লেখা তরজমা

জুলাই ভাবনা - ০৩ (বিল্পব নাকি অভ্যুত্থান?)

একটা প্রশ্ন শুরু থেকেই চাউর হচ্ছে, জুলাই কি বিপ্লব ছিল নাকি অভ্যুত্থান! 


আমার উত্তরঃ

আমার মতে জুলাই ছিল গণঅভ্যুত্থান। বিপ্লবের পেছনে একটা সার্টেইন আইডিওলজিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থাকবে। বিপ্লব প্রাক্তন সিস্টেমকে টোটালি উপড়ায়ে ফেলে নতুন সিস্টেম দাঁড় করাবে। বিপ্লবে বিদ্যমান তত্ত্ব, সিস্টেম, প্রশাসন সহ যাবতীয় সবকিছুই ঢেলে সেই তত্ত্বের আন্ডারে সাজানো হবে, বিপ্লবী তত্ত্বের ভেতর পড়ে এরকম লোকেরা ক্ষমতায় আসবে, তারা সর্বোপরি  এরকম সরকার গঠন করবে যেটা পূর্ববর্তী নিয়মকানুন, সংবিধান সবকিছুকে নাকচ করে নতুন কিছু আনবে। 

জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিদ্যমান সিস্টেম সব ঠিক রেখেই একটা পিসফুল ট্রাঞ্জিশনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হইসে। সময়ে সময়ে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ভাবে জুলাই অভ্যুত্থান এর মানসিকতাবিহীন লোকেরাও নানা গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে স্থান নিচ্ছে, দায়িত্ব পাচ্ছে। সহাবস্থান, নিউট্রালাইজেশনের নামে দেখা যাচ্ছে স্বৈরাচারের দোসররাও গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে যাচ্ছে। 

ডঃ ইউনুসের কথাতেও ছিল এরকম যে তিনি সিস্টেমের সংস্কার চান, পরিবর্তন না। বেসিক্যালি, আমরা একটা গণ-বিস্ফোরণ পর্যায় পার হয়ে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আরেকটা পিসফুল ট্রাঞ্জিশন পিরিয়ড পার করতে চেষ্টা করতেসি যেখানে এখনো পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের সহযোগীরা, দোসররা, পাচাটারা বহাল তবিয়তে আছে, পারও পেয়ে যাচ্ছে, সমাজে পুর্নবাসনও হচ্ছে ধীরে ধীরে। এইতো, এইটুক আমার কথা।


সংযুক্তিঃ


বিপ্লবের সমার্থক হত মানুষের চিন্তাপদ্ধতির পরিবর্তন। নতুনভাবে নতুন পরিস্থিতিকে যাচাই করে চিন্তাকে মালিশ করে নতুন ধারায় সংস্কার ভাবা, নতুন করে কাজ করার পরিকল্পনা করা। এইটাও হচ্ছে না সেরকম না, তবে সমাজের অধিকাংশই আগেকার চিন্তাবেষ্টনীতে মজে আছে, আগেকার মত চর দখল টাইপ রাজনীতি ফিরে আসার আশঙ্কাও দেখা যাচ্ছে। জনগণ নতুন ধর‍ণের চিন্তার সম্মুখীন হচ্ছে না। শহুরে সমাজে সংস্কারের কিছুটা আচ লক্ষ্য করা গেলেও গ্রামীন সমাজ এখনোও এই প্রভাবটা পায় নাই। বিদ্যমান চিন্তাকাঠামো ঠিক রেখেও একটা অভ্যুত্থানকে বিপ্লব বলা যাবে না। মানসিক পরিবর্তন হবার মত, চিন্তার প্রতি পরিপক্কতা আসার মত, আদর্শের প্রতি লয়্যালটি আসার মত সময় বা অবস্থান কিছুই জুলাইয়ের ছিল না। 

তাই ৫ই আগস্টের বিকালেই আমরা নানা ধর‍ণের বিভক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেখি। জনগণ বিভিন্ন অদরকারী জিনিসে ফোকাসড হয়ে থাকে। অভ্যুত্থান পরবর্তী একটা জনপদের জন্য একতাই যে বড় সম্পদ, সেটা আঁকড়ে ধরার মত, বুঝানোর মত আইডিয়া, প্ল্যাটফর্ম যা সিগ্নিফিক্যান্ট কিছু যা মানুষকে একটা জায়গায়, বিন্দুতে একত্রিত করবে সেটার অভাব ছিল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ