সমস্যা এইটা না যে নিরপেক্ষ এবং যথাযথ ন্যারেটিভকে প্রচার করা যাচ্ছে না, সমস্যা হচ্ছে রাজনৈতিক নেতা থেকে জনগণ কেউই আসলে নিজেদেরকে এই বোঝাপড়ায় আনতে চাচ্ছে না যে যথাযথ ঘটনা, সাক্ষ্য তাদের সম্পূর্ণ মানসপটকেই বদলায়ে দিবে।
তারা এতদিনের চর্চিত, পঁচে যাওয়া নিকৃষ্ট ফ্যাসিবাদী বয়ানকে ওয়াইনের মত রাখতে চাচ্ছে, যত পুরনো হবে তত ভালো, অন্তত প্রতিপক্ষকে দমন করতে এরচেয়ে ভালো হাতিয়ার কই!
একেতো সফল স্ট্র্যাটেজি, অলরেডি প্রমাণিত, দ্বিতীয়ত, নতুন করে রাজনৈতিক আদর্শ, ন্যারেটিভ নির্মাণের জন্য প্রয়োজন নির্মোহ গবেষণা ও নিরলস কাজের। এইসবে পপুলারিটি নাই, জনগণের উত্তেজনা আসবে না তো ভোটও নাই। তাই এইসবে সময় দেওয়া, ইনভেস্ট করা উলুবনে মুক্তো ছড়ানো।
ভাইলোক, আওয়ামীদের প্রতিটা বয়ানকে প্রশ্ন করা কেন থামাচ্ছেন? জুলাইকে চোখের সামনে যদি না দেখতেন তবে আপনারাই পত্রিকায় ছড়ানো সব বয়ানকে নির্দ্বিধায় মেনে নিতেন। পরিস্থিতি সামনে রেখে যাচাই করেন। বাংলাদেশকে কলঙ্ক মুক্ত রাখতে চাইলে সবকিছুর নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ তদন্তের দাবীই তো আসা উচিত। এইটুক বুঝা উচিত।
যদি তা না হয়, তবে কিছু বছরের অপেক্ষা মাত্র। এই আমরা, আপনারাই ২৪ এর দুশমন হিসেবে আদালতে যাবেন, গলার ফাঁসির দড়ি লাগবে। প্রশ্ন করা থামাইয়েন না, আপনার প্রশ্ন আপনাকে বাঁচাবে।
দাবাতে একটা স্ট্র্যাটেজী মেনে আগানো লাগে। বেসিকটা হচ্ছে সেন্ট্রাল কন্ট্রোল করে আগানো, যাতে মিডল বোর্ডে নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়, একইসাথে প্রতিটা পিসেরই নিরাপত্তা ঠিক রাখা। নিজের ফরমেশন ঠিক করে দ্যান আক্রমণে যাওয়া, ওপেনিং থেকে মিডল গেমের দিকে যাওয়া। এইটাই ফাণ্ডামেন্টাল কথা আরকি।
কেন বললাম? আমার মনে পড়ে, আগস্টের শুরুতেও বলতাম যে সামনে অন্তত আরোও মাসখানেকের লড়াই বাকী। সদ্য প্রবাসীরা রেমিট্যান্স বয়কট শুরু করেছিল, জনগণ পড়াশোনা করে আওয়ামী বয়ানকে কাউন্টার দেওয়া শুরু করেছিল, মোটামুটি একটা বেজ তৈরী হচ্ছিল যেটার উপর দাঁড়ায়ে হয়ত আসলেই একটা আমুল পরিবর্তন সম্ভব ছিল।
বরাবরের মতই খুবই দ্রুত আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়াতে মানুশের মন থেকে সবই যেন উবে গেল! রিসেট বাটন যেটা ইউনুসের চাপার কথা ছিল, সেইটা চেপে দিল সুশীলরা। তারা হরেদরে আওয়ামী বয়ানকেই নূতন মোড়কে মাঠেঘাটে ছড়ায়ে দিতে লাগল।
আওয়ামী ফ্যাসিজম, গণহত্যা, গুম, খুন, নির্যাতন এইসব মিডিয়া থেকে কবেই হারায়ে গেছে। না আয়নাঘরের নাম না জানা হাজারো বন্দীরা মুক্তি পেল, না হল এতদিনের ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের ন্যূনতম কোনো বিচার! বরং খোলস বদলায়ে তারাই এখন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বসে পড়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার থেকে আমাদের কাছে রাজনৈতিক বদান্যতা দেখানো বেশী জরুরী এখন।
আগামী ১৫ বছর পরের ইতিহাস বলে দিই আমি। শাহবাগীদের আঁচল ধরে লীগারদের উত্তর প্রজন্ম শীঘ্রই ফেরত আসতেসে। ২৪ এর বিপ্লবীদের উইচ হান্টিংয়ের মত একে একে ফাঁসিতে দিচ্ছে, ইতিহাস লেখা হচ্ছে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করে শিবিরই মূলত সব অপকর্মে থেকেছে, বৈছাআ হবে শিবিরের বি টিম। শেখ মুজিবের সোনার বাংলাকে মেটিকুলাসলি ডিজাইনড প্ল্যান করে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি নষ্ট করেছিল।
0 মন্তব্যসমূহ