লেখা তরজমা

চেনাব নদীর পাড়ে

 

চেনাব নদীর পাড়ে
সাজ্জাদুর রহমান

নদীর সাথে ভালোবাসার এক গভীর সম্পর্ক আছে। আঁকাবাঁকা নদীর মত ভালোবাসার গতিপথও তো আঁকাবাঁকা! বিষয়টা গাণিতিক হিসাবে বুঝাই। আচ্ছা, এখানে ভালোবাসা বলতে আমি সবধরণের সম্পর্ককেই বুঝাচ্ছি, শুধু একজন ছেলে-মেয়ের মধ্যে যা হবে সেটা না। ভালোবাসা তো কত রকমই হয়। একটা প্রশ্ন তো থেকেই যায়, পিউরেস্ট ভালোবাসার ফর্ম আসলে কোনটা? দুনিয়ার সব ভালোবাসাই দেখেন, সবই দেওয়া-নেওয়ার সম্পর্ক। কিছু দেওয়া তাতো কিছু পাওয়ার আশাতেই। একপাক্ষিক বলে কিছু নেই। এই ব্যাপারগুলো বলা ম্যাটেরিয়ালিস্টিক ভালোবাসাগুলা বুঝিয়েই। একপাক্ষিক ভালোবাসার মাধ্যমে আপনি প্রতিদান হিসেবে নিজ প্রশান্তি পাচ্ছেন, নিজের ভ্যালিডিটি পাচ্ছেন, নিজেকে বুঝ দিয়ে রাখতে পারছেন। জগতে এরকম মানুষের তো অভাব নাই যাদের এতটুকুও নাই! এই জিনিসটাও একটা লজিক্যাল ফ্যালাসী। অন্য কারো নাই মানে আপনার কেন থাকবে না? অন্য কেউ পারে নাই বলে আপনি কেন সর্বোচ্চটা পাওয়ার জন্য লড়বেন না? এইযে এভাবে অন্যের সাথে তুলনায় নিজের চেষ্টাকে দমাইয়া রাখা, এটা মানুশ হিসেবে আমাদের ক্ষমতাকেও লিমিট করে। অসাধ্য বলে আসলেও কিছু আছে?

ভালোবাসায় ছিলাম। পিউরেস্ট ফর্ম হচ্ছে সেটাই যেখানে কোনো প্রতিদান আপনি আশা করেন না। আপনি খোদাকেও ভালোবাসেন তার করুণা, রহম পাবার আশাতেই। কিন্তু খোদার ইবাদত না করলেও তিনি আপনাকে ছাইড়া দিচ্ছে না। আপনাকে আগলাইয়া রাখতেছে, রক্ষা করতেছে, খাওয়াচ্ছে, বাঁচাইয়া রাখতেছে, এরচেয়ে পিউরেস্ট আর কি হইতে পারবে! বাকিসব ভাবেন, দেখেন, কিছু দিচ্ছেন বা পাচ্ছেন। যদি এরপরেও কোনো পিউর ফর্ম চান, সেটা হবে নবী মোহাম্মদ (সাঃ) এর ভালোবাসা তার উম্মতের প্রতি। আনজানা, আনদেখা একদল লোকের জন্য তিনি হাজার বছর আগেই দোয়া মাঙছেন একের পর এক, তাদের যেন ধ্বংস না করা হয় তা নিয়া দোয়া করছেন। শেষে গিয়ে আরেকটা হইতে পারে সেটা সন্তানের প্রতি বাবামার ভালোবাসা কিংবা তাদের প্রতি সনফানের ভালোবাসা।

প্রশ্ন থাকে না যে আপনি আসলে ভালোবাসেন কেন? ভালোবাসা আপনাকে ভ্যালিডেশন দেয়, বাঁচাইয়া রাখে, জীবনে একটা উদ্দেশ্য দেয়। আপনি যাকে ভালবাসেন, যেই জিনিসটাকে ভালোবাসেন, তার জন্য সবই করতে চান, সব নিংড়াইয়া দিতে চান, সব ত্যাগ করতে চান, সব ভুল করতে চান। বাংলায় যে বলে আকাশের চাঁদ আইনা দিবে, কেন বলে? চোখ বন্ধ করে ভাবেন, দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর জিনিসটা কি? চাঁদের মত অপূর্ব, গুলশান জিনিস আর কই আছে, কি আছে? কিন্তু পূর্ণিমা রাতে সেই চাঁদের দিকে তাকাইয়া ঠিকই আপনি ভালোবাসার কথা ভাবতে বসেন। চাঁদ সুন্দর, তারচেয়েও সুন্দর আপনার কাছে আপনার ভালোবাসার একছত্র হাসি, একটা কথা, একবার তাকানো, দুইবার চোখের পলক, এরকম সবই! আপনি চাঁদটাকে পাশে বসায়ে জিনিসটাকে আরো মাহার্ঘ্য করে তুলতে চান। খোদার দুই সৃষ্টির মধ্যে করতে চান তুলনা। এছাড়াও মাটির চাঁদ আর আকাশের চাঁদ দুইটারে বারবার ঘাড় ফিরাইয়া উপর-নিচ করে দেখতেও তো ঘাড়ব্যথা করেই!

যাক, এইসব বাচ্চাদের আলাপ। এই লেখাটা আমি অনেকদিন ধরেই লিখতে চাচ্ছিলাম, সবকিছুই গুছানো ছিল। এখন লেখতে গিয়ে কোথায় থেকে কোথায় চলে যাচ্ছি। ভালোবাসার ব্যাখ্যা করা আমার কম্ম না। তাকী উসমানী একটা কথা বলল,

Mohabbat Kya Hai Dil Ka Derd Se Mamoor Ho Jana

Mata-e-Jam Kis Ko Sonp Ker Majboor Ho Jana

এইটার সোজা বাংলায়নে যাই। তিনি বলতেসেন,

ভালোবাসা কি আসলে সেটাই যার মাধ্যমে দিল দরদ (ব্যথা) দিয়ে পূর্ণ হয়?

ভালোবাসা কি সেটাই যেখানে আত্মকে অন্যের হাতে সমর্পণ করে অসহায় হতে হয়?

তিনি আরো বলতেছেন,

Qadam Hain Rah-e-Ulfat Mein To Manzil Ki Hawas Kesi

Yahan To Hai Aan Manzil Thankan Se Chor Jana

Yahan To Ser Se Pahle Dil Ka Soda Sahert Hai Yaroo

Koi Asan Hai Kia Ser Maad-o-Mansor Jo Jana

সহজ বাংলাতে,

ভালোবাসার পথে পা বাড়ায়ে মনযিল কেনো খুঁজো

মনযিলও তো আজ ক্লান্ত এ পথ মাড়িয়ে, তা কি জানো না?

এখানে জীবনের আগে দিলের সওদা হয়, এটাই শর্ত!

মনসুর কত সহজে প্রেমে মজে ঝুলে গেল, সবার জন্যই কি তা?

বাংলা অনুবাদ যুতসই হয় নাই, একবারের চেষ্টা। কয়েকবার ঘষামাজা হইলে ব্যাপক দাঁড়াবে। আমার মর্ম হচ্ছে এখানে লাইনগুলার ব্যথা খুঁজে আনা। আমরা ভালোবাসা চাই সুখের জন্য। রবীন্দ্রনাথ কইল একবার,

এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না

শুধু সুখ চলে যায়, এমনি মায়ার ছলনা!

ভালোবাসাটা দাঁড়ায় ব্যথায়, কষ্টে, ত্যাগে। সুখ তো মরিচীকার মত, চোখ বাড়ালেই কিন্তু হাত বাড়ালেই দূরে। তাই সুখকে পাইতে আপনি সব দিতে চান। পৃথিবীর যত সুন্দর, যত সুখ, যত বেদনা, কষ্ট, হাহাকার, হাসি, কান্না, সময়, আর সব ভালোবাসা দিয়া হইলেও মানুশ চায় একদন্ড সুখের ছোঁয়া পাইতে। এই ভাবনাটাও নতুন না। তাকী উসমানীর গযলটা শুনতে শুনতে কিছু লাইন মাথায় কিলবিল করতেছিল এক শুক্রবারের সকালে। মতিঝিল থেকে সকাল ছয়টায় বাসে উঠলাম বাসায় ফেরার জন্য। আমা পকেট ছিল ফাঁকা, সাকুল্যে ছিল মোটে ৬৮ টাকা! বাসভাড়া ছিল ৮০ টাকা। বাসে উঠে বসে নোটপ্যাড খুলে কিছু লেখাজোখায় মন চলে গেল। তখন লিখলাম,

অ-নামিকা,
তোমার জন্য হাজার রাতের একটি তারাফুল
তোমার জন্য সর্ষেভেজা শুভ্র এক দুপুর
তোমার জন্য রাত্রিশেষে সতেজ সুবহে সাদিক
তোমার জন্য কুরবান হোক আমার সকল তাগিদ
তোমার জন্য কৃষ্ণচূড়ার রক্তলাল চাদর
তোমার জন্য চায়ের বিকেল, সমীরণের আদর
তোমার জন্য হলদে ফাগুন, কাঁপুনি আসা শীত
তোমার জন্য উর্দু গযল, বাংলা ভাটিয়ালী গীত
তোমার জন্য সূর্যের গরজ, বৃক্ষরাজির ছায়া
তোমার জন্য সমুদ্র সফেন, পাহাড়ে আছে মায়া
তোমার জন্য পাতার ফাঁকে ঠিকরে আসা রোদ
তোমার জন্য বইয়ের ফাঁকে ভাজ করা চিরকুট
তোমার জন্য শিশিরভেজা এক সকাল সুমধুর
তোমার জন্য আম আটির ভেঁপু, রাখালিয়া সুর
তোমার জন্য বহতা নদীর উদাস আরেক দুপুর
তোমার জন্য চাঁদের কায়া, ছায়ায় ঢাকা পুকুর
তোমার জন্য টুকরো শোক, শতেক সুখের আগর
তোমার জন্য প্রবাহিত আজ মুহাব্বাতের নহর।

লেখাটা শেষ করেছিলাম মগবাজারের জ্যামে বসে, চারিদিকে সুন্দর মৃদু ঠান্ডা বাতাস, রাস্তায় অযথা কোনো আওয়াজের বালাই নেই, মানুষজনও সক্কাল সকাল খুবই চুপচাপ, কার অফিসের তাড়া নাই, বাস নিজস্ব গতিতে দুলকি চালে চলছিল, হুটহাট জ্যামের মিনিটকয়েক দাঁড়ায়ে থাকা, তারপর আবার চলা। জীবন সুন্দর ছিল, কবিতা লিখতে পারতাম, এক বসাতে বিশ-ত্রিশ লাইন ব্যাপারই ছিল না, ধুমধাম অ্যাক্রোস্টিক নামায়ে ফেলতাম!

যাক, আমরা ভালোবাসার সংজ্ঞায়নে ছিলাম। মনসুর আসলেই ঝুলে পড়ে নাই, সে ছিল খোদার প্রেমে মগ্ন। মনসুরের মত কেউ খোদাকে ভালোবাসছিল কিনা, সেটা স্বীকৃতি দেবার মত কিছু না! কিন্তু মনসুর নিজের সবটা দিয়েই খোদাকেই চাইসিল। ভালোবাসার এখানেই পরিপূর্ণতা। নিজের সবটা দিয়ে দেওয়া। আমি উপরের কবিতাটায় এরকম কিছুরই একটা প্রতিফলন ঘটাইতে চাইসিলাম। নিজের সবটা দেওয়া কিভাবেই বা এতটা সহজ হবে! সব আনন্দ, উল্লাস, কামনা, বাসনা ত্যাগ করে সব দুঃখ  ব্যথাকে কাছে টানা, এতটাই সহজ কেনো হবে?

সুফী বাবা শেখ ফরিদ কিছু কথাবার্তা বলল আবার এইখানে,

Kaaga re kaaga re mori itni araj tose Chun chun khaaiyo maans

Kaaga re kaaga re mori itni araj tose Chun chun khaaiyo maans

Arajiya re khaaiyo na tu naina more Khaaiyon na tu naina mohe

Piya ke milan ki aas

Khaaiyon na tu naina more Khaaiyon na tu naina mohe

Piya ke milan ki aas

তিনি বলতেসেন,

কাক, ও কাক, শুনো!

তোমার কাছে একটাই ইচ্ছা

মরার পরে আমার মাংস তুমি বেছে বেছে খাইয়ো!

শুধু আমার চোখ দুইটাকে বাঁচায়ে রাইখো,

আমার পিয়ার সাথে মিলনের আঁশ সেখানে বেঁচে আছে!

মৃত্যুশয্যায় থেকে বাবা শেখ ফরীদ এই বিখ্যাত কয়েকটা লাইন লিখসিলেন। জিনিসটা যেহেতু উর্দু শায়েরী, তাই লেখাটাও শায়েরী বলার ঢঙেই রাখা হইল। লাইনগুলার আক্ষেপ ধরতে পারতেছেন? বুঝতে পারতেছেন আকুলতা? উর্দু বুঝলে ভালোভাবে পারা যাবে, বাংলা অনুবাদটা যথেষ্ট ঝালাই হয় নাই। জেনারেশনের অধিকাংশ হয়ত মোহিত চৌহানের কন্ঠে গানটা শুনেছে। লাইনগুলো মারাত্মক। এখানেই প্রশ্ন আসে, ভালোবাসা কতদিন, কিভাবে বেঁচে থাকে?

এই প্রসঙ্গে আরো দুইটা লাইন ভালোভাবেই চলে আসতে পারে। জানিনা, ভরুণ গ্রোভার এটা যখন লিখছিলেন, তখন কি ভাবতেছিলেন, কিন্তু একটা মাস্টারপিস জন্ম নিয়েছিল।

Ki aankhon mein teri, Raat ki nadi,

Yeh baazi to haari hain, Sau feesadi.

এইটার বাংলায়নের পিছনে আমি প্রায় বছরখানেক সময় দিয়েছিলাম, পারফেক্ট করেছি, এবং আমার দুইটা প্রিয় লাইন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তোমার চোখে যখন দেখি শান্ত নদী বয়,

আমায় তখন ভেবে নিও নযরানা না হয়!

উপরের দুইটা পংক্তিতেই ভালোবাসার জন্য সবকিছু করবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে। লাইনগুলো অনেক ব্যাখ্যার দাবী রাখে। একেকটা বাংলায়নের পিছনে থাকে সুন্দর সুন্দর কিছু ছট গল্প। গানের লাইনে ছিল রাত কি নদী আর চোখের কথা, আমি অনুবাদ করলাম শান্ত নদী দিয়ে। এখানে আমার ফিলোসফিতে এমন একটা অবস্থা এসেছে যেখানে ভালোবাসার মানুষটার জন্য কতটুকু ত্যাগ স্বীকার করা যায়? ধরেন, আপনার প্রিয় ব্যথায় রয়েছে, কষ্টে রয়েছে, তার জন্য আপনি সর্বোচ্চ কি করতে পারবেন? এখানে শান্ত নদী শব্দদ্বয় এরকমই একটা অবস্থার পরিচায়ক । রাতের নদী শান্ত থাকে, পিয়ার চোখে নিঃশব্দে কান্নার পানি ঝরে, পিয়ার চোখে রাতের নদী, কান্না, নদী, পিয়া! নদী কিভাবে কিভাবে ভালোবাসার সবখানেই ঢুকে যাচ্ছে!

লেখাটার নাম চেনাব নদীর তীরে। এটা একটা পাঞ্জাবী উপকথা নিয়ে লেখার ভাবনা থেকেই দেওয়া ছিল। চেনাবের পাড়ে পাঞ্জাবের গুজরাট গ্রামে বাস করত এক ষোড়শী। সারাদিন নদী দেখে কাটানো, সকালে হয়ত সেখানে বাসন-কোসন মাজা, বেলাকরে কাপড় ধোয়া, খাবার পানি নিয়ে আসা, কুমার বাবাকে সাহায্য এসবই ছিল তার নিত্যদিনকার কার্যাবলী। তার নাম ছিল সোহনী। একবার সেই এলাকায় ব্যবসার জন্য উজবেকিস্তান থেকে ইযযত বেঈগ আসলেন। সোহনীর প্রেমে মজলেন, সোহনীও ঈযযত বেঈগকে ভালোবেসে ফেলল। বেগ ব্যবসা ছেড়ে দিলেন। রাখালের বেশে রয়ে গেলেন গুজরাটে, চেনাবের অপর পাশে। মহিষ চড়াতেন বলে তার নাম হয়ে গেল মাহীওয়াল।

তাদের কথা এলাকায় জানাজানি হয়, এক কুমার পরিবারে মেয়েটার বিয়ে হয়ে যায়। কুমারের মেয়ের যে বাইরে বিবাহ বসা নিষেধ! তবুও কি প্রেমিকের অব্যক্ত আশা থেমে থাকে নদীর স্রোতে? সোহনী প্রতি রাতে আগুনে পুড়ানো মাটির বড় পটে করে নদী পার হয়ে মাহীওয়ালের সাথে দেখা করতে যেত। এ কথা তার ভাবী জেনে যায়।আর সুযোগ খুঁজতে থাকে কিভাবে প্রতিশোধ নেওয়া যায়। এক রাতে সে মাটির পট বদলে দেয়! আগুনে পুড়ানো পটের জায়গায় দিয়ে রাখে একটা কাঁচা মাটির পট! এরপর কি হয়? তা নিয়েই রয়েছে সুন্দর একটি বেদনামুখর গান।

সোহনী নদীতে নেমে যখন বুঝল পটটি পুড়ানো হয়নি তখন বলছিল,

paar chanaan de disse kulli yaar di
ghaiya ghaiya aa ve ghaiya

চেনাবের অপর পাশেই আমার পিয়ার ঘর

চলো মাটির পট, আমাকে নিয়ে চলো!

পট উত্তর দিল,

 raat haneri nadi haahaan maardi

aiye aiye haan ni aiye

kacchi meri miṭṭi kaccha mera naam ni

haan main na-kaam ni

ho main naakaam ni

দেখো এই মৃত্যুসম গভীর রাতে,

নদীর উত্তাল ঢেউ আমাদের চারপাশে

ও জেদী মেয়ে, একগুঁয়ে হয়ো না!

আমার মাটিতো কাঁচা, গলে যাওয়াই আমার গন্তব্য

আমী হীনবল এবং অসামাল, তোমাকে কিভাবে পার করব!

সোহনীর কন্ঠে আকুলতা শুনা যায়, সে বলে,

wekh chhallaan paindiyaan nah chhaḍḍeen dil ve

ajj maheenwaal noon main jaana mil ve

haan aiho dil ve

দেখো, বড় বড় ঢেউয়ের উদ্ধতা বেড়েই যাচ্ছে,

তুমি সাহস হারাইয়ো না

আমাকে মাহীওয়ালের কাছে যেতেই হবে এই রাতে

অন্যথা দিল তো মানছে না!

সোহনী বুঝতে পারে যতকিছুই করুক, সে পৌঁছুতে পারবে না মাহীওয়ালের কাছে। তার সর্বোচ্চটা দিয়েও, সবকিছু ত্যাগ করেও সে পারবে না মাহীওয়ালের সামনে দাঁড়াতে, পারবে না তাকে ছুঁয়ে দেখতে! তখন সে বলে,

yaar noon milegi ajj laash yaar di

ghaiya ghaiya aa ve ghaiya

আজ রাতে, পিয়া আমার লাশকে বরণ করবে!

চলো মাটির পট, আমাকে নিয়ে চলো!

অপরদিকে মাহীওয়াল সবই দেখছিল অপর পাশ থেকে। নদীর উত্তাল স্রোত আর রাতের গভীর অন্ধকার করেছিল তার দৃষ্টিকে সীমাবদ্ধ। দেখেও যেন দেখা হচ্ছিল না সোহনীকে। নদী অবশেষে যখন সোহনীকে বরণ করে নিল, মাহীওয়ালও নিজেকে একই পানিতে বিসর্জন দিল। তাদের ভালোবাসা কি মৃত্যুর মাধ্যমেই পরিপূর্ণতা পেল?

এখানে একটা মজার ব্যাপার আছে। দুনিয়ার যত এরকম ঘটনা রয়েছে সব কেনো মৃত্যু দিয়েই শেষ হচ্ছে? রোমিও-জুলিয়েট, শিরি-ফরহাদ, লাইলী-মজনু, আরোও অন্যান্য উপকথায় যা পাওয়া যায় সবই অবধারিত ভাবে মৃত্যু দিয়েই পূর্ণতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। ভালোবাসার পুর্ণতা কি তাহলে জীবনের শেষ পরিণতিতেই?

কথাবার্তা তো অনেক বলে ফেললাম। কি লেখতে এসে কি লিখলাম, কোথা থেকে কোথায় গেলাম, কি থেকে কি হল, কোথায় উপসঙহার টানলাম, কিছুই ঠিক নাই। আমার মনে হচ্ছে এখানে শেষ করা উচিত। শেশ করলাম। আরেকটা মজার জিনিস, পুরা লেখাটাই খানিকটা অবচেতন মনেই লিখলাম, হয়ত। আমি জানতামও না, পরিকল্পনাও ছিল না এই লাইনের পর এই লাইন আসবে, দিতে হবে। জাস্ট কী-বোর্ড চাপলাম, এইসব বের হয়ে আসল! মোদ্দাকথা ভালো লাগল অনেকদিন পর কিছু প্যাচাল লিখতে পেরে।

আপনাদের ভালোবাসার জন্য শুভকামনা! 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ