আন্দোলনে ছাত্রশিবির, ছাত্রদলের উপস্থিতি যে দৃঢ়ভাবেই ছিল এইটা তখন যারা মাঠে ছিলাম, রাস্তায় ছিলাম, যাদের হালকা-পাতলা হইলেও রাজনৈতিক বোঝাপড়া পরিষ্কার ছিল, ক্যাম্পাসের পলিটিক্যাল আপ-ডাউন নিয়ে জানাশোনা ছিল সবাই বুঝত, জানত, দেখতও। তখন আমরা প্রতিদিনই আলোচনা করতাম যে যখন আন্দোলনে থাকা মানুশেরা এইসব জানবে তখন তাদের রিয়েকশন কিরকম হবে!
এখনের মত কতক বলবে যে, আগে যদি জানত আন্দোলনের এই অবস্থা, তাইলে তারা আসত না! এইটাও হবে তখনই বলতাম আমরা। কি আশ্চর্য ভাবে গর্ব কইরা এরা এখনো পতিত ফ্যাসিবাদকে এরা অউন করে যাইতেসে! হাস্যকর অবস্থা! জাতীয় মুক্তির চাইতে তাদের কাছে এইটা বড় লাগতেসে যে কেন আন্দোলনটা শিবিরের আন্ডারে পরিপূর্ণ হইল!
তাদের এই ভয় স্বাভাবিক, প্রেডিক্টেবল। এইযে এরা, যারা সবসময়ই লাভের গুড়টা মুখে তুলতে চায়, উইড়া আইসা জুড়ে বসতে চায়, এরা চাইতেসিলই আন্দোলনের ফসল নিজেদের ঘরে তুলতে। নিজেদের মত বন্দোবস্ত করে ভাগ-বাটোয়ারা করে ফেলতে। তাই শিবিরের এভাবে প্রকাশ্যে আসা, সায়েরের স্ট্যাটাস, শিবির নিয়ে এত আলোচনা তাদের জন্য হুমকিস্বরূপ।
এরা বুইঝা গেল এখনকার জনতা পার্থক্য করতে পারে, আগের মত যা-তা গিলায়ে খাওয়ানো যায় না। এইটা একটা বিরাট সমস্যা যে, হাতে একটু ক্ষমতা বা স্বীকৃতি পাইলেই এই বাংলাদেশের কিছু গোষ্ঠী নিজেদের হর্তাকর্তারূপে কায়েম করে বাকিদের বসায়ে দিতে চায়। খুবই সমস্যাজনক, এতকিছু, এত ইতিহাস থাকার পরেও সেসব থেকে শিক্ষা না নেওয়া।
২৪ এর এই অভ্যুত্থানের ইতিহাস আন্দোলনের মাঠ থেকে আসা জরুরী। প্রকৃত সত্য, প্রকৃত ত্যাগের কথা, প্রকৃত মানুশ আর বাস্তবতার কথা তাতেই উঠে আসবে।
আর এই আড়াইমাস পর এসেও যারা ভাববে জুলাই ছিল একটা অরাজনৈতিক আন্দোলন, কুসুম কুসুম বাচ্চারা এসে এম্নেই রাস্তায় দাঁড়ায় গেসিল, সমন্বয়করা একাই একশ ছিল, তাদের রাজনৈতিক বোঝাপড়াটা নিয়ে সমবেদনা জানায়ে গেলাম।
0 মন্তব্যসমূহ