কিছু জিনিস বলা প্রয়োজন মনে হল,
১/ আওয়ামী বয়ান আর ভারতীয় চেতনায় লেপ্টে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা থামতে আরোও বহুত সময় নিবেই। খোজখবর নিয়ে জানতে পারলাম যে কিছু ছুপা দালালেরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে নিজেদের চেতনার বয়ানে বিদ্ধ করতে চাইতেসে। যেরকম, ওরা বাচ্চাদের বলতেসে যে বাঁধ না খুললে ভারতই ডুবে যাইত, বা এরকম আরোও যত চেতনাসিদ্ধ সুশীল কথাবার্তা আছে।
ছোটরা, এরা রাজনীতির মারপ্যাচ বুঝে না, এরা শিক্ষকদের উপর বিশ্বাস হারায় নাই, তারা যা বলে সেসবই বিশ্বাস করে। আমরা চোখের সামনেই দেখসি কিভাবে দুই প্রজন্ম বিভিন্ন প্রোপাগাণ্ডার বয়ানকে আপন করে স্বৈরাচারকেই আবে হায়াত মানসিল। লংটার্মে পরবর্তী জেনারেশনগুলা যেন এরকম ফাঁদে না পড়ে সেজন্য ঘর থেকে সব ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের বাচ্চাদের আলোচনার বাইরে রাখা যাবে না, তাদের মতামত শুনতে হবে, তাদেরকে জানতে দিতে হবে,জানার সুযোগ তৈরি করতে হবে। নইলে দেখা যাবে ফলেন ডিক্টেটর মুজিবের মত হাসিনার আইডিয়ারও পূর্নবাসন হবে।
২/ খেয়াল রাখা লাগবে যে আমাদের উদযাপনগুলো যেন আমাদের কর্তব্য ঘিরে না হয়। কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করাই আমাদের দায়িত্ব, সেইটা উদযাপনের বিষয় না। অতি উৎসাহী, অতি আবেগী কাজকর্ম সবসময়ই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল থেকে আমাদেরকে যোজন দূরে নিয়ে যায়।
উদযাপন সবসময়ই পূর্ণতার আভাস নিয়ে আসে। যা আমাদের মনস্তত্ত্বকে এই খবর দেয় যে তুমি যা চাইতেসো, যার জন্য যুদ্ধ করতেসো, যেটা পাবার আশায় খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করতেসো তা তোমার হাতের মুঠোয়, চোখের নাগালেই। এরকম আশা মানুষের মনে পরিতৃপ্তি আনে, একই সাথে চেষ্টাহীনতা এবং বিশ্রাম। উভয়ই ভয়ংকর।
৩/ আওয়ামী গণহত্যা সহ গত রেজিমের টোটাল অরাজকতাকে তুলে ধরার জন্য আমাদের ফিকশনের দিকে যাইতে হবে। জনমনে তীব্র আঘাত কিংবা অনুশোচনার মাধ্যমে এইসবকে জিইয়ে রাখতে চাইলে একে একে সবকিছুকে নাম ধরে ধরে উঠায়ে রাখতে হবে, লিখে রাখা লাগবে। লেখকদের আগায়ে আসার অনুরোধ। এখন তো কোনো ভয় নাই, কলমের টানে সবকিছু সাহিত্যের ভাষায় উঠে আসুক।
৪/ রাষ্ট্রসংস্কারের মাধ্যমে যদি আমরা ইসলামকে তুলে ধরতে চাই সবার আগে অন্তত আমাদের রূপরেখা দেওয়া উচিত। রূপরেখা বা কোনো কর্মপন্থা অথবা নিদেনপক্ষে কোনোরূপ আলোচনা শুরু না করেই জনগণকে যেকোনো কিছু গ্রহণের জন্য তৈয়ার ভাবাটা একটা বড় ধরণের ইউটোপিয়া। আপনাকে একটা আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস কাজ করে যাইতে হবে। এইটাকে দাওয়াতী কাজ বলেন বা গঠনমূলক কাজ যেইটাই বলেন। মানুষ, প্রতিষ্ঠান তৈরির কাজ করতে হবে। আপ্নাকে ভাষা নিয়ে ভাবতে হবে, কাজ নিয়ে ভাবতে হবে যার আন্ডারে সব মানুষদের একত্র করা যায়।
কয়েকটা প্রজন্ম, গত শত বছর, জন্মের পর থেকেই সেক্যুলার আইন, কাজকর্ম দেখে আসতেসে, ওদেরকে খাওয়ানো হইসে যে ইসলাম আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় অপাংক্তেয়। তাদেরকে আপনি দুইটা আলোচনা, তিনটা মোটিভেশান দিয়ে জাস্ট উত্তেজিতই করতে পারবেন। কাজের কাজ কিছুই হবে না। কাজ করা লাগবে তাদের আদর্শের বুঝ কতটুকু সেটা নিয়ে, তারা আসলেই কতটা চাচ্ছে, কতটা বুঝে চাচ্ছে, কতটা আবেগে আর কয়টা স্বাধীনভাবে চাচ্ছে তা নিয়ে। মিষ্টিকথায় ছেলেভুলিয়ে দলভারী করে তর্কাতর্কি করা আর আসলেই মানুষকে একটা ডিসাইডিং সময়ের জন্য প্রস্তুত করা ভিন্ন ব্যাপার, তাই এপ্রোচও ভিন্ন।
ব্যক্তিগত স্তর থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আখলাক, ইনসাফ এবং আদালত প্রতিষ্টা করা হওয়া উচিত আমাদের মূল কাজ।
৫/ সবশেষ, আমাদের দরকার হচ্ছে সবার যৌক্তিক মতামতের প্রতি সহিষ্ণুতা। যদি আমাদের বিপরীত বলতেই হয় তবে যেন সর্বোচ্চ সম্মান রেখেই বলা যায়। কাউকে হেয় করা, হীন করা যেন আমার মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা না হয়। গঠনমূলক সমালোচনা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার সমালোচনা আঘাতের জন্য যেন না হয় বরং তাতে যেন গড়ার উপাদান থাকে। তারমানে এই না যে ভাষা কঠোর এবং ভারী হতে পারবে না। সকল প্রকার ধ্বংসাত্মক কাজের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং সতর্কতা এভাবেই চলমান থাকবে।
সংযোজিত
৫/ রাষ্ট্রসংস্কারের মাধ্যমে যদি আমরা ইসলামকে তুলে ধরতে চাই সবার আগে অন্তত আমাদের রূপরেখা দেওয়া উচিত। রূপরেখা বা কোনো কর্মপন্থা অথবা নিদেনপক্ষে কোনোরূপ আলোচনা শুরু না করেই জনগণকে যেকোনো কিছু গ্রহণের জন্য তৈয়ার ভাবাটা একটা বড় ধরণের ইউটোপিয়া। আপনাকে একটা আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস কাজ করে যাইতে হবে। এইটাকে দাওয়াতী কাজ বলেন বা গঠনমূলক কাজ যেইটাই বলেন। মানুষ, প্রতিষ্ঠান তৈরির কাজ করতে হবে। আপ্নাকে ভাষা নিয়ে ভাবতে হবে, কাজ নিয়ে ভাবতে হবে যার আন্ডারে সব মানুষদের একত্র করা যায়। এরকম সমাজ নিয়েও ভাবতে হবে যেখানে সবার রাজনৈতিক অধিকার এবং সহাবস্থান নিশ্চিত হয়।
কয়েকটা প্রজন্ম, গত শত বছর, জন্মের পর থেকেই পশ্চিমা সেক্যুলার আইন, কাজকর্ম দেখে আসতেসে, ওদেরকে খাওয়ানো হইসে যে ইসলাম আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় অপাংক্তেয়। এরকম অবস্থায় সবকিছুরই রিডেফিনিশন আসা কাম্য। কথায় কথায় ওয়েস্টার্ণকে নাকচ করা আমরা এখন যদি তাদেরই ডিফাইন করা তত্ত্বতে, বাস্তবতায় নিজেদেরকে নিরীখ করতে চাই, তাদের দেওয়া কর্ম্পন্থাকেই যদি খাস ধরতে চাই, নিজেদের সামাজিক, বাস্তবিক প্রেক্ষাপট এবং অবস্থানকে তাদেরই দেওয়া কেসস্টাডির আলোকে তুলে ধরি তাহলে আমাদের জন্য সেটা চরম বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যর্থতা। মানুশকে আপনি দুইটা আলোচনা, তিনটা মোটিভেশান দিয়ে জাস্ট উত্তেজিতই করতে পারবেন। কাজের কাজ কিছুই হবে না। কাজ করা লাগবে তাদের আদর্শের বুঝ কতটুকু সেটা নিয়ে, তারা আসলেই কতটা চাচ্ছে, কতটা বুঝে চাচ্ছে, কতটা আবেগে আর কয়টা স্বাধীনভাবে চাচ্ছে তা নিয়ে। মিষ্টিকথায় ছেলেভুলিয়ে দলভারী করে তর্কাতর্কি করা আর আসলেই মানুষকে একটা ডিসাইডিং সময়ের জন্য প্রস্তুত করা ভিন্ন ব্যাপার, তাই এপ্রোচও ভিন্ন। বেসিক জিনিস কি এইটাই না যে সমাজ থেকেই রাষ্ট্র তৈরি হবে, সমাজ সংস্কারের আগেই রাষ্ট্র নিয়ে ইউটোপিয়ান হাজারটা ভাবনা আমাদেরকে আরেকটা ডিস্টোপিয়ান সময়ের দিকেই নিয়ে যাবে।
ব্যক্তিগত স্তর থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আখলাক, ইনসাফ এবং আদালত প্রতিষ্টা করা হওয়া উচিত আমাদের মূল কাজ। সোজা বাংলায় চারিত্রিক উৎকর্ষতা, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক ইক্যুইটি প্রতিষ্ঠা।
ধন্যবাদ।
আটাশই আগস্ট, দুইহাজার চব্বিশ
সাজ্জাদুর রহমান
0 মন্তব্যসমূহ