লেখা তরজমা

শিক্ষা সংস্কারঃ উৎকণ্ঠা, কমিটি, এবং বাস্তবতা কথন

শিক্ষা সংস্কার নিয়ে দুই একটা কথা বলে যাই।

প্রথমত, মব(!)-ইনফ্লুয়েন্সড যেকোনো কিছুকেই আমি সমর্থন দিচ্ছি না। দ্বিতীয়ত, যেখানে যাচাই-বাছাই করে ইনক্লুশন-এক্সক্লুশনের সুযোগ আছে, সেখানে সবকিছু টোটালি বাদ দিয়ে পুরো প্রসেসটাকে শেষ করার পক্ষেও আমি না।

বাংলা মিডিয়াম এবং আলিয়া মাদরাসার সবকিছু একই, বই, কারিকুলাম। তবে আলিয়াতে কুরআন, হাদীস, ফিকহ, বালাগাত, মানতিক, আরবী ব্যকরণ৷ সহ আরোও কিছু বিষয় শ্রেণিভেদে বেশী পড়ানো হয়, পরীক্ষাও নেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে এখানে অবশ্যই আলেম, ইসলামী মূল্যবোধ সম্পন্ন লোকেদের লাগবে। এই পয়েন্টটা অনেকেই মিস করে যাচ্ছিল।

দেশে ইসলাম নিয়ে কিছু হইলেই বারবার ভেসে আসতেসে আসিফ মাহতাব, সরোয়ার, শক্তি, আবু ত্বহা আদনান এদের নাম! স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে যে বাংলাদেশে ইসলাম সংশ্লিষ্ট সবকিছুর জিম্মাদারি এদেরই কিনা!

প্রথমত, না, এদের না। ইসলামী বলতে যদি এখানে ইসলামিক মাইন্ডসেট বুঝে থাকি আমরা, অথবা এইটা বুঝে থাকি যে মাদরাসাপড়ুয়া বা মাদরাসাসংশ্লিষ্ট, অথবা এরকম ব্যক্তি যে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামিক মূল্যবোধ এবং মতাদর্শকে আপহোল্ড করে তবে আমাদের কাছে আরোও অনেক যোগ্য লোক আছে।

সহজ উদাহরণ, শিক্ষা নিয়ে কাজ হচ্ছে সেখানে কেন ঢাবির আরবী বিভাগের চেয়ারম্যান ড. যুবাইর থাকতে পারবেন না? কিংবা ইসলামিক আরবী ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. শামসুল আলম? শিক্ষাবিদ হিসেবে এদের যোগ্যতা কার থেকে কম যাদের নাম বলা হচ্ছে! 

এরকম আরোও তো নাম আছে। জাস্ট গুগল স্কলারে গেলেই তো হয়। কীওয়ার্ড দিয়ে সার্চ দেন, দেখেন শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা, শিক্ষার ইসলামাইজেশন, ইত্যাদি নিয়ে বাংলাদেশী বহু গবেষক রেগুলার কাজ করে যাচ্ছে।

অতএব, এদেরকে খুঁজে সামর্থ্য এবং যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব দেওয়া লাগবে। কমিটির ব্যাপারেও আমি কিছু প্রশ্ন রেখে যাই। কেনই বা জাস্ট ১০-১২ জন লোকের উপরেই শিক্ষা সংস্কারের সম্পূর্ণ বোঝা চাপানো হচ্ছে? এখানে বিভিন্ন ভাবে আরো প্রিশাইসলি কাজের সুযোগ তো ছিলই।

আমার মতামত হচ্ছে, শিক্ষা সংস্কার নিয়ে সেক্টরভিত্তিক কয়েকটা উপকমিটি হতে হবে। তারা যাচাই-বাছাই করে একটা মূল কমিটির কাছে সেক্টরভিত্তিক প্রস্তাবনা পেশ করবে।

এই মূল কমিটিতে সব ধরণের লোক রাখা লাগবে। ইতিহাসবিদ থেকে শুরু করে কৃষক পর্যন্ত। কৃষক কেন থাকবে? কারণ, নতুন কারিকুলামটা এমনো হওয়া লাগবে যাতে আমাদের লাইফলাইন কৃষিকে আবারো উচ্চতায় আনা যায়। এখানে কৃষক বলতে অবশ্যই কৃষি-সংক্রান্ত শিক্ষাবিদই বুঝানো হচ্ছে। এরকমটা প্রতিটা সেক্টরের জন্যই।

এই কমিটি একটা এপ্রুভাল কমিটির মত কাজ করবে, প্রস্তবানা যাচাই করবে, ফ্যাক্টস দেখবে, সমাজ-সংস্কৃতি-মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক কিনা দেখবে, দেশব্যাপী বিভিন্ন ডায়ালগের মাধ্যমে পরিচিত করাবে। আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডের সাথে যায় কিনা সেটাও দেখতে হবে। মোদ্দাকথা, এইটা একটা ডায়নামিক কমিটি হবে, শিক্ষা সংস্কার কমিশন হিসেবে কাজ করবে। 

এইটা একটা দীর্ঘ প্রসেস। একটা ১০-১২ জনের কমিটি দিয়ে দায়সারা ভাবে যদি একমাসে রিপোর্ট পাবলিশ করে কাজ শেষ করে ফেলে, তবে কিছুই হবে না। পুরা শিক্ষাব্যবস্থাটাই পঁচে গেছে বিভিন্নভাবে, সংস্কারও তাই টপ টু বটম হতে হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ