রাজাকার শব্দটাতে তাদের এত আপত্তি, সমস্যাকে আপনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখা লাগবে। এই শব্দটা ছিল ৭১ এর পর থেকে একদল মানুশকে অপরায়ন করার জন্য একটা মোক্ষম অস্ত্র। এই শব্দটার উপর ভিত্তি করে একটা চেতনা ইন্ডাস্ট্রি দাঁড় হইসিল, যেখানে বিরোধী মতকে অপ্রেস করা গেসে, নির্যাতন করা গেসে, যা ইচ্ছা তাই করা গেসে, জামায়াত-শিবিরকে মাইরা ফালানো গেসে, ফাঁসিতে ঝুলানো গেসে, বিএনপিকে চুপ করাইয়া রাখা গেসে, জনগণ নির্দ্বিধায় সবই মেনে নিসিল। তাই যখন জনগণ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এই শব্দটাকে ওউন করা শুরু করল, স্বৈরাচার হাসিনা, তার সহযোগী শাহবাগীদের এতদিনের তৈরি করা সিস্টেম ধ্বসে গেল, তার পতন চলে আসল। এইখানে "তুমি কে, আমি কে, রাজাকার রাজাকার!" স্লোগানের সিগ্নিফিক্যান্স।
অভ্যুত্থানের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত এই স্লোগানেই জনতা মুখর ছিল। এইটাকে এখন এইভাবে সাইড করে দেওয়াটা বুঝাইতেসে যে তারা এখনো চাইতেসে আগের মত আরেকটা ইন্ডাস্ট্রি দাঁড় করাইতে। যেখানে তারা আবারো যাচাই-বাছাই করবে, আদারিং করবে, জাতির পিতা কাঠামোর মত জাতির সমন্বয়ক কাঠামো কায়েম হবে। যেই ভাষা অভ্যুত্থানে প্রাণ দিল, জনতাকে সম্মিলিত করল, সেটাকে কৌশলে সরায়ে দেওয়া, বাকিসবগুলোর সাথে মেলানো, চরম ইতিহাস বিকৃতির শামিল।
যেই স্লোগান এতদিনের গড়ে উঠা ফ্যাসিস্ট সিস্টেমকে মূহুর্তেই গুড়িয়ে দিল, সেইটা নতুনদের জন্যও তো ভয়ানক বটে! যেই স্লোগান জনসাধারণকে প্রাণশক্তি ফিরায়ে দেয়, সেইটা পুরান অথবা নতুন, সব দখলদারীদের জন্যই আযরাঈল হয়ে ফিরবে।
তুমি কে, আমি কে
রাজাকার, রাজাকার!
0 মন্তব্যসমূহ