উম্মাদের গল্প শুনিয়েছিলে! 


আবাবিলের অপেক্ষায় আমাদের বড্ড দেরী হয়ে যায়। 

হাসফাস করা এই সময়ে আমরা খিজিরকে খুজেই চলেছি! 

আবে হায়াত না পাওয়ার আফসোসে আমরা হতাশ হই,

গৃহবন্দী হয়ে নিজেদের আসহাবে কাহাফ ভেবে বসি! 

অথচ, খোদাতো আমাদের ঈগল দিয়েছিলেন। 

যারা লড়ছিল, উদ্দাম বুকে গাইছিল আযাদীর গান,

যারা রবের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে দিয়ে গেল প্রাণ!

তুমি আমাকে তাদের গল্পও বলেছিলে। 


আমাকে তুমি পরম্পরার গল্পও লিখেছিলে।

আহমাদ ইয়াছিন হয়ে আজিজ আল রানতিসি,

ইসমাইল হানিয়া থেকে ইয়াহিয়া সিনওয়ার, 

খুনের ধারা টাইগ্রীস-ইউফ্রেটিস ঘুরে জর্দান নদীকে রক্তাক্ত করেছে তো কবেই! 

পথ হয়েছে দীর্ঘ, সত্তর বছরেও আমরা পৌঁছুতে পারিনি,

নিতে পারিনি মাটির ঘ্রাণ যেখানে খোদার আবাবিলরা ঘুমায়!

যেখানে ঈগলরা খাবারের বদলে আযাদী ছিনিয়ে আনে, 

যেখানে মায়ের বুক থেকে সিংহরা দুধপান করে, 

সেখানের গল্প আমি কিভাবে ভুলি!


আমরা ভুলিনি, অলসতাও কাটাইনি,

জড়তার পারদ জমতে জমতে মাউন্ট গেরিজিম পার করেছে কবেই!

গাজার সোনালী বালু আর কুরকারে শুধুই লেখা শহীদানের নাম।

পরওয়ারদিগার, ফরিয়াদ তো একটাই,

আমাদেরকে উম্মীদ দিয়েছো বিজয়ের,

শেষতক আমাদের লড়াইকেও জিন্দা রেখো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ