লেখা তরজমা

জ্ঞানার্জনের স্বরূপ


জ্ঞানার্জনের স্বরূপ

মূলঃ ঈমাম যারনুজী (রহঃ)

তরজমাঃ সাজ্জাদুর রহমান


জ্ঞানার্জনের প্রকৃতি এবং যোগ্যতা

আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর জ্ঞানার্জন করা আবশ্যক”[1]। তবে মুসলিমদের জন্য জ্ঞানের সব শাখায় বিচরণ করা বাধ্যতামূলক নয়। বরং সেটুকুই অর্জন করতে বলা হয়েছে যা একজনের জন্য প্রয়োজনীয়। বলা হয়েছে যে, সবচেয়ে উত্তম জ্ঞান হচ্ছে সেটি যার মাধ্যমে একজন তার প্রয়োজন মেটাতে পারে এবং সবচেয়ে প্রশংসনীয় কাজ হচ্ছে জ্ঞানটিকে ধরে রাখা। তবে মুসলিমদের কর্তব্য হচ্ছে সব ধরণের প্রয়োজনীয় জ্ঞানের অনুসন্ধান চালানো। যেমন, নামাজ আদায় করতে হলে একজনকে এর বিধান সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকতে হবে খুশু-খুযুর[2] জন্য অর্থাৎ পরিপূর্ণ মনোযোগের সাথে সম্পন্ন করার জন্য। এ ধরণের ধর্মীয় জ্ঞানার্জন একজনের উপর এমনিতেই আবশ্যক বা আরোপিত হয়। তেমনিভাবে কোন দায়িত্ব পালন করার জন্য যেসব করতে হয় সেগুলোও এক প্রকারের দায়িত্বই এবং যে শর্তগুলো কোন বিধি-বিধানকে প্রতিষ্ঠা করে সেগুলোও এক ধরণের বিধি-বিধানেরই অন্তর্ভূক্ত। এগুলো রোযা রাখা, নির্দিষ্ট (নিসাব পরিমাণ)[3] পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে যাকাত আদায়, হজ্জ্ব আদায়ের শর্তাবলী পূরণ হলে মক্কায় গমন বিষয়গুলোর জন্যও প্রযোজ্য। কেউ যদি ব্যবসাতে যুক্ত থাকে তবে তার পণ্য বেচাকেনাতেও এসব সংশ্লিষ্ট হবে।

মুহাম্মাদ ইবনে হাসান (রহঃ)[4] কে একদা বলা হয়েছিল, “আপনি কি কঠোর সাধনা বিষয়ে বই প্রকাশ করবেন না?” উত্তর দিয়েছিলেন, “আমি বাণিজ্য সংক্রান্ত বই প্রকাশ করেছি” এখানে তিনি মূলত প্রকৃত সাধনার সংজ্ঞা বুঝাতে চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, একজন প্রকৃত সাধক সেই হতে পারবে যে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নিজেকে সন্দেহজনক এবং অননুমোদিত কাজ থেকে বিরত রাখবে। একই তত্ত্ব সকল পেশা এবং জীবিকার জন্য প্রযোজ্য। প্রত্যেকেই যার যার নিজ আঙ্গিনাকে সকল ধরণের নিষিদ্ধ কাজ হতে মুক্ত রাখার ব্যাপারে দায়িত্বশীল। যে হৃদয়ে জ্ঞান প্রবেশ করবে সেটির জন্যও রয়েছে এরকম বাধ্যবাধকতা এবং জীবনের প্রতি মুহূর্তেই সেগুলোকে আগলে রাখতে হবে। সেসব হচ্ছেঃ আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা, অনুশোচনার অনুভূতি, আল্লাহর প্রতি ভয় এবং তাকদীরের (আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ভাগ্য) উপর সন্তুষ্টি।

জ্ঞানার্জনের মহত্ত্ব সবারই জানা, যেহেতু সমগ্র মানবজাতির কাছেই এর বিশেষত্ব রয়েছে। জ্ঞান বাদে অন্যান্য কিছু গুণাবলী মানুষের মত পশুর মাঝেও পাওয়া যায়। যেমন- বীরত্ব, সাহস, শক্তি, উদারতা, হমর্মিতা। কিন্তু জ্ঞানার্জন হচ্ছে ভিন্ন কিছু। এর মাধ্যমেই মহান আল্লাহ- তাঁর মানুষ হিসেবে প্রথম সৃষ্টি আদম (আঃ) কে ফেরেশতাদের উপর প্রাধান্য দিয়েছিলেন। অবশেষে ফেরেশতাদের আদম (আঃ) কে সেজদা করার আদেশ দিয়েছিলেন।

শিক্ষা অবশ্যই মহৎ একটি বিষয়। এটি মানুষকে আল্লাহকে ভয়ের ব্যাপারে দিকনির্দেশ দেয় যার মাধ্যমে একজন তার (আল্লাহর) সদাশয়তা এবং পরম সুখের সন্ধান পায়। জ্ঞানার্জনের এই দিককে উদ্দেশ্য করেই ইমাম মুহাম্মাদ (রহঃ) বলেছেন,

“শিক্ষা গ্রহণ করো! কারণ যে জ্ঞানার্জন করে তার শোভাবর্ধন হয়। এটি একটি শ্রেষ্ঠ গুণ এবং প্রতিটি প্রশংসনীয় কাজের ভূমিকা। উপকারী শিক্ষার সাগরে সাঁতার কেটে নিজের জ্ঞান বৃদ্ধি করে লাভবান হও। নিজেকে ফিকহ[5] শেখায় নিয়োজিত করো। কেননা এটিই হচ্ছে ধার্মিকতা এবং আল্লাহর ভয়কে অনুভব করার জন্য সেরা মাধ্যম। চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাবার জন্য এটিই হচ্ছে সবচেয়ে সরল-সোজা পথ। এটি এমন মাইলফলক যা বিভিন্ন পথের দিকে যাবার জন্য যথার্থ নির্দেশনা দেয়। এটি এমন দূর্গ যা সকল কষ্ট থেকে একজনকে রক্ষা করে। এই শাস্ত্রে অভিজ্ঞ একজন আল্লাহওয়ালা ব্যক্তি শয়তানের বিরুদ্ধে সাধারণ বান্দাদের থেকে হাজার গুণ শক্তিশালী”

 

এমনিভাবে জ্ঞান মূলত মানুষের সকল গুণের উপরেই প্রভাব ফেলে। মহত্ত্ব এবং কৃপণতা, কাপুরুষতা এবং সাহসিকতা, বক্রতা এবং নম্রতা, পবিত্রতা, মিতব্যয়িতা এবং অমিতব্যয়িতা সহ আরোও অনেক। এদের মধ্যে বক্রতা, কৃপণতা, কাপুরুষতা এবং অমিতব্যয়িতা হচ্ছে খারাপ তথা নিষিদ্ধ। এদের থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হলে অবশ্যই জানতে হবে। জানতে হবে এদেরকেও এবং বিপরীত যেসব ভালো কাজ আছে সেসব নিয়েও। এজন্যই জ্ঞানার্জনকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সবার জন্য প্রয়োজনীয় করা হয়েছে। নাসিরুদ্দিন আবুল কাসিম(রহঃ) নীতিশাস্ত্রের[6] উপরে অসাধারণ একটি বই লিখেছেন। প্রতিটি মুসলমানের বইটি অধ্যয়ন করা উচিত। 

শেখার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কিছু নিয়মাবলী আছে যা কেবল নির্দিষ্ট পরিস্থিতির জন্য কার্যকর। যেমন বলা হয় এটি একটি সামষ্টিক দায়িত্ব। এর দ্বারা বুঝানো হয় যদি কিছু মানুষ নির্দিষ্ট স্থান থেকে শিক্ষা সমাপন করে তবে বাকিরা এই দায়িত্ব থেকে মুক্ত হবে। যদি কেউই জ্ঞানার্জনে না যায় তবে পুরো সম্প্রদায়ই এরজন্য দায়ী হবে। নেতাকে অবশ্যই শিক্ষিত হতে হবে তবেই তিনি অধীনস্তদের এ ব্যাপারে নির্দেশনা এবং পরিচালনা করতে পারবেন।

বলা হয়ে থাকে একজন ব্যক্তি যে সব বিষয়ে জ্ঞানার্জন করতে ইচ্ছুক তার অবস্থা খাবারের মত। সে একইসাথে সব খেতে পারেনা। কিন্তু যে নির্দিষ্ট বিষয়ে জ্ঞানার্জন করে তার তুলনা হয় ওষুধের সাথে অর্থাৎ তা প্রয়োজনীয় সময়ে কাজে দেয়। তবে জ্যোতিষশাস্ত্রের[7] জ্ঞান হচ্ছে রোগের মত। এটি ক্ষতিকারক এবং অপকারী হবার জন্য শেখা নিষিদ্ধ। এটি আল্লাহর হুকুমের বাইরে মানুষ ও স্থলজগতের বিভিন্ন বিষয়ের উপর তারকারাজি এবং গ্রহমন্ডলীর অনুমিত প্রভাব নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে থাকে। এটি আল্লাহর বিধানের বিরোধীতা করে। আল্লাহর ফরমান এবং বিধান হতে পালানো অসম্ভব।

মুসলিমদের কাছে প্রত্যাশা এটিই যে তারা সর্বক্ষণ মহিমান্বিত আল্লাহর স্মরণে নিজেদের নিয়োজিত রাখবে, তাঁর আহ্বান শুনবে এবং তাঁর কাছে মিনতি জানাবে। তারা কুরআন অধ্যয়ন করবে, বিপর্যয় থেকে মুক্তির জন্য সদকা দিবে, দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য ক্ষমা এবং নিরাপত্তা প্রার্থনা করবে। এসব তাকে সকল পরীক্ষা এবং দূর্দশা থেকে আল্লাহ প্রদত্ত ঢালের মত সুরক্ষা দিবে। আল্লাহ কোন প্রার্থনাকারীকে ফিরিয়ে দেন না যদি কারণ যৌক্তিক হয়। যদি তার ভাগ্যে দুঃখ লেখা থাকে তবে তা অবশ্যই নেমে আসবে কিন্তু আল্লাহ তাকে সেটি সহ্য করার সক্ষমতা দেবেন এবং কৃত দোয়ার মাধ্যমে তাকে ধৈর্যের গুণ দান করবেন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের[8] জ্ঞান নামাজের দিক এবং সময় নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয়[9] চিকিৎসাবিদ্যা দূর্ঘটনা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করে সেজন্য এটিও গুরুত্বপূর্ণ এবং শেখার অনুমতি রয়েছে এটি শেখার আরোও কারণ হচ্ছে বিশ্বজনীন এর প্রয়োজনীয়তা রাসূল(সাঃ) অসুস্থাবস্থায় নিজেও চিকিৎসা নিতেন ইমাম শাফেয়ী(রহঃ)[10] বলেছেন, “বিজ্ঞানের দুটি শাখা আছে প্রথমটি হচ্ছে ফিকহী জ্ঞান (দ্বীন) সংক্রান্ত বিজ্ঞান যা ধর্মীয় বিষয়াদি সম্পর্কিত অপরটি হচ্ছে ঔষধী বিজ্ঞান (দেহ) যা দেহের সাথে সম্পর্কিত”। শিক্ষার ব্যাপারে এক কথায় বলতে গেলে মন্তব্য হচ্ছে, এটি এমন একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে কোন প্রস্তাবিত বিষয়ের প্রকৃতি স্পষ্ট হয়ে উঠে

ফিকহশাস্ত্র হচ্ছে সূক্ষ্ণ জ্ঞানের বিজ্ঞান ইমাম আবু হানিফা(রহঃ)[11] বলেছেন, ফিকহ হচ্ছে একজন ব্যক্তির অধিকার এবং কর্তব্য নিয়ে জ্ঞান তিনি আরো যুক্ত করেন, “জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্য হচ্ছে তদনুযায়ী কাজ করা[12] যখন কাজের উদ্দেশ্য হচ্ছে ক্ষণস্থায়ীকে ত্যাগ করে স্থায়ীকে আঁকড়ে ধরা[13] 

তাই কেউ যেন নিজের ব্যাপারে অসতর্ক না থাকে উভয় জীবনে যা উপকারী এবং অপকারী সে সম্পর্কেও যেন অবহেলা না করে অতএব মানুষ তার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসের অনুসন্ধান করবে এবং নিজের জন্য যা অপকারী তা বর্জন করে চলবে পাছে তার বুদ্ধিমত্তা এবং জ্ঞান তার বিরুদ্ধেই অস্ত্র হয়ে যায় এবং তার শাস্তিও পরকালে বৃদ্ধি পায়[14] আল্লাহ আমাদেরকে তার ক্রোধ এবং শাস্তি হতে রক্ষা করুন

শিক্ষার উদ্দেশ্য

যেকোন ধরণের শিক্ষার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ত থাকা প্রয়োজন প্রতিটি কাজই নিয়তের উপর নির্ভরশীল এটি প্রমাণিত হয় রাসূল(সাঃ) এর বক্তব্য দিয়েই তিনি বলেছেন, কাজের প্রাপ্য হবে নিয়ত অনুযায়ী[15] তিনি আরোও বলেছেন, “কিছু আমল আছে যা দুনিয়ার জন্য করা হয় কিন্তু তাদের সৎ উদ্দেশ্যের দ্বারা তা পরকালের কাজে পরিণত হয় আবার কিছু কাজ করা হয় আখেরাতকে উদ্দেশ্য করে কিন্তু তাদের অসৎ উদ্দেশ্যের মধ্যে দিয়ে তা দুনিয়ার কাজে রূপ নেয়[16]

জ্ঞানান্বেষণকারী একজন ছাত্রকে কিছু জিনিস অর্জনের জন্য সবসময় চেষ্টা করে যেতে হবে সেগুলো হচ্ছে- আল্লাহর সন্তুষ্টি, পরকালের একটি সুন্দর আবাস, নিজ থেকে অজ্ঞতাকে দূর করা, মূর্খদের থেকে নিজেকে দূরে রাখা, দ্বীনের পুনরুজ্জীবন এবং ইসলামকে বাঁচিয়ে রাখা

হিদায়াগ্রন্থাকার ইমাম বুরহাদ্দিন(রহঃ)[17] -নামিকা এক কবি থেকে নিম্নোক্ত কবিতা উদ্ধৃত করেছেন,

সবচেয়ে বড় শয়তান হচ্ছে অনৈতিক জ্ঞানী ব্যক্তি

তারচেয়েও বড়, যে অজ্ঞ হয়ে ধার্মিকতার ভান করে

তারা বড় পরীক্ষা হয় দ্বীনকে আঁকড়ে রাখাদের জন্য

জ্ঞানার্জনে আগ্রহী একজনকে অবশ্যই সুস্থ মস্তিষ্ক এবং সুষ্ঠ দেহের জন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ হতে হবে তার উচিত হবেনা প্রদর্শনীয় বস্তু হিসেবে মানুষের সম্মুখে উপস্থিত হওয়া, আত্মগর্বে ডুবে নিজেকে দুনিয়ার ফাঁদে ফেলা এবং জ্ঞানের বিনিময়ে রাজার থেকে প্রাপ্ত সম্মান গ্রহণ করা[18]

ইমাম মুহাম্মাদ(রহঃ) এর ভাষ্যে,

যদি পৃথিবীর সবাই আমার দাস হত তবুও তাদের সবাইকে মুক্ত করে দিতাম এবং তাদের মনিব হওয়ার অধিকার পরিত্যাগ করতাম কারণ, যারা জ্ঞানার্জনে আনন্দ খুঁজে পায় তারা মানুষের পার্থিব সম্পদ থেকে কদাচিৎ আশা করে

 

ইমাম হাম্মাদ আনসারী (রহঃ)[19]ইমামে আযম আবু হানিফা(রহঃ) রচিত একটি কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন সেটি হচ্ছে,

আখেরাতের উদ্দেশ্যে জ্ঞান খুঁজে যে

ধার্মিকতার মহিমান্বিত গুণ করে সে অর্জন

কে হয় জানো অশেষ ক্ষতির সম্মুখীন?

মানুষের উপর সুবিধা নিতে জ্ঞানী হয় যেজন

 

কবিতার বক্তব্য সত্য তবে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে কেউ যদি সৎকাজের আদেশ দেওয়া মন্দকে নিষিদ্ধ করা, সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং দ্বীনকে দৃঢ় করার জন্য এরকমটা করে তবে সেটা ভিন্ন কিন্তু নিজের কামনা এবং বাসনা পূরণের জন্য হলে উপরের কবিতাটি সত্য ভালো কাজের আদেশ দান এবং মন্দ হতে নিষেধ করার জন্য শিক্ষা অর্জন করলে নিজের স্বার্থপরতাকে আরো বেশী দমন করা যায়

জ্ঞানান্বেষণকারী প্রত্যেকের জন্যই প্রয়োজনীয় হচ্ছে এদিকটায় তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা একজনকে অবশ্যই পূর্ণ অধ্যবসায়ের সাথে জ্ঞানার্জনে রত হতে হবে এই নীচ, ছোট, নশ্বর পৃথিবীর জন্য শিক্ষা গ্রহণ করা তার উদ্দেশ্য হবেনা রাসূল(সাঃ) বলেছেন, “দুনিয়াকে ভয় করো! যার হাতে আমার প্রাণ তার কসম- এটি হারুত-মারুত[20] এর চেয়েও অধিক জাদুগ্রস্ত করে[21] যেভাবে কবির কলমে উঠে এসেছে,

অযোগ্য থেকেও অযোগ্যতর এই বিশ্বধরণী,

অন্ধ হলে ভালোবাসায়, হবে নিকৃষ্টতম সৃষ্টি

এর জাদুতে মানুষ হয় বধির, অন্ধ

পথ হারিয়ে হয় হতবাক, নিস্তব্ধ

 

অসৌজন্যমূলক কিছু প্রত্যাশা করে নিজেকে ছোট করা একজন ছাত্রের জন্য উপযুক্ত নয় তার জন্য শোভন হচ্ছে শিক্ষার্জনে বাধা সৃষ্টি করবে এরকম বস্তু পরিত্যাগ করা তাকে অবশ্যই বিনয়ী হতে হবে বিনয় এমন একটি মহৎ গুণ যা একজনকে অহংকার এবং আত্ম-লাঞ্ছনা হতে দূরে রাখে একইসাথে সততাও এসব থেকে একজনকে বাঁচিয়ে রাখে এসব শেখা যেতে পারে কিতাবুল আখলাক[22] থেকে 

ইমাম রুকনুল ইসলাম, যিনি আদিবুল মুখতার[23] নামেও পরিচিত তার স্ব-রচিত কবিতাটি আমাকে শুনিয়েছিলেন সেটি হচ্ছে,

বিনয় হচ্ছে তাকওয়াবানদের গুণ, প্রদত্ত আল্লাহর

এর মাধ্যমে ধার্মিক আরোহীত হয় সর্বোচ্চ উচ্চতায়

অজ্ঞ যখন ভাবে কি হবে তার ভালো কিংবা খারাপ,

রোজ হাশরে খোদার কাছে পাবে কি সে মাফ?

কি হবে জীবন যে শেষে, উর্ধ্বে কি তার আত্মা যাবে?

এসব ভেবে যখন হয় তার দিন অবসান,

জেনে রাখুক সকল গর্ব একমাত্র আল্লাহর

বৈশিষ্ট্য শুধু তারই শোভা পায়

তাঁর ভয়ে গর্ব ত্যাগ করো সবাই

 

ইমাম আবু হানিফা(রহঃ) তার সাথীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, তোমার পাগড়ীকে বৃদ্ধি করো এবং জামার হাতাকে প্রশস্ত করো  তার এরকমটি বলার কারণ ছিল যেন শিক্ষা এবং এর ধারণকারীরা মানুষের দ্বারা অবমূল্যায়িত না হয় তিনি আরোও বলেন, জ্ঞানান্বেষণকারীদের কিতাবুল ওয়াছিয়াহ[24] অর্জন করা আবশ্যক ইমাম আবু হানিফা(রহঃ) তার অন্যতম ছাত্র ইউসুফ ইবনে খালিদ সামতি(রহঃ)[25] এর জন্য লিখেছিলেন যখন তিনি শিক্ষা সমাপন করে তার সম্প্রদায়ের কাছে বসরায় ফিরছিলেন আমাদের প্রয়াত শিক্ষক, শায়খুল ইসলাম বুরহানুদ্দিন আলী ইবনে আবু বকর মারগিনানী(রহঃ) আমাকেও একই আদেশ দিয়েছিলেন এবং আমি তা সম্পন্ন করেছিলাম (উপদেশনামা লেখা) শিক্ষক এবং মুফতীদেরও সেই উপদেশনামা অনুযায়ী লোকদের সাথে আচরণ করা কর্তব্য আল্লাহই সকল কাজের সামর্থ্য দেন

জ্ঞানার্জনের জন্য সময়

জ্ঞানার্জনের জন্য সময় শৈশব হতে মৃত্যু পর্যন্ত হাসান ইবনে যিয়াদ(রহঃ)[26], যিনি আশি বছরে উপনীত হয়ে ফিকহ নিয়ে অধ্যয়ন শুরু করেছিলেন এবং চল্লিশ বছর যাবত রাতে ঘুমাননি পরবর্তী চল্লিশ বছর তিনি ফতোয়া[27] দিয়েছিলেন

শিক্ষার্জনের জন্য আদর্শ সময় হচ্ছে কৈশোরের[28] প্রারম্ভ দিনের শ্রেষ্ঠ অংশ হচ্ছে সুবহে সাদিক এবং মাগরিব-ইশার মধ্যবর্তী সময় তবে ব্যক্তির জন্য সর্বক্ষণই জ্ঞান সাধনায় মগ্ন থাকা গুরুত্বপূর্ণ কেউ যদি প্রদত্ত নিয়মনিষ্ঠার ভারে অত্যাধিক শ্রান্ত হয়ে পড়ে তবে সে অন্য দিকে মনোযোগ দিবে যখনই আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস(রাঃ) বক্তৃতা দিতে গিয়ে ক্লান্তি অনুভব করতেন তখনই কবিতার বই চাইতেন

মুহাম্মাদ ইবনে হাসান(রহঃ) রাতে ঘুমাতেন না, বরং বিভিন্ন বই নিয়ে মশগুল হতেন যখন তিনি একটি পড়তে গিয়ে অবসাদ বোধ করতেন তখন অন্যটির দিকে দৃষ্টি দিতেন এবং ঠান্ডা পানির মাধ্যমে ঘুমকেও তাড়াতেন তিনি বলতেন, “উষ্ণতা ঘুমকে প্ররোচিত করে

জ্ঞানার্জনের কার্যকরী উপায়

জ্ঞানার্জনে রত একজন ব্যক্তিকে চমৎকারিত্ব পেতে হলে সর্বদাই কার্যকরী উপায় সন্ধান করতে হবে একজন ছাত্রের সাথে সবসময় কালির দোয়াত[29] থাকবে যাতে সে জ্ঞান সংক্রান্ত যেকোন কথাকে শুনার সাথে লিপিবদ্ধও করতে পারে বলা হয়ে থাকে, যে সবকিছু মুখস্থ করতে চেষ্টা করে তার থেকে সেসব পালিয়ে যায় কিন্তু যে লিখে রাখে তার জ্ঞান স্থায়ী হয় আরও বলা হয় জ্ঞান মানুষের মুখ থেকে নেওয়া হয় মানুষ যা শ্রবণ করে তন্মধ্যে সেরা অংশটুকুই মনে রাখে অতএব তারা যখন প্রচার করে তখন স্মরণে থাকা জ্ঞান থেকে সেরা অংশটুকুই করে

আমি ইমাম আদিবুল মুখতার(রহঃ)[30] থেকে শুনেছি; তিনি বলেনঃ হিলাল বিন যিয়াদ বিন ইয়াসার(রাঃ) বলেছেন, “আমি রাসূল(সাঃ) কে সাহাবীদের সাথে জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা নিয়ে কথা বলতে দেখলাম অতঃপর আমি বললাম; হে আল্লাহর রাসূল(সাঃ), আমাকে পুনরূক্তি করুন তাদের যা বলেছেন তিনি বললেন, তোমার কাছে কি কালির দোয়াত আছে? আমি বললাম নেই তখন তিনি জবাব দিলেন; হে হিলাল, কখনো এটি ছেড়ে দিও না কেননা এটিতে তোমার এবং তোমার পরিবারের জন্য কেয়ামত পর্যন্ত কল্যাণ রয়েছে[31]

ছদরুস শহীদ হুসামুদ্দিন(রহঃ) তার ছেলে শামসুদ্দিন(রহঃ)[32] কে উপদেশ দিয়েছিলেন প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে জ্ঞান এবং প্রজ্ঞার কথা অধ্যয়ন করতে; তাহলে এটি বৃদ্ধি পাবে এবং স্বল্প সময়েই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে

ইসাম ইবনে ইউসুফ(রহঃ)[33] যা শুনতেন তা লিখে ফেলার জন্য এক দিনার খরচ করে একটি খিলানযুক্ত কলম[34] কিনেছিলেন কেননা জীবন অত্যন্ত ছোট হলেও জ্ঞান অনেক বিস্তৃত তাই সময় অপচয় করা একেবারেই অনুচিতবরং রাত এবং অবসর সময়কেও জ্ঞানার্জনের পথে কাজে লাগাতে হবে

ইয়াহিয়া ইবনে মুয়াজ রাজি(রহঃ)[35] বলেছেন,

রাত অনেক দীর্ঘ তাই ঘুমিয়ে এটিকে সংক্ষিপ্ত করো না এবং দিন হচ্ছে দীপ্তিমান তাই পাপাচারের মাধ্যমে একে অস্পষ্ট করো না

বিজ্ঞবৃন্দের থেকে জ্ঞান আহরণ এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করার গুরুত্ব অপরিসীম কারণ যা চলে যায় তা আর অর্জন করা যায় না যেমনটি আমাদের শিক্ষক শায়খুল ইসলাম তার সহকর্মীদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে বলেছেন, “আহ! কত শিক্ষিত মানুষকে আমি অতিক্রম করেছি পর্যাপ্ত আলোচনা না করেই একই ধরণের অনুভূতি নিম্নোক্ত কথাগুলোতেও পাওয়া যায়

হায়! পরিত্যাগ করা সাক্ষাতগুলো যদি ফিরে পেতাম

যা কিছু চলে যায় এবং ধ্বংস হয় সব যদি পুনঃ আসত!”

আলী(রাঃ) বলেছেন,

তুমি যদি কিছু শিক্ষায় ব্যস্ত থাকো তবে সম্পূর্ণরূপেই সেখানে মনোযোগ দাও আল্লাহর জ্ঞান শেখা থেকে মুখ ফিরানো লজ্জাজনক এবং অত্যন্ত ক্ষতিকর তাই দিকভ্রান্ত না হবার জন্য দিনে এবং রাতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও

 

জ্ঞানান্বেষণকারীকে দূর্দশা এবং কষ্টের ব্যাপারে ধৈর্যের মাধ্যমে সহনশীল আচরণ করতে হবে স্তাবকতা দোষণীয় কিন্তু জ্ঞান সাধনার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেননা শিক্ষক এবং সহযোগীদের থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য এটি বড় ধরণের সাহায্য করতে পারে

বলা হয়ে থাকে জ্ঞান হচ্ছে এমন একটি বিষয় যার মর্যাদা কখনো ফুরায় না কিন্তু সবাইকেই এই মর্যাদায় পৌঁছতে হলে বিনয়ী হতে হয় যেখানে কোন আভিজাত্য নেই কেউ একজন বলেছিল, “আমি দেখছি তুমি নিজেকে মর্যাদা সম্পন্ন করতে চাও কিন্তু তুমি বিনীত হবার আগে তা অর্জন করতে পারবে না



[1] ২২৪; সুনানে ইবনে মাজাহ, ২১৮; মিশকাতুল মাসাবীহ।

[2]  নামাজে ‘খুশু- খুযু’র অর্থ হচ্ছে প্রশান্ত থাকা, সুস্থির থাকা, ধীরতা অবলম্বন, বিনম্রতা ও গাম্বীর্যতা অবলম্বন। আর আল্লাহর ভয় বান্দাকে খুশু অবলম্বন করতে উৎসাহ দেয় এবং সাহায্য করে। আর খুশুর প্রকৃত রূপ হচ্ছে, মহান রবের সামনে নিজের হীনতা ও বিনয়ের যথাযথ প্রকাশ করা।

[3] নিসাব হচ্ছে যাকার ফরজ হবার জন্য নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদ। নিসাবের পরিমাণ কমপক্ষে সাড়ে সাত তোলা সোনা অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার সমতুল্য সম্পদ বা অর্থঐ পরিমাণ সম্পদ কারো নিকট পূর্ণ এক বছরকাল স্থায়ী থাকলে তার উপরে যাকাত ফরজ হয়। যাকাত দিতে হয় চল্লিশ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ২.৫ %

[4] বিখ্যাত ফকীহ। ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এবং ইমাম মালেক (রহঃ) এর ছাত্র। ইমাম মুহাম্মদ (রহঃ) নামে পরিচিত। জন্মঃ ৭৪৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১৩২ হিজরী - মৃত্যুঃ ৮০৫ খ্রিষ্টাব্দ, ১৮৯ হিজরী।

[5]  ফিকহ হলো ইসলামি আইনশাস্ত্র। অর্থাৎ কুরআন ও হাদীসের মৌলিক বিধানগুলোর প্রায়োগিক রূপইসলামের পরিভাষায় ফিকহ হলো এমন শাস্ত্র, যার মাধ্যমে ইসলামের উৎসমূহ তথা কুরআন ও হাদীস থেকে বিস্তারিত প্রমাণসহ ব্যবহারিক জীবনের বিভিন্ন বিধি-বিধান ও ইসলামি সমাধান জানা যায়

[6] পুরো নাম আবুল কাসিম হাসান বিন মুফাযযাল বিন মুহাম্মদ। পরিচিত রাগিব ইসপাহানী নামে। মৃত্যুঃ ১১০৮ খ্রীষ্টাব্দ। তিনি নীতিশাস্ত্রের উপর “কিতাবুল আখলাক” নামে বই লিখেছেন।

[7] যে শাস্ত্রে মহাকাশীয় সত্ত্বাগুলির গতিবিধি এবং আপেক্ষিক অবস্থান পর্যালোচনা করে তাদের অবস্থানের মানবিক বিষয় এবং প্রাকৃতিক জগতের উপর প্রভাব রয়েছে বলে ব্যাখ্যা করা হয়।

[8] এটি বিজ্ঞানের এমন শাখা যেখানে মহাকাশে অবস্থিত সকল বস্তুসমূহের উৎপত্তি, বিবর্তন, গঠন, দূরত্ব, গতি নিয়ে আলোচনা করা হয় জ্যোতিষশাস্ত্র এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান এক নয়

[9] তৎকালীন জ্যোতির্বিজ্ঞানকে শুধু নামাজের দিক এবং সময় নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন আমরা জানি জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিস্তৃতি আরোও অনেক বেশী। এর সাহায্যে আল্লাহর বিপুল সৃষ্টিজগত আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়।

[10] পুরো নাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইদরিছ আর শাফিঈ ইমাম শাফেয়ী(রহঃ) নামে পরিচিত শাফেয়ী মাযহাবের প্রবক্তা জন্মঃ ৭৬৭খ্রিষ্টাব্দ, ১৫০ হিজরী; মৃত্যুঃ ৮২০ খ্রিষ্টাব্দ, ২০৪ হিজরী

[11] আসল নাম নোমান ইবনে সাবিত ইমাম আবু হানিফা(রহঃ) নামে পরিচিত ফিকহশাস্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং হানাফী মাযহাবের প্রবক্তা জন্মঃ ৬৯৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৮০ হিজরী; মৃত্যুঃ ৭৬৭ খ্রিষ্টাব্দ, ১৫০ হিজরী

[12] তদনুযায়ী কাজ করা মানে যা জ্ঞান অর্জিত হয়েছে তার আলোকে কাজ করা এবং অর্জিত জ্ঞানটুকু সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া

[13] দুনিয়ার উপর আখেরাতকে প্রাধান্য দেবার কথা বুঝানো হয়েছে কেননা দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং পরকালই সবার স্থায়ী ঠিকানা

[14] মানুষ কিছু সময় জ্ঞান এবং বুদ্ধি অর্জন করার পরে অহংকারী হয়ে উঠে, জ্ঞানকে আল্লাহর পথে ব্যয় না করে নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করে এবং এভাবেই অর্জিত জ্ঞান এবং বুদ্ধিমত্তা তার শত্রু হয়ে দাঁড়ায়, পরকালে শাস্তির কারণ হয়

[15] সহীহ বুখারীঃ ০১

[16] কাছাকাছি বক্তব্যের নিম্নোক্ত হাদীসটি পাওয়া যায়তোমাদের কোন ব্যক্তি ‘আমল করতে করতে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, তার এবং জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাত পার্থক্য থাকে। এমন সময় তার ‘আমলনামা তার উপর জয়ী হয়। তখন সে জাহান্নামবাসীর মত আমল করে। আর একজন ‘আমল করতে করতে এমন স্তরে পৌঁছে যে, তার এবং জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক হাত তফাৎ থাকে, এমন সময় তার ‘আমলনামা তার উপর জয়ী হয়। ফলে সে জান্নাতবাসীর মত ‘আমল করে। (সহীহ বুখারীঃ ৩২০৮)”

[17] পুরো নাম আবুল হাসান আলী ইবনে আবু বকর মারগীনানী উপাধি হচ্ছে বুরহানুদ্দিন, শায়খুল ইসলাম ফিকহের পরিমন্ডলে তার রচিতহিদায়াএকটি মৌলিক বুনিয়াদী গ্রন্থ ফিকহশাস্ত্রের অধ্যয়নের একটি অবশ্য পাঠ্য বই জন্মঃ ১১১৭ খ্রিষ্টাব্দ; মৃত্যঃ ১১৯৭ খ্রিষ্টাব্দ

[18] জ্ঞানার্জন হবে তদনুযায়ী কাজ করার জন্য জ্ঞান ব্যবহার করে অযাচিত সুবিধা আদায়, মানুষের সামনে নিজেকে জ্ঞানী বলে প্রচার, আত্মতুষ্টি এবং গর্বে ডুবে থাকা কখনোই জ্ঞানি ব্যক্তির আচরণ হবে না

[19] উপাধি কিয়ামুদ্দিন পিতার নাম ইবরাহীম ইবনে ইসমাইল সাফফার তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১১৩৯/৪০ খ্রিষ্টাব্দে

[20] দুজন ফেরেশতার নাম সোলায়মান(আঃ) এর রাজত্বের সময় তারা পৃথিবীতে এসেছিল সূরা বাকারাহ এর ১০২ নং আয়াতে তাদের নিয়ে বর্ননা রয়েছে

[21] হাদীসটি মুনকার, ভিত্তি নেই (যঈ জাল হাদীস - নাসিরুদ্দিন আলবানী রহঃ হাদীস নং - ৩৪)

[22] আবুল কাসিম হাসান বিন মুফাযযাল বিন মুহাম্মদ রাগিব ইসপাহানী(রহঃ) বইটির রচয়িতা

[23] পুরো নাম মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর ইবনে ইউসুফ ইমামজাদা তিনি বোখারা শহরের মুফতি ছিলেন মৃত্যুঃ ১১৭৭ খ্রিষ্টাব্দ

[24] উপদেশনামা শিক্ষাজীবন সমাপ্ত হওয়ার পর যখন বিদায়ের সময় উপস্থিত হয় তখন শিক্ষক তার ছাত্রদেরকে ডেকে নিয়ে সর্বশেষ কিছু উপদেশ এবং দিক-নির্দেশনা দেন, সেটিকেই বুঝানো হয়েছে আবু হানিফা(রহঃ) তার ছাত্র ইউসুফ বিন খালিদ(রহঃ) কে যে উপদেশগুলো দিয়েছিলেন সেগুলো ইতিহাসখ্যাত হয়ে আছে

[25] বসরার অধিবাসী এবং ইমাম আবু হানিফা(রহঃ) এর একজন ছাত্র ছিলেন জন্মঃ ১২২ হিজরী; মৃত্যুঃ ৮০৫ খ্রিষ্টাব্দ, ১৮৯ হিজরী

[26] পুরো নাম হাসান ইবনে যিয়াদ লুলু মুক্তো ব্যবসায়ী ছিলেন একই সাথে আবু হানিফা(রহঃ) এর ছাত্র এবং আবু ইউসুফ(রহঃ) এর বন্ধু ছিলেন মৃত্যুবরণ করেন ২০৪ হিজরী, ৮১৯ খ্রিষ্টাব্দে

[27] ফতোয়া হলো বিধান ও সমাধান, যা কোনো ঘটনা বা অবস্থার প্রেক্ষিতে ইসলামী শরীয়তের দলীলের আলোকে মুফতি বা ইসলামী আইন-বিশেষজ্ঞ প্রদান করে থাকেন

[28] ব্যক্তি যখন শক্তিশালী এবং সতেজ থাকে

[29] বর্তমান প্রেক্ষাপটে এখানে কলম এবং কাগজ হবে কিংবা মোবাইল সহ আধুনিক ডিভাইসগুলোতে কোনকিছু লিখে রাখার মত প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার থাকবে

[30] নাম যয়নুল ইসলাম আদিবুল মুখতার নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন

[31] তালিমুল মুতাআল্লিম ত্বরিকুত তাআল্লুম, পৃষ্ঠাঃ ৭৩

[32] বোখারার অধিবাসী ছিলেন ফকীহ হিসেবে প্রসিদ্ধি পেয়েছিলেন মৃত্যুবরণ করেন ৫৬৬ হিজরী, ১১৭০ খ্রিষ্টাব্দ

[33] তিনি বালখের অধিবাসী ছিলেন হাদীস বিশারদ ছিলেন মৃত্যুবরণ করেন ২১০/২১৫ হিজরী, ৮২৫/৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে

[34] প্রাচীন যুগের কলম সাধারণত বাঁশ কেটে বানানো হত বর্তমান যুগের ফাউন্টেন কলম গুলোর আদি রূপ

[35] পুরো নাম আবু জাকারিয়া ইয়াহিয়া ইবনে মুয়াজ রাজি অগ্রগণ্য সূফীদের মাঝে অন্যতম তিনি জন্মঃ ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দমৃত্যুঃ ২৫৮ হিজরী, ৮৭১/৭২ খ্রিষ্টাব্দ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ