আমরা কেমন রাষ্ট চাইতেসি, কেমন শিক্ষাব্যবস্থা চাইতেসি, কেমন সংস্কৃতি চাইতেসি এইসব নিয়া ব্যাপক আলাপ-আলোচনা হইতেসে চারিদিকে। এই ফাঁকে ভাবলাম আমি দুইটা নুকতা দিয়া যাই।
১/ আমি প্রথমত একটা ওয়েলফেয়ার স্টেট সিস্টেম চাই। এইটার সোজা বাংলা হইতেসে জনকল্যাণমুখী রাশট্রব্যবসস্থা। এখন এই সিস্টেম কেম্নে ওয়ার্ক করে সেইটা বলা লাগবে।
সহজ কথায় এই সিস্টেমের মেইন গোল হইতেসে অর্থনৈতিক আর সামাজিক স্তরে জন-নিরাপত্তা আর জন-প্রমৃদ্ধি নিশ্চিত করা। এরকম একটা সামাজিক সিস্টেম দাঁড় করানো যেইখানে সবাই সমান সুযোগ পাবে, এমন অর্থনৈতিক সিস্টেম দাঁড় করানো যেইখানে সম্পদের ইকুয়াল ডিস্ট্রিবিউশন হবে। এখন সেকেন্ড প্রশ্ন আসে যে এই সমান আর ইকুয়াল শব্দ দুইটা দিয়ে আসলে আমরা কি বুঝাইতেসি।
ওয়েলফেয়ার স্টেট রিয়েল লাইফে আপনার কাছে ইউটোপিয়া লাগতেই পারে। যেকোনো রাশট্রব্যবস্থাই লজিক দিয়া ভাবলে ইউটোপিয়া। কারণ রাশট্র সবসময় সিস্টেম্যাটিক ওয়েতে তো চলে না। তো এখানে আমরা সমান আর ইকুয়াল দিয়ে এরকম অবস্থা বুজ্জাচ্ছি যেখানে সবাই সবার ন্যায্য হিস্যাটা পাবে, নিজের প্রাপ্য কড়ায়-গণ্ডায় বুইঝা পাবে। এইটা এরকম না যে চুপ্পু প্রেসিডেন্ট দেইখা আমিও প্রেসিডেন্ট হইবার চাব, নইলে বলব আমার সমানাধিকার এই সমাজে নিশ্চিত না। এইটা এরকম যে একজন কৃষক তার কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবে বাজারে, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এরকম হইবে যে সবাই খেয়ে-পরে বাঁচার মত স্যালারী পাবে না শুধু, দেখা যাবে মাসশেষে তার কিছুটা সেভিংসও হবে। সবকিছুর মূল্য নাগালে থাকবে। অধিকাংশ সেবাই হবে নামমাত্র মূল্যে অথবা ফ্রীতে। মোদ্দাকথা, এখানে সমান বলতে বুঝানো হইতেসে যে, প্রতিটা সেক্টরে যোগ্যতার বেসিসে সবার জন্য সমান (যোগ্যতার সমান) সুযোগ থাকবে। মানুশ তার কাজের সমপরিমাণ তুলনামূলক সম্পদ যতটুকু হবার কথা, ততটুকু সে পাবে।
না, আমি পরাবস্তব কিছু বলতেসি না। এইটা সম্ভব। আমার মতে, যদি পাচার হওয়া হাজার হাজার কোটি টাকাগুলান দেশেই থাকত, তাদের সার্কুলেশনও হত। বিভিন্ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার বানাইতে যদি দূর্নীতির পরিমাণ খুবই কম থাকত, ব্য্য-সংকোচন নীতি মানা হইত তাইলে আরোও অনেক টাকা থাকত দেশে। জাস্ট একটা এজাম্পশন দিই, এইসব হইলে হয়ত দেখতেন যে দেশের ন্যুনতম পে-স্কেল শুরু হইসে ৩০,০০০ দিয়ে। এখনকার মত ৮,০০০ এ থাকত না।
এইতো, রাশট্রব্যবস্থার প্যাচাল এইখানেই থাক।
0 মন্তব্যসমূহ