প্রথম আলো, ডেইলী স্টার, বাংলা আর ঢাকা ট্রিবিউন বাংলাদেশের গণমানুশের বিরোধী, গণশত্রু এইটাতো এতদিনে সবাই বুঝে গেসেন বলাই যায়, কিয়দংশ সবসময়ই থাকবে, যারা সবকিছুর পরেও বুঝবে না। প্রথম আলো-ডেইলী স্টার এরা বাংলাদেশে একটা বিশেষ শ্রেণী তৈয়ার করসে। এদের এইখানে কলাম প্রকাশ পাওয়া, নিউজ হওয়া, পাতায় নাম আসা, ছবি ছাপা এইসব বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত কালচারে একটা এলিটত্ব দেয়। এদের এজেন্ডা যে ভারতীয় আধিপত্যবাদকে সুসংহত করা এইটাও এখন এসে সবারই বুঝা উচিত। এইটাও দেখতেসেন এই সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে প্রথম আলোর কলাম লেখকদের অবস্থান, বলতে গেলে সবাই। এতকিছুর পরেও এদের বিকল্প পাওয়া যাচ্ছে না। বিকল্প হয়ে উঠার মত সংবাদপত্র আসতেসে না। চাকুরীপ্রত্যাশীদের জন্য প্রথম আলো-ডেইলী স্টার আশীর্বাদের মত। ভোকাবুলারি থেকে সাধারণজ্ঞানের প্রাইমারি সোর্স।
আমার মতে, এখন বিকল্প হয়ে উঠতে পারেন একমাত্র মাহমুদুর রহমান এবং আমার দেশ পত্রিকা। মাহমুদুর রহমানকে আশাকরি কেউই ভুলে নাই। নতুন বাংলাদেশের জন্য তাঁর মত মানুশদের সবচেয়ে দরকার। আর আমার দেশ পত্রিকা যদি আবার সার্কুলেট হয় জনগণের একটা বড় অংশ এদিকে ঝুঁকবেই। নতুন ন্যারেটিভ নির্মাণে, বাংলাদেশকে নতুনভাবে দেখতে, ইয়ুথদের সঠিকভাবে পরিচালিত করে বাংলাদেশপন্থী করতে আমার দেশ পত্রিকা এবং মাহমুদুর রহমানকে আমাদের লাগবেই।
*****
বাংলাদেশে ভা*রতীয় হেজেমনীকে ধরে রাখে শাহবাগী আর বামরা। ওরা মিডিয়া কন্ট্রোল করে, সফট পাওয়ার আছে, আমরা কি বলব, কোন ডেফিনেশনে বলব তা ঠিক করে দেয়।
তাই এইযে বলা হচ্ছে কেন আমরা এখনো ফ্যাসিস্টদের শেখানো বুলিতেই নানা আলাপ করতেসি, সেটাকে নাকচ করতে পারতেসি না, কারণ এখন আমরা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা মূল শক্তির মুখোমুখি। প্যারাসাইটের মত এরা, লীগকে ফিরায়ে আনবে নইলে নতুন ঘাড়ে চাপবে, চাপতেসেও।
মিডিয়া এখন জোরেশোরে জুলাইয়ের পরাজিত শক্তির বয়ানকে প্রচারণায় নামসে। মিডল ক্লাস দুইদিন পর বিশ্বাস করেও ফেলবে আবু সাঈদ, মুগ্ধকেও মারসে শিবির, মুগ্ধকে স্ট্যাটাসটার কারণে আর আবু সাঈদকে মাথায় বাড়ি দিয়ে! ৫ই আগস্টের পর থেকে অনেকেই ট্রুথ এন্ড রিকন্সিলিয়েশন কাউন্সিলের কথা বলছিলেন, সেটারও দৃশ্যমান সরকারী উদ্যোগ নাই।
খুবই প্যাথেটিক। শহীদদের মিছিল এখনো চলতেসে, হাসপাতালে আহতদের সারি গুণে শেষ করা যাচ্ছে না, নিখোঁজ শত লাশ এখনো পরিচয় পাবার অপেক্ষায়!
কয়েকটা টিভি চ্যানেল ছাড়া কেউই গত ১৬ বছরের যুলুম-নির্যাতনগুলো নিয়ে কোনো ধরণের কাজ করে নাই। যারা করেছে সেসবেরও প্রচার নাই সেভাবে। অথচ এইটা তো জরুরী ছিল।
প্রশ্ন তো উঠেই যে, এইযে এত সব অপূর্ণ কাজ, জনমানসকে জুলাই থেকে দূরে সরায়ে রাখা, অনলাইন স্ফিয়ার সহ পাবলিকেও জনগণকে সারাক্ষণ বিভ্রান্তিতে রাখা, এর দায় কোনোভাবে এই কুসুম কুসুম এপ্রোচের ইন্টেরিম সরকার এড়াতে পারে কিনা!
সময়ে সময়ে ফ্যাসিস্টদের প্রতি দেখানো সহমর্মীতা, সহাবস্থানের সুযোগ দেওয়া, ন্যূনতম বিচারের মুখোমুখি না করা এতদিনেও, অন্তত সরকারী উদ্যোগে ক্যাটাগোরাইজড লিস্ট প্রকাশ না করা অপরাধগুলোর সুস্পষ্ট বিবরণ সহ, ফ্যাসিস্ট এনাবলারদের প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানোর উৎসবকে জাস্টিফাই করতেসে।
আবারো বলি, মতির আলো আর দিল্লী স্টারদের ঠ্যাকাতে এখন মাহমুদুর রহমান এবং আমার দেশকে বাংলাদেশের খুবই জরুরী, জনমানসে প্রভাব ফেলার জন্য, আম লেভেলে নতুন ন্যারেটিভকে প্রচার করার জন্য। প্রাইভেট উদ্যোগে কিছু কাজ তো হচ্ছে। বাকিদেরও জোর গলায় নামা লাগবে।
লড়াই তো কেবল শুরু। লড়াই করে আনা এই নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদদের আস্তানা আর হতে দেওয়া হবে না।
0 মন্তব্যসমূহ