লেখা তরজমা

স্মৃতি, পোস্ট-স্মৃতি দ্বন্দ্বঃ জুলাই বিপ্লব এবং অন্যান্য

 পোস্ট-ওয়ার ট্রমা বলতে জিনিস যেইটা আছে সেটা আমরা অনেকেই এইবারের জুলাই বিপ্লবের পরেও অনুভব করসি। যেমন, জুলাই-আগস্ট পুরা দুইমাস জুড়েই আমি হুটহাট সাউন্ড গ্রেনেডের আওয়াজ শুনতাম, কোথাও জোরে আওয়াজ হইলে লাগত এই বুঝি গ্রেনেড মারল, আবার চোখে হুদাই জ্বালাপোড়া শুরু হইত, কানে মিছিলের শ্লোগান শুনতাম। কতবার আশপাশে জিগায়ে সিউর হইসি আসলেই এইসব হচ্ছে কিনা! আস্তে আস্তে এইগুলা কেটে গেসে। আবার বিভিন্ন বইপত্রে মনোনিবেশ করসি, তিনটার মত উপন্যাসও পড়ে ফেলসি, এখন পড়তেসি মুরাদ কিবরিয়ার নিনাদ, লেখা আর জানার স্বার্থে আরো অন্যান্য কিছু বই, এইতো সবমিলায়ে এইসবকিছু আমারে একটা আগের মত নরমাল লাইফে ফেরত নিয়ে আসছে। 

এই জিনিসটাকে জাস্ট পোস্ট-ওয়ার বা পোস্ট-রেভ্যুলেশন ট্রমা নামে ছড়াইলে আসলে পূর্ণতা আসে না। আফটার মেমোরী ইফেক্টস টাইপ কিছু বলা যায়, জেনারেলাইজেশন। কিছু কিছু মেমোরী আমাদের মাইন্ডে এমনভাবে ছড়ায়ে থাকে যেন ওইটাই সময়ে সময়ে অবচেতনে বাস্তব হইয়া দাঁড়ায়। এইটা আমার সাথে দুইভাবে হইসে। 

১/ অতীতের ঘটনার ইফেক্ট সময়ে সময়ে বাস্তব হয়ে দাড়াইসে, যেটা রিয়েলিটিকে খুব বেশী এফেক্ট করতে পারে নাই। কাটায়ে উঠা সহজ হইসে। 

২/ অতীতের ঘটনা যখন অভ্যাস হিসেবে দাড়াইসে, সেটার এফেক্ট হইসে মারাত্মক। স্থবিরতা আসছে, মনোযোগহীনতা আসছে, দীর্ঘকালব্যাপী একটা মানসিক মন্দতা সবসময়ই বিরাজ করসে, হাজারটা প্ল্যান করে সাক্সেসের দেখা পাওয়া যায় নাই, সবকিছু থেকে নিজেকে দূরে সরানোর চেষ্টা ছিল, এইতো এরকম অনেক কিছুই। 

প্রথমটার এক্সাম্পল তো উপরেই দিলাম। সেকেন্ডটার কথা আসলে মোস্ট রিসেন্ট ইভেন্টটা হবে রাফাতের জন্ম থেকে বছরখানেকের ঘটনা। একটা বছর পোলাপানগুলা সবসময়ই সাথে ছিল, ওরা অভ্যাসে পরিণত হইসিল। সেই মায়ার ভার আমাকে মোটামুটি সবকিছু থেকে একটা সেপারেশনে নিয়ে গেসিল। আমি তখন এইটা বুঝতে পারি নাই, কাউকে বুঝাইতেও পারি নাই। নিজেকে দোষারোপ করসি, অন্যকে করসি, নানা ঘটনাকে করসি, মূলে হাত দিতে পারি নাই, বুঝে উঠতে পারি নাই। রিয়েলাইজেশনটা আমার এইবার হল। এইবার এসে আমি কানেকশনটা ধরতে পারলাম। 

এইসব প্যাচালের মধ্যেই আজকেও আবার রুশদা-রাফাতরা উড়াল দিল। কারণ থেকে বিশ্লেষণ সব মাথায় থাকায় এফেক্টটা অনেকটাই স্তিমিত। এইযে এইসব লেখার একটা কারণও হচ্ছে যেন এইটা আরোও থেমে যায়। মায়ার ভার বয়ে চলা বড্ড কঠিন। মানুশের মাঝে ছড়ায়ে দিলে এইটা ভাগ ভাগ হয়ে ভারটা কমে যায়। এইটাই আশা থাকল। 


দোসরা সেপ্টেম্বর, দুইহাজার চব্বিশ

সাজ্জাদুর রহমান

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ