যে গল্প শেষ করতে নেই
সাজ্জাদুর রহমান
সমাপ্তি লেখার সাথে সাথেই হাত থেকে কলম খসে
পড়ল সবার। কংক্রিটের ফ্লোরে কলমের টুংটাং শব্দ তার কানে আসন্ন বিপদের আগে আবহ সঙ্গীতের
মত শুনাল। চোখ প্রশস্ত করে চারিপাশে ঘুরিয়ে সন্তর্পণে কাগজগুলো ভরে নিল ব্যাগে। যত
দ্রুত পারা যায় এখান থেকে বের হতে হবে। কেউ এসে পরার আগেই। কারণ, এই গল্পগুলো লেখা
বারণ ছিল।
পূর্ব ঘটনা
০১
“লেখক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। নিয়মিত গল্প লিখতে
হবে, পর্যাপ্ত সম্মানীও থাকবে। শুধু শর্ত একটাই। সমাপ্তি সবসময় নিয়োগকর্তার মনমত হতে
হবে”।
বিজ্ঞাপনটি দেখে থমকে দাঁড়াল শফিক। কিছুদিন
আগে ফেসবুক স্ক্রল করতে গিয়েও একই জিনিস দেখেছিল। কোনো দুষ্ট ফাঁদ হবে ভেবে আগায়নি।
তবে মনে খচখচানি ছিল যদি সত্যি হয় তাহলে তার মাসিক বইগুলো কেনার একটা ব্যবস্থা হয়ে
যায়। তার গল্প লেখার হাত নেহাত খারাপ নয়। এখন নীলক্ষেতের মোড়ে পাশাপাশি কয়েকটি চিকার
মত লাগানো দেখে একটু বেশিই অবাক হল। যদি আসল না-ই হয় তবে কেন এভাবে প্রকাশ্য প্রচার
করবে? একটা চান্স নিয়ে দেখাই যায়। তাই নিচে লেখা নম্বরটা টুকে নিয়ে রাস্তা পার হয়ে
আজিমপুর দিক ধরে তার মেসের দিকে হাঁটা দিল।
তার মেসটা মূলত লালবাগে। লালবাগ কেল্লা পার
হয়ে পশ্চিমে হাঁটতে থাকলে দশ মিনিট পরেই পাওয়া যাবে খান বাহাদুর মসজিদ। সেখান থেকে
বামে গেলেই তার মেস। ফোন দিয়ে জানতে পেরেছিল নিয়োগকর্তার ঠিকানা কাছেই। কিন্তু অবাক
ব্যাপার হচ্ছে সে ব্যক্তিটি তার মেসেরই দুতলায় থাকে। তাই দেরী না করেই কোনোমতে খাবারটা
খেয়ে সে দেখা করতে গিয়েছিল। একইসাথে কাজও পেয়ে গেল। শাহবাগ যেতে হবে, সেখান থেকে র্যান্ডমলি
আরো ছয়জনকে বাছাই করতে হবে। তারপর তাদেরকে নিয়ে জাদুঘর ঘুরে এসে সবাইকে গল্প লিখে দিতে
হবে। গল্পটা হবে জাদুঘরকেন্দ্রিক তবে সমাপ্তিটা বিজ্ঞাপনের মতই লোকটি থেকে আগেই জেনে
নিতে হবে।
“কি এক অদ্ভুত খেয়াল রে বাবা!” বলে উঠল রাফি,
প্রস্তাব শুনে মুখ চওড়া করে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। চায়ে ডুবানো বিস্কুটটা ভেঙে টুপুস
করে কাপে আত্মহত্যা করল। আসলে শফিক অর্ধদিন দাঁড়িয়ে থেকেও লোকটার প্রস্তাবানুযায়ী কাউকে
রাজি করাতে পারছিল না। তাই বাধ্য হয়েই বন্ধুদের কাছে আসা। যদি ওরা রাজি হয়। বিনিময়ে
টাকাও তো পাবে, কাজটাও একদিনেরই। হলে গিয়ে মোটামুটি পাঁচজনকে পেলেও রাফিকে ডেকে আনতে
হল মগবাজার থেকে। সবাই একসাথে যাওয়ার ইচ্ছাতেই আগে চা খেয়ে চাঙা হওয়ার জন্যই তারা টিএসসিতে এসেছিল। কিন্তু রাফি সব শুনে কেমনতর তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য
শুরু করল। শফিকের মনে হল যেন সে উলুবনে মুক্তো ছড়িয়েছে। এত সহজে এত টাকা ইনকাম করার
সুযোগ কে দেয় বাবা! এক গল্পের জন্য একেবারে এক লক্ষ করে দিবে!
“জানিস, জাদুঘর সম্পূর্ণটা ঘুরতে ৫-৬ ঘন্টা
লাগবেই” টিকেটের টাকা দিতে দিতে বলল সোহেল। “চল, তাহলে ভাগ করে নিই, সে তো বলে নাই
পুরো জাদুঘরকেন্দ্রিক লিখতে হবে। আমরা একেকজন একেক অংশ নিয়েই লেখলাম। পুরাটা ঘুরার
এনার্জি নাই” হাঁটতে হাঁটতে বলতে লাগল আরিফ। “ভালো বুদ্ধি দিছিস, এটাই করি তাইলে”,
শফিকের এই কথাতে বাকিরাও সম্মতি দিলে বুদ্ধিমতই ওরা চারতলাবিশিষ্ট এই ভবনকে সাত ভাগে
ভাগ করে নিল।
০২
“এ যেন জাদুঘর নয় যেখানে নির্জীব বস্তুগুলো
ঠায় দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীদের প্রতীক্ষায় দিন গুজরান করে। সব যেন অদ্ভুতেড়ে ভাবে জীবন্ত।
মিষ্টি সকালেও রফিকের শরীরজুড়ে তাই একটা ছমছমে ভাব ছেয়ে যাচ্ছে। সে এখানে আসতে চায়নি,
বিশেষ অনুমতিতে এখানে অবশ্য গুটিকয়েক লোকই আসতে পারে। সে পেয়েও চায়নি কিংবা তাকে চাইতে
দেওয়া হয়নি। একেকটা গলি পার করছে আর বারবার ফিরে তাকাচ্ছে। নিঃসীম অন্ধকারে সব কেমন
জর্জরিত। অথচ বাইরে সে দেখে এসেছে সকালের ফুটফুটে রোদ। হয়ত আন্ডারগ্রাউন্ড বলে তাই!”
এটুকু লিখে থামল রাফি। জাদুঘর ঘুরে এসে যখন লেখা শুরু করল তখন তো সব গুছানোই ছিল। এখন
কেন জানি সব তাল পাকিয়ে যাচ্ছে। কিছুতেই শুরু, মধ্য এবং শেষের মাঝে সামঞ্জস্য হচ্ছে
না। শেষটাকে ধরেই যদিও সবটুকু করতে হবে। যতটুকু সহজ ভেবেছিল সবাই ঠিক ততটাও সহজ নয়।
আসলে স্বাধীনতা ছাড়া যেকোনো কিছুই অনেক কঠিন হয়ে যায়, সে আজ সেটা বুঝতে পারছে।
শুধু সম্মানীই নয়, পর্যাপ্ত চা-কফির ব্যবস্থাও
রয়েছে। তার বুঝে আসছে না সাতটা গল্প দিয়ে কি এমন হবে যে প্রতিটার দাম লোকটি দিবে এক
লাখ টাকা! সমস্যা হচ্ছে কি অথবা কেন এই উদ্যোগ তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা যাচ্ছে না।
কারণ, লোকটি তাদের বাসায় রেখে সবাইকে আলাদা ঘরে তালা মেরে আটকে রেখে গেছে। এমনকি সাথে
ফোন কিংবা ঘড়িও রাখতে দেয়নি। টাকাতো কম নয়, তাই সবাই বিনাবাক্যব্যয়ে সব মেনে নিয়েই
যার যার কাজে লেগে পড়েছে। চোখে ভীষণ উজ্জ্বল স্বপ্ন, এক গল্পতেই বড়লোক!
এক মগ কফি নিয়ে সে চেয়ারে গিয়ে আবার বসল।
যাচ্ছে-তাই লেখতে সে চাচ্ছে না, উপর্যুক্ত একটা গল্প না হলে ইনকামটাও হালাল হবে না
সেটাও তাকে ভাবাচ্ছে। তার লেখার মূলভাব যদিও সবসময় থাকে ট্র্যাজেডি, ভাবল কোনোভাবে
যদি জাদুঘরে ট্র্যাজেডি আনা যায়।
শফিক ভেবে পাচ্ছে না লোকটা কেন সবাইকে আটকিয়ে
কেন শুধু তাকেই চাবির ছরা দিয়ে গিয়েছে। আর বলেও গিয়েছে ঠিক একদিন পরে যেন সবাইকে খুলে
দেয় এবং নিজেও যেন বের হয়ে যায়। একদিনের মধ্যে অবশ্যই গল্পটি শেষ করতে হবে। যদি শেষ
না হয় তবে যতটুকু হয়েছে ততটুকুই সই। মোদ্দাকথা একদিনের বেশী কোনোভাবেই এই ফ্ল্যাটে
তাদের থাকা যাবে না। যদিও তার পুরোটা সম্পন্ন হয়েছে। নিজের প্রতি মনে মনে কৃতজ্ঞতা
জানাল, নিজ যোগ্যতার মৃদু প্রশংসাও করল। ঘড়ির কাঁটা টিক টিক করতে করতে ১০ এর ঘরে এসে
থামল। তারা বেলা ১২টায় শুরু করেছিল। প্রায় অর্ধদিন গত হয়ে গেছে, সে ভাবল একটু বাইরে
থেকে ঘুরে আসা যাক।
অদ্ভুতভাবে সে কোনো দরজা খুঁজে পাচ্ছে না।
সলিড দেয়াল ব্যতীত যেন কিছুই নেই। চারদিক হাতড়েও লাভ হচ্ছে না। তার নিজেকে প্রচণ্ড
অসহায় লাগল। স্বস্ত্বির জন্য পানি পান করবে বলে গ্লাস ধরতেই যেন কিছু একটা খসে পড়েছিল।
একটি চিরকুট, উপরে লেখা সার্বিক নির্দেশনা। তার চোখদুটো সরু হয়ে আসল। ধীরে ধীরে চিরকুটটি
খুলতেই উৎকট গন্ধে তার নাক-মুখ কুঁচকে আসল। হঠাৎ মাথাধরাতে মনে হল যেন অজ্ঞান হয়ে যাবে
কিন্তু অজ্ঞান যে হয়নি সেটাও বুঝতে পারল। ধাতস্থ হওয়ার জন্য তৎক্ষণাৎ ফ্লোরে শুয়ে মস্তিষ্কে
ভাবনাগুলো জড়ো করার চেষ্টা চালাল।
কফিতে প্রথম চুমুক দিয়েই যেন অন্য দুনিয়ায়
চলে গিয়েছিল রাফি। কফির স্বাদে নয়, মাথার যন্ত্রণায়। অনেক্ষণ যাবত কাজ করার কারণে এরকম
হচ্ছে ধরে নিয়ে সে সত্ত্বর কফিটা শেষ করতে চাইল। কফিতে তার উপশম আছে, ঘ্রাণ পেলেই হাজার
কষ্টেও মন মূহুর্তেই আন্দোলিত হয়। মাথার যন্ত্রণাটা ক্রমান্বয়ে বাড়তেই থাকল। এই উলটো
প্রভাবেই কারণে সে বদ্ধ ঘরের কাজের চাপকে দুষল। ঠিকমত যদিও কিছুই ঠাওরে উঠতে পারছে
না সে তবুও কোনোমতে গল্পের ইতি টানতে চাইল। মাথা ঢুলতে ঢুলতে কোনোভাবে কাগজগুলো সে
ভাজ করে গুছাল। শরীর ছেড়ে দিয়ে অতঃপর সে চেয়ারেই ঢলে পড়ল।
শফিক বুঝতে পারল কোনো গণ্ডগোল হচ্ছে। চোখ-মুখ
ধুতে যাবে এমন সময় পানিতেও সে একই গন্ধটা পেল। ঠিক তখনি সন্দেহের উদ্রেক হল যে এটা
স্বাভাবিক কিছু না। বরং এই গন্ধ যেন রয়েছে পুরো রুম জুড়েই। পকেটে থাকা রুমাল দিয়ে কোনোমতে
চোখ মুছে কিছুটা ধাতস্থ হল। এতক্ষণে তার নজরে দরজা ধরা পড়ল। তারমানে দরজা সারাক্ষণই
ছিল কিন্তু একটু আগে সে দেখতে পায়নি কেন? সন্দেহ তীব্রতর হল। চিরকুটে থাকা গন্ধটায়
সব সংকটের মূল ততক্ষণে তার বুঝা গয়ে গেছে। পরক্ষণেই ভাবল, শুধু সে-ই নয়, তার বাকি বন্ধুদের
সাথে নিশ্চয়ই এরকম কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাতল ঘুরিয়ে বেরিয়ে প্রথমেই পাশের ঘরে
থাকা রাফিকে নক দিল। কোন টু শব্দ-ও এল না। খারাপ ধারণাগুলো বারংবার দূর করতে চাইলেও
আশঙ্কাতে তার মন আচ্ছন্ন হল। এতক্ষণ খেয়াল করেনি যে দরজায় আসলে চাবিটা ঝুলানোই। দ্রুত
দরজা খুলে দেখল রাফি চেয়ারে নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে আছে, কাছে গিয়ে গলায় হাত দেওয়ার সাথে
সাথেই বন্ধুর হাত থেকে কলম পড়ে যাওয়ার দৃশ্যও সে দেখতে পেল। অজানা বিপদাশঙ্কায় তার অন্তরাত্মা দাপরাতে থাকল।
একই গন্ধটা রাফির রুমে পেয়ে সে নিশ্চিত হল
সবার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মানে নির্ঘাত মৃত্যু। এতক্ষণে তার শর্তের মাহাত্ম্য
বুঝে আসল। প্রিয় বন্ধুর মৃত্যু। লোকটি বলেছিল গল্পের শেষে অবশ্যই একজন প্রিয় বন্ধুর
মৃত্যু দেখাতে হবে। সে কাউকে না ভেবেই কাছে থাকা রাফিকেই নিয়েছিল এবং লিখেছে রাসায়নিক
বিষক্রিয়ায় মৃত্যু ঘটবে।
শফিক সমাপ্তি করে আসলেও রাফির গল্পে তখনো
সমাপনী লেখা বাকী ছিল।
০৩
যা বুঝার শফিক ইতোমধ্যে বুঝে গিয়েছে। এটা
গল্প লেখার চাকুরী নয় বরং মরণচক্র। যে যেভাবে বন্ধুর মৃত্যু ঘটাবে বাস্তবে সেভাবেই
বন্ধুর মৃত্যু ঘটবে। ব্যাপারটা ঘটে যাওয়া না, লোকটি সেভাবেই ঘটাবে। বাকিদের অবস্থা
আঁচ করে দ্রুত কিছু করতে হবে ভেবে সে রাফির রুম থেকে বেরুল। অনেক কাজ, চক্রটি থামাতে
হবে।
প্রত্যেকটি দরজাই খোলা দেখে সে যারপরনাই
অবাক হল। লোকটি বলে গিয়েছিল সব ঘর আটকানো থাকবে। কিন্তু আসল তা না! যা আশা করেছিল সেটাই
হয়েছে সবার সাথে। একে একে সবার কাছে গিয়েই বুঝল তার সব বন্ধুই মৃত্যুনদীতে খেয়া ভাসিয়েছে।
ভয় পেলে চলবে না, হয় রহস্যের সমাধান নইলে
বাকি সবার মতই তার জন্যও মৃত্যু অপেক্ষা করছে। সে প্রথমটাকেই বেঁছে নিল। একদিন শেষ
হতে এখনো ঢের বাকী। গলিতে থাকা ঘড়িটায় চোখ ফিরিয়ে দেখে নিল ঘন্টার কাঁটা এখন ১২ এর
ঘরে। মধ্যরাত। সে তার রুমে আবার ঢুকল। কিছু একটা তো অবশ্যই থাকবে যা দেখে কোনো ফাইনাল
সিদ্ধান্তে আসা যাবে ভেবে সে চারপাশ খুঁজতে থাকল। রাফির কলমে এবং কাগজেও সে উৎকট গন্ধটা
পেয়েছিল। শার্টের হাতা দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে সে আবার কলম তুলে নিল। এক আছাড়ে ভেঙে ফেলল।
চোখ বিস্ফারিত হল যেন! কলমের ভেতরেই ছিল মাইক্রোরেকর্ডার চিপ! অর্থাৎ তারা এতক্ষণ সে
যা লিখেছে তা এই কলম থেকে শুনেই লিখেছে। সম্পূর্ণ গল্পটাই রেকর্ড করা! তাহলে এই বেনামী
লোক, বিজ্ঞাপন, লক্ষ টাকা এসবের উদ্দেশ্য কী!?
হঠাৎ যেন মাথায় বিদ্যুৎ খেলে গেল। কাগজ থেকে
পাওয়া গন্ধটা আবার শুঁকল। মনে হল যেন চৈতন্য হারাবে। দ্রুত ফেলে দিয়ে বুঝতে পারল কাগজে
কোন পদার্থ মেশানো যা প্রথমেই তাদেরকে অবচেতন পর্যায়ে বা এমন অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল
যে সবাই সম্পূর্ণ ম্যানিপুলেট হয়েছিল। তাই তারা যা শুনেছে হুবহু তাই লিখেছে এবং এজন্যই
সকলেই একইভাবে মারাও গিয়েছে। অনেক কষ্টে বোধশক্তি সে বাঁচিয়ে রাখল। যেভাবেই হোক এখান
থেকে তাঁকে বের হতে হবে। অন্তত যদি খাতা এবং কলমগুলো নিয়ে বের হতে পারে তাহলে এই সিরিয়াল
কিলারকেও ধরা যাবে। সবার খাতা এবং কলম নেওয়ার জন্য সে রুমের বাইরে পা বাড়াল।
০৪
জার্মানীর ফ্রাঙ্কফুর্টে বিশ্বের সবচেয়ে
বড় বইমেলা বসেছে। বাংলা ভাষা থেকে প্রতি বছর খুব বেশী বই না থাকলেও এবার একটি বই সবার
নজর কেড়েছে। অবশ্য সেটি কেউ কিনতে পারবে না, প্রদর্শনীর জন্য। বইটির আকর্ষণ হচ্ছে মৃত
লেখকদের চামড়া দিয়ে বাঁধানো। চামড়াগুলো তাদেরই যারা গল্পগুলো লিখেছিল!
পুনশ্চঃ
সবার খাতাগুলো জোগাড় করে মূল দরজা পেরিয়ে
রাস্তায় নামল শফিক। বিশ ঘন্টা যেন ছিল এক নরক সমান। জান নিয়ে ফিরতে পাওয়ার উচ্ছ্বাসে
সে কয়েকটি জোরশ্বাস নিল। মুক্ত বাতাসে নতুন করে বাঁচার তাগিদে সে রিকশা ডাক দিল। সে
তখনো জানে না তার হাতে থাকা কলম থেকে টপটপ রক্ত ঝরছে! তার নিজের রক্ত! গলা ছেড়ে হাত
বেয়ে যা কলম দিয়ে পড়ছিল!
সব শুনে স্তব্ধ হয়ে বসে রইল ইন্টারপোল ডিটেকটিভ
ইনস্পেকটর ফয়সাল আহমাদ। এই চক্রের খবর সে পেয়েছিল কিছুদিন আগেই। সামনে এগিয়ে কিছু করার
মত কোনো ক্ল্যু পাচ্ছিল না। এরই মাঝে চোখের সামনে এরা সফলও হয়ে গেল। তারা খবরও পেয়েছিল
কিভাবে ঘটনাগুলো ঘটবে কিন্তু কিছুই করতে পারেনি। পরের দফায় হেস্তনেস্ত করতেই হবে বলে
সে প্রতিজ্ঞা করল।
তবে এবার এই অপরাধীরা পুরো ভিন্নভাবে কাজ
করেছে। তারা শুধুমাত্র একজনকেই ম্যানিপুলেট করেছিল, শফিক নামক কাউকে। তার মাধ্যমেই
বাকিদেরকে নিয়ে আসা হয়েছিল। অবশেষে সবাইকে বদ্ধ কামড়ায় আটকে রেখে সেই শফিককেই আবারো
ম্যানিপুলেট করে সবাইকে হত্যা করা হয়। শুধুমাত্র তার কলমটিতেই রেকর্ডিং গল্প ছিল। তার
কাগজ এবং ঘরের সবকিছুতেই মূলত হাশিশ মেশানো ছিল। সবশেষে শফিকের মৃতদেহ একটি বিগ সাইজ
এক্সজস্ট ফ্যানের মাঝে পাওয়া যায় যেখানে তার শরীরের কিছু অংশ চামড়াহীন ছিল।
এসব পুরো পৃথিবী জানতে পেরেছিল যখন শফিকের
ধারালো কলম বাকিদের গলাতে ধার পরীক্ষা করছিল!
0 মন্তব্যসমূহ