লেখা তরজমা

রাসূলকে সালামঃ উছিলা নজরুল

আমাদের কবি কাজী নজরুল ইসলাম কি অদ্ভুত ভাবেই না এই বাংলাদেশের জনপরিসরের সবকিছুতেই প্রয়োজনীয় হয়ে যান। কি বিপ্লব হোক বা প্রেম, শিশু হোক বা বৃদ্ধ। কবির এক অসমাপ্ত কাজ নিয়ে আজকে বলি। 

রাসূল (সাঃ) এর জীবনের বিভিন্ন অংশ নিয়ে তাঁর অসংখ্য কবিতা রয়েছে। আরবভূমির প্রতি নজরুলের একটা বিশেষ টান ছিল, তিনি বলতেন এই ভূমি বীরপ্রসূ। তিনি শাত-ইল-আরব লিখেছেন, কোরবানী, মোহররম, ফাতেহা-ই-দোয়াজ দহম,  খেয়া-পারের তরণী কবিতাগুলো এরকম পটভূমিতেই লিখেছেন। শেষোক্ত কবিতাটায় তিনি মুহাম্মদ (সাঃ) কে অসাধারণভাবে চিত্রিত করেছেন। 

এই ধারাবাহিকতায় ১৯৩১ সালে কবি নবীজীকে নিয়ে একটি কাব্যগ্রন্থ রচনার প্রয়াস করলেন। দুঃখজনক এটাই যে তিনি এটা শেষ করতে পারেননি। ১৭টি পরিচ্ছেদ লিখতে পেরেছিলেন। তাতে উঠে এসেছিল রহমাতুল্লিল আলামিনের জীবনের পঁচিশ বছরের আলাপন। এটাকে কাব্যগ্রন্থটার একটা ভূমিকা বলা চলে। 

কবিতাগুলো আমি বারকয়েক পড়েছি। কি মুগ্ধময় এক মিষ্টতায় প্রতিটা হরফ ফুটে উঠেছে। ভাষার গাঁথুনী, ছন্দের সমাহার, বর্ণনার আভিজাত্য, অনুভূতির বৈচিত্র্যময়তায় রাসূলের প্রতি নজরুলের এই অসম্পূর্ণ সওগাত বাংলা সাহিত্যেরই এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমি শুরুর কয়েকটি পঙক্তি এখানে লিখে দিই। 


❝জেগে ওঠ তুই রে ভোরের পাখী

নিশি-প্রভাতের কবি!

লোহিত সাগিরে সিনান করিয়া

উদিল আরব-রবি। 

ওরে ওঠ তুই, নূতন করিয়া

বেঁধে তোল তোর বীণ!

ঘিন আঁধারের মিনারে ফুকারে

আজান মুয়াজ্জীন।❞


কবির পঙক্তি দিয়ে আমিও সালাম জানিয়ে যাই,


❝ধূলির ধরায় যাইতে আমার নাহি আর কোন ভয়।

আমার মাঝারে জ্বালাইয়া দিলে অনির্ব্বাণ যে দীপ,

পরাইয়া দিলে আমার ললাটে যে মহাজ্যোতির টিপ,

ধরার সকল ভয়েরে ইহারি পুণ্যে করিব জয়,

আমার বংশে জন্মিবে তব বন্ধু মহিমময়!

মোর সাথে হ'ল ধন্য পৃথিবী!❞ -মোহাম্মদের নাম

লইয়া পড়িল, “সাল্লাল্লাহু আলায়হি সাল্লাম।”

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ