লেখা তরজমা

আখলাক, জবাবদিহীতা, রাষ্ট্র, পরিচয় এবং কালচার প্রসঙ্গ

রাষ্ট্র বলেন বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড যেইটা দিয়ে পর্যালোচনা করা যাবে তা হচ্ছে আখলাক। এইটা ব্যক্তিগত হইতে পারে, সামাজিক, জাতিগত, সমষ্টিগত, প্রাতিষ্ঠানিক, ইত্যাদি ইত্যাদি। বিশ্বব্যাপী এই আখলাকী সংকট চরম আকারে পৌছাইসে। এখন আখলাক দিয়ে আসলে কি বুঝতেসি আমরা। 

সংজ্ঞায়নটা আমি একদমই সোজা বাংলায় করব। আখলাক একটা বড় পরিভাষা, এখানে মানুশের চরিত্রের সবকিছুই অন্তর্ভূক্ত হয়। একশব্দে স্বভাব, চরিত্র, আচরণ, ইত্যাদি বলতে পারেন। আখলাকী সংকটের মোকাবেলায় এখন আমাদের পদক্ষেপ কি হইতে পারে সেইটা জানা এবং বুঝা দরকার। 

বেশীকিছু করার দরকারও নাই। একমাত্র কাজটা হইতেসে প্রতিটা ক্ষুদ্র কাজকেও নিজের দায়িত্ব ভাইবা করা। নিজের মধ্যে জবাবদিহিতা ব্যাপারটা নিয়ে আসা। এই কাজটুকুই এনাফ আসলে। আশেপাশে খেয়াল করেন, এইটুকুর, এই দায়িত্ববোধের অভাব, জবাবদিহিতার অভাব আমাদেরকে আজকের এই পর্যায়ে আনসে। ঠিক এই জায়গাটায় আমাদের একটা জাতিগত মানসিক সংস্কার লাগবে। 

এখন এই মানসিকতা তো একা একাই ফস করে তৈরী হবে না। সেক্যুলার সিস্টেমে যেখানে আপনি নিজেকে খোদার আসনে বসাইতেসেন, সেখানে আপনার জবাবদিহীতার জায়গা কই? রাষ্ট্র, প্রশাসন এইসব ভয়ের জায়গা, জবাবদিহীতার কালচারের জন্য এরকম একটা পরিবেশ লাগবে যেটা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ফাংশনাল থাকবে। জবাবদিহীতা ভয় দেখায়ে হবে না, বিবেকের অনুশোচনা থেকেই আসা লাগবে। এই জিনিসটা তৈরী হবার জন্য সেক্যুলার ম্যাটেরিয়ালিস্টিক ব্যক্তিতান্ত্রিকতা থেকে বের হওয়া লাগবে। আপনি এখন একজন মুসলমানকে আল্লাহকে নিয়ে আসতে দিতেসেন না পলিটিক্যাল স্ফিয়ারে, একজন হিন্দুকে বলতেসেন সে ঈশ্বরকে ডাকতে পারবে না রাস্তায়, কালচারালি ফোর্স করতেসেন আল্লাহর বদলে সৃষ্টিকর্তা বলতে, আবার যারা আল্লাহ বলতে চাইতেসেও তাদেরকে বছরকেবছর করে রাখসিলেন অপাংক্তেয়! এতে করে হইসে মানুশের থেকে জবাবদিহীতা উইঠা গেসে। 

এখন বলতে পারেন আমেরিকায় কেম্নে পারে, ওরা তো সেক্যুলার স্টেট। না, আমেরিকাও পারে না। ওদের বাইবেল হাতে নিয়াই সব করা লাগে, টাকাতেও লেখা লাগে ইন গড, উই ট্রাস্ট। ওদের স্কুলে গুলাগুলি হয়, পুলিশের হাতেও কৃষ্ণাঙ্গরা মরে, সামাজিক অবক্ষয় নাই বলি। এখন আবার যদি আপ্নারা চান কোনোকিছু রিডিফাইন না কইরা যেটা যেভাবে আছে ওইটাকে ওইভাবেই বাদ দিয়া দিবেন, তাইলে পরে দেখবেন কুটা বাজতে চাল উজাড় এর মত হবে। কুটাও পাইবেন না, চালও না। 

যখন আপ্নে মানুশরে স্ব স্ব পরিচয়ে পাবলিক, পলিটিক্যাল স্ফিয়ারে আসতে দেবেন, কথা কইতে দিবেন, তারে হীনমন্যতায় ফালাইবেন না, তখন আপনি নিজেরে আসল সেক্যুলার কইতে পারবেন। ধর্মনিরপেক্ষ কইয়া সব বাদ দেওয়াইবেন, এরচেয়ে এইটারে কন ধর্মবিয়োগতা, মানাবে। 

এই আরকি, কি বলতে বলতে কই চলে গেলাম। আশাকরি কিছু একটা বুঝাইতে পারসি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ