লেখা তরজমা

বাংলাদেশী বাঙালী, সেক্যুলারাইজেশন অব ইসলাম, মতাদর্শ, এবং কালচার নিয়ে কয়েকটা আলাপ

বাসে ক্যাম্পাসে যেতে যেতে আজকে (২৫/৯/২৪) কাউসার ভাইয়ের সাথে নানা বিষয়ে আলাপ হল। বাংলাদেশের বর্তমান পলিটিকো-সোশ্যাল বাস্তবতা, এখানে ইসলাম-সেক্যুলারিজম দ্বন্দ্ব, বাঙালী ভার্সেস বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, সেক্যুলারাইজড ইসলাম এইসবই ছিল মূল টপিক। কিছু উমদা কথাবার্তা হওয়াতে ভাবলাম শেয়ার করি।

আলোচনার পরিধি ছিল আসলে বিশাল। প্রায় দুইঘন্টার পকপকানী! মূলত আমাদের আলোচনা, প্রশ্ন, পালটা প্রশ্নে দুইটা বিষয়কে সমাপনী হিসেবে আনা যায়। 

১/ দুনিয়াজুড়ে মতাদর্শিক দ্বন্দ্বগুলো আসলে কি?

২/ মিম্বার থেকে রাসূল (সাঃ) মূলত কি বিষয়ে কথা বলতেন।

৩/ বাংলাদেশী আর বাঙালী জাতীয়তাবাদের মৌলিক পার্থক্যটা কই আর একইসাথে এখানে মুসলিম জাতীয়তাবাদ কিভাবে রিলেটেড।

৪/ একটা জাতির ফান্ডামেন্টাল কালচারাল এলিমেন্টস গুলো আসলে আমরা কিভাবে বুঝব?

ছোট্ট করে জাস্ট জিস্টটুকু শেয়ার করি। বলসিলাম দুইটা বলব, ভূমিকাই হয়ে গেল বিশাল।

মতাদর্শিক দ্বন্দ্বগুলোকে একটা লাইনে এনে একটা ফান্ডামেন্টালে ভাবার জন্য আনা গেল। সেইটা হচ্ছে ইসলাম এবং জাহেলিয়্যাত, ঈমান এবং কুফরের দ্বন্দ্ব। এইখান থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরি করে নানা দ্বন্দ্বকে, যেমন, ইসলাম ভার্সেস সেক্যুলারিজম, ইসলাম ভার্সেস লিবারেলিজম, ইত্যাদি ইত্যাদিকে স্পেসে আনা যাবেই। 

এইযে আমরা এখন ওয়াজ শুনি, শুক্রবারে খুতবা শুনি, এইসবে ইমাম, খতিবরা কি নিয়ে আলোচনা করে? ফযীলত, মর্যাদা, নবীজীর মানবীয় দিক, নামাজ, রোযা, ইত্যাদি ইত্যাদি। এখন হাদীস ঘেটে দেখেন, নবীজী অধিকাংশ সময় মিম্বারে মূলত কি নিয়ে আলোচনা করতেন? আমাদের আলোচনায় সীরাতের পলিটিক্যাল দিক কই, রাষ্ট্র পরিচালনা সংক্রান্ত আলাপ কই! এইটার সাথে সেক্যুলারাইজেশন অব ইসলামকে পড়া যায়। 

৭১ এর পর পর মুসলিমদের মাস্ট বাঙালী হয়ে উঠতে হইলই, নইলে তাদের এই বাংলাদেশে কোনো স্টেক থাকতেসিল না! অথচ এর আগে শুধু মুসলিম জাতীয়তাবাদ নিয়েই টিকে ছিলাম আমরা। এইযে এখানে বাঙালী জাতীয়বাদের উত্থান যে এক সমৃদ্ধ ইতিহাসকে উপড়ায়া ফালানো এইটাও সত্য। বাঙালী হবার ডাকে ছিল সবাইকে কৃষ্টি, কালচার, ট্র‍্যাডিশন ছেড়ে একবাক্যে বাঙালী হয়ে যাওয়ার আহবান, আরোপিত কালচার কায়েম করার আহবান। 

অপরদিকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ একটা মিলনের সুর নিয়ে আসছিল যারা বাংলাদেশকে সার্বভৌম মেনে সমৃদ্ধ হতে এবং করতে চায় তাদের জন্য। 

জাতীয়তাবাদ আর কালচারের প্রাসঙ্গিকতা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। আগের আলাপের কন্টিনিউয়েশনেই এইটা আসছিল। কিভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রা বাঙালী আইকন হয়ে উঠল, যেখানে সবার মুখে, হিন্দু সহ অন্যান্য ধর্মেও, কথায়, প্রশংসায়, কাজে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, ইনশাআল্লাহ অহরহ পড়াটা যেইটা যুগ যুগ ধরে আসছে হইয়া উঠল মুসলমানিত্বের আইকন, কালচার হইতে পারল না। 

এই আরকি, এইসব হচ্ছে জিস্ট। আমরা ভাবতেসিলাম সামনে থেকে পডকাস্ট করব। প্রশ্নের বানে আলোচনা জমে উঠে তো ভালোই। নিজেদের প্যাচালকে জনসম্মুখে তুলে আনলাম।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ