লেখা তরজমা

আমাদের ইতিহাসঃ সাহসিকতার নাকি ভীরুতার?

আমাদের ইতিহাসঃ সাহসিকতার নাকি ভীরুতার?

সাজ্জাদুর রহমান 


বাংলাদেশের ইতিহাসের দিকে যদি তাকান, তাইলে দেখবেন যে বিভিন্ন সময়ে আমাদের আযাদীগুলা একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়া পর্যায়ক্রমে আসছে। আদিতে দ্রাবিড়রা যেভাবে আর্যদের ঠেকায় রাখসিল, এরপর ব্রাহ্মণ্যবাদী ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়ে বখতিয়ার খিলজী থেইকা শামসউদ্দীন ইলিয়াস শাহের সময়কাল পর্যন্ত একটা পর্যায়, তখন আমরা পাইসিলাম বাঙাল সালতানাত, মাঝে হোচট খাইসি, পরে গৌড় গোবিন্দের মত পাঠারা পরে সুযোগ পেয়ে কুব্যবহার করসে। এরপরেও আযাদী উদ্ধার হইসে, আমাদের সংগ্রাম চলতেসিল। এইখানে একটা মজার নুকতা হইল যে বহিঃশত্রু আমাদেরকে যত না ঘাটানোর সাহস পাইসে তারচেয়ে বেশী আমরা ধরা পড়সি নিজেগো অভ্যন্তরীণ দূরাবস্থায়, গাদ্দারীতে, প্রবঞ্চনায়, আর অব্যবস্থাপনায়। আমীর তৈমুর থেইকা দিল্লীর মুঘলরা, এই বাঙাল মুলুকে নাক গলাইতে আইসা ফিরা গেসে বহুবার, ধরা খাইসে, যুদ্ধ হইসে, আমরা আটকাইসি, আমরা প্রতিরোধ করসি, রক্ষা করসি নিজেগোরে, নিজেগো মুলুকের সার্বভৌমত্বের জন্য লড়সি। 

তারপরে ধরেন ব্রিটিশ পিরিয়ড, কেম্নে কেম্নে ব্রিটিশগো অধীনে গেসিলাম সেই আলাপে না যাই। কিন্তুক ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনগুলা ঘাটেন, সংগ্রামগুলাতে মূখ্য ছিল কারা? ফকির বিদ্রোহ, ফরায়েজী আন্দোলন, সিপাহী বিদ্রোহ সব একে একে দেখেন, পড়েন, এই বাঙলা অঞ্চলের আবেদন বুঝবেন৷ আমরা সবসময়ই বিদ্রোহী ছিলাম, প্রতিবাদী ছিলাম। 

ফাস্ট ফরওয়ার্ড টু একাত্তর, গণমানুষের বিস্ফোরণের মাধ্যেমেই স্বাধীনতা আইল। ওম্নেই এইডাই পয়লা আযাদী হইয়া গেল। তারা চাইল একাত্তর থেইকাই বাংলাদেশরে প্রতিষ্ঠা করতে। একাত্তরের চেতনা দিয়া, চেতনা খাওয়াইয়া জনগণরে পোষ মানাইয়া রাখল। ফ্যাসিবাদ কায়েম করল, লুট করল, হত্যা করল, গুম-খুন করল, জবান বন্ধ করল, হাত বাইন্ধা রাখল, চোখে কুলুপ আটাইল! ইতিহাসরে চাইপা রাখল, দেখাইল চেতনার বয়ানই একমাত্র বয়ান, অন্যসব ষড়যন্ত্র, মিথ্যা, বাকশাল করল, দাঙ্গা লাগাইল, আরোও কত কি! সবকিছুর চক্করে বাংলার মানুষ হারাইল তাদের স্বকীয়তা, জাত্যভিমান, ইতিহাস, সত্য বলার সাহস, সত্যকে কবুল করার সাহস, মিথ্যাকে নাকচ করার সাহস! পাইল আত্মকেন্দ্রিকতা, ফ্যাসিবাদ, যুলুম, একচোখা মনস্তত্ত্ব, আর পর্যায়ক্রমিক স্বৈরাচার। 

উপরের সব অগোছালো প্যাচালের সারমর্ম এইটাই যে, কোনোকিছুকে নাকচ করে আমাগোর সামনে আগাইয়া যাওয়া বলিষ্ঠ হইবে না। ধারাবাহিকতাকে ইনকার কইরা দিলে মানুষ তার বৈশিষ্ট্যই হারায়ে ফেলে, ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ তাই, ইতিহাসকে ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ তাই। সব বয়ানকেই চ্যালেঞ্জ কইরা যথার্থটাকে বের কইরা সেইটাকে ধারণ করাই কর্তব্য। যেমনডা টিরিয়ন কইসিল, 

❝Never forget what you are, for surely the world will not. Make it your strength. Then it can never be your weakness. Armour yourself in it, and it will never be used to hurt you.❞

আজকের দিন অতি গৌরবময়। অনেক বিচ্ছিন্ন সুতা একসাথে বুনে আজকের আগস্ট আসছে। আগস্ট আমাদের জন্য ঐতিহাসিক। আগস্ট আমাদের জন্য মুক্তির পয়গাম নিয়ে আসে। আগস্টের অনুপ্রেরণা চতুর্দিকে বিস্তৃত হোক। 

আজ ১৪ই আগস্ট, ব্রিটিশদের গোলামী থেকে আযাদীর মোবারকবাদ। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ