লেখা তরজমা

স্বতঃস্ফূর্ততার উৎসবে মানুশ

গতকাল ঈদে মিলাদুন্নাবী উপলক্ষ্যে নানা আয়োজনে বাংলাদেশ সারাদিন মুখর ছিল। এতটা স্বতঃস্ফূর্ত, আনন্দোচ্ছ্বাস, স্বেচ্ছা অংশগ্রহণে কোনো দিবস উদযাপন গত এক যুগের বাংলাদেশে দেখা যায় নাই। এইটা একটা বিরাট বার্তা দিয়ে গেল, মুক্তির বার্তা, কালচারাল ফ্রিডমের বার্তা। মানুশেরা তাদের নেতা, আদর্শ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, রাহমাতুল্লিল আলামীনকে নিয়ে এরকম ভাবে আলোচনা করতে পারত না, গাইতে পারত না, মুখ খুলে অন্যকে জানাইতে পারত না! কি এক বিভীষিকাময় অন্ধকারে মানুশ পতিত ছিল! সমাজের বড় একটা অংশকে কিভাবে অপ্রেস করে স্বকীয়তাকে ভুলায়ে দেওয়া হইসিল! 

মুজিবধর্মের অনুষ্ঠানগুলাতে মানুশদের আনতে অফিসিয়াল নোটিশ, জরিমানা, এইসেই হাজারটা জোরজবরদস্তি করানো লাগত! তাই এই স্বতঃস্ফূর্ততা এক নতুন আলোর ঝলকানী দেয়। স্কুলের ছোট ছোট বাচ্চারা জোরে জোরে নজরুলের নাত গাইতেসে, কলেজ, ভার্সিটিগুলাতে শয়ে শয়ে মাওলিদ মিছিল, কুরআন তেলাওয়াত, ইসলামী গানের আসর বসতেসে, সীরাতের আলোচনা হচ্ছে, কারো উপর কোনোভাবে কোনোকিছুই অর্পিত হচ্ছে না, দলীয় গুণ্ডারা এসে হামলা করতেসে না, স্বাধীনতার সুন্দর এক পরিস্থিতি।

শুধু তাই না, মানুশজন পলিটিক্যালিও কনসার্ণড হচ্ছে। আগের মত চাপায়ে দেওয়া জিনিসকে ইনকার করতে শিখতেসে। কথা বলতে পারতেসে। এই জিনিসগুলা আসলেই সুন্দর। আমি ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে এখন এরকমভাবেই দেখতে চাই। এটাই মোক্ষম সময় মানুশকে সত্য এবং আসলের সামনে দাঁড় করানোর। এরজন্য দরকার প্রাইমারী শিক্ষাব্যবস্থার জরুরী সংস্কার। সরকার এখনো শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করে নাই। এইটা অতীব জরুরী আগামীর বাংলাদেশকে সুস্থিত এবং সংহত করতে। শিক্ষা সংস্কার কমিশনের দায়িত্ব যোগ্য লোকদের হাতে পড়ুক। এখানে যেন অন্যান্য কিছু সংস্কার কমিশনের মত আওয়ামী দালালরা দায়িত্বপ্রাপ্ত না হয় সে বিশয়ে আওয়াজ তোলা জরুরী। মা'আসসালাম।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ