আকাশছোঁয়ার স্বপ্নবাজ
সাজ্জাদুর রহমান
আজকাল বিশ্বে কত কত উঁচু দালান চোখে পড়ে, চোখ ঝলসে যায় তাকাতে গেলে! আচ্ছা, তোমরা কি জানো এইসব উঁচু উঁচু দালান তৈরি ত্বরান্বিত হয়েছিল একজন বাংলাদেশী আর্কিটেক্টের সাধনার ফলে? তোমরা কি ফজলুর রহমান খানের নাম শুনেছো? তোমরা কি গত শতাব্দীর সবচেয়ে উঁচু দালান সিয়ার্স টাওয়ারের গল্প জানো? কিংবা শততলা জন হ্যানকুক সেন্টারের? কিং আব্দুল আযীয বিশ্ববিদ্যালয়ের নকশাই বা কে করেছিল? এসব প্রশ্নকে সম্মুখে আনতে চলো তবে আজ আমরা জানব স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আইনস্টাইনকে!
প্রাথমিক পরিচয়
জন্ম নিয়েছিলেন ১৯২৯ সালের তেশোরা এপ্রিল একটি বাঙালি মুসলিম পরিবারে।
ফরিদপুরের ভান্ডারীকান্দি গ্রামে বেড়ে উঠেন। পড়েছেন ঢাকার আরমানিটোলা সরকারী হাইস্কুলে,
কলকাতার শিবপুরের তৎকালীন বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে,
বর্তমানে এটি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং, সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি। এখনকার
বুয়েট থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রীও নেন, তখন এটি ছিল আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। অতঃপর
ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে ১৯৫২ সালে আমেরিকায় উড়াল দিলেন। ইলিনয়স বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন
বছরে তিনি দুটি মাষ্টার্স করেন। স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক
মেকানিকস ছিল সেসবের বিষয়। এবং সবশেষে পিএইচডিও সমাপ্ত করেন।
উপরে থাকা প্রশ্নগুলোর উত্তর তিনিই। তাকে অনেক নামে অভিহিত করা
হয়। “টিউবুলার (নলাকার) ডিজাইনের জনক, স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আইনস্টাইন, বিংশ
শতাব্দীর গ্রেটেস্ট স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার, কম্পিউটারের সাহায্যে ডিজাইনের পথিকৃৎ”
সহ আরোও অনেক। তিনি কি বসে বসে শুধু এইসব বড় বড় দালানগুলোই নকশা করেছেন? না, তাতো না!
জেদ্দাহের কিং আব্দুল আযীয আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টের হজ্জ্ব টার্মিনালটাও তারই করা,
ম্যাকম্যাথ-পিয়ার্স সোলার টেলিস্কোপও তিনিই ডিজাইন করেছেন।
তার সময়ে ঢাকায় তিনতলাধিক দালান ছিল না বললেই চলে! আসলে আমেরিকায় যাওয়ার আগে তিনি উঁচু দালান তো দূরে থাক মধ্যম-উচু দালানগুলোও কমই দেখেছিলেন। বিখ্যাত টিউবুলার ডিজাইনের ধারণা তিনি বাঁশ থেকে পেয়েছিলেন। তিনি দেখলেন এইসব উঁচু উঁচু ফাঁকা বাঁশগুলো কি অদ্ভুত টেকসই হয়ে উল্লম্ব ভাবে দাঁড়িয়ে আছে!
অতঃপর, তার ক্যারিয়ারের গল্পে যাওয়া যাক।

ডক্টর ফজলুর রহমান খান
কর্মজীবন
লেখাপড়ার পাট কি মানুষ চুকাতে পারে? এটাতো জীবনেরই অংশ, কর্মজীবনও
তাই অধ্যয়নের আরেকটা অংশই। ১৯৫৫ সালে আর্কিটেকচারাল ফার্ম “স্কিডমোর, ওয়িংস এন্ড মেরিল”
এ যোগ দেন। তিনি শিকাগোতে কাজ শুরু করেন এবং ১৯৬৬ সালে এই ফার্মের অন্যতম অংশীদার হোন।
এরপর থেকে বাকী জীবন তিনি আর্কিটেক্ট ব্রুস গ্রাহামের সাথে কাজ করেছেন।
ফজলুর রহমান খান দালান তৈরির উপাদানগুলোর যথাযথ এবং যুক্তিযুক্ত
ব্যবহারের জন্য নতুন নকশা পদ্ধতি এবং ধারণা নিয়ে কাজ করতেন। তার আনীত টিউব স্ট্রাকচারের
তৈরি প্রথম দালানটি ছিল “চেস্টনাট ডি-ওয়িট এপার্টমেন্ট বিল্ডিং”। ১৯৬০ থেকে ৭০ পরবর্তী
সময়ে শিকাগোর শততলা জন হ্যানকুক সেন্টারের জন্য তার নাম ছড়িয়ে পড়ে এবং তার বিখ্যাত
সৃষ্টি একশত দশ তলা সিয়ার্স টাওয়ার, যা পরে উইলস টাওয়ার নামিত হয়েছে, এটিও এই সময়েরই
অবদান। ১৯৭৩ থেকে ১৯৯৮, পচিশটি বছর এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু দালান!
তিনি জীবনের ছন্দে বিশ্বাস করতেন। জীবনে শুধু কাজই সব নয়, এর একটি নিজস্ব গতি আছে। এর রয়েছে একটি মহৎ এবং বৃহৎ লক্ষ্য। বিশেষত ইঞ্জিনিয়ারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন,
তার করে যাওয়া হাজারো কাজ আজ শিকাগোর আর্ট ইনস্টিটিউটে রায়ারসন এন্ড বার্নহাম লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে। সেসবে রয়েছে বিভিন্ন নকশা, স্কেচ, অডিও টেপ, স্লাইড সহ আরো বিভিন্ন কাজ সংশ্লিষ্ট অনেক জিনিসই।
টিউব স্ট্রাকচারাল ডিজাইন
আগে উঁচু দালান বানাতে দৃঢ় ইস্পাতের পাতই ভরসা ছিল। কিন্তু তিনি
আবিষ্কার করলেন আরো ভিন্ন উপায় রয়েছে। এখান থেকেই আকাশছোঁয়ার অভিযাত্রায় নতুন মাত্রার
সূচনা হল।
তিনি এই টিউবুলার বা নলাকার স্ট্রাকচারাল ডিজাইনের জন্যই বিশ্বজুড়ে
অধিক খ্যাত। এর বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্ট আছে। যেমন, ফ্রেমড টিউব, ট্রাসড টিউব, এবং বান্ডল্ড
টিউব। এই কনসেপ্টটি মূলত বহির্দেয়ালকে লক্ষ্য করে গঠিত। পুরো দালানটি পাতলা দেয়ালযুক্ত
টিউবের মত উপরে উঠে। ১৯৬০ এর পর থেকে অধিকাংশ ৪০ তলাধিক দালানগুলো এই কনসেপ্ট অনুসরণ
করেই তৈরি হয়েছে।
দালানের উচ্চতা যতই বাড়তে থাকল ততই বাতাস, ভূমিকম্পের মত বিষয়গুলোর
প্রেক্ষিতে সেটির স্থায়িত্বটাও ভাবতে হল। তাই বিভিন্ন নকশাতে এসব বিষয়কেন্দ্রিক সতর্কতা,
সমস্যাবলী খুব ভালোভাবেই উপস্থিত থাকত। যেমন, তীব্র বাতাস কিংবা ভূমিকম্পের মত শক্তিগুলোকে
কিভাবে মোকাবেলা করে স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা যায়। টিউবুলার ডিজাইন এখানে ভালো সমাধান
নিয়ে আসে। উপরোক্ত ধরণের প্রাকৃতিক শক্তিগুলোর সাপেক্ষে টিউবুলার ধরণের দালানগুলো অন্যান্য
দালানগুলোর তুলনায় বেশ ভালোরকম টেকসই হচ্ছিল। এই গঠনটা শুধু টেকসই হওয়াই নিশ্চিত করত
না বরং বিল্ডিং বানানোর বিভিন্ন উপাদানও কমিয়ে আনত। সেই কারণে বিল্ডিংগুলো বানাতে খরচও
তুলনামূলক হ্রাস পেল, একইসাথে পরিবেশ সংরক্ষণেও অগ্রগামী থাকল। দালানগুলো উঁচু থেকে
আরো উঁচুতে যেতে থাকল। ভেতরকার নকশাও যথেষ্ট সুন্দর করা যাচ্ছিল, একইসাথে অন্যান্য
অনেক আকৃতিতেও বিল্ডিংকে সজ্জিত করা যাচ্ছিল। সর্বোপরি এতে করে আর্কিটেক্টদের স্বাধীনতাও
বেড়ে গেল, নিত্যনতুন নকশার পসরা যেন দালানগুলোতে স্থান করে নিল।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার, জিন মাও বিল্ডিং,
ব্যাংক অব চায়না টাওয়ার সহ বিশ্বের নানা উঁচু দালানগুলোতে খান সাহেবের নকশার ছাপ এখনো
দেখা যায়। বর্তমানের সবচেয়ে উঁচু দুবাইয়ের বুর্জ খলিফাতেও এটি বেশ ভালোভাবেই দৃশ্যমান।
দ্যা ডেইলি টেলিগ্রাফে স্টিফেন বেইলি লিখেছেন,
“খান উঁচু দালান বানানোর তরিকাই পালটে দিয়েছেন। তিনি এর জন্য অপ্রচলিত পথে হেটেছেন। উঁচু দালানগুলোতে ভারী ইস্পাত ব্যবহারের জায়গায় হালকা, পাতলাগুলো ব্যবহার করেও টেকসই ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করেছেন। বান্ডল্ড টিউব ডিজাইনের মাধ্যমে দেখিয়েছেন দালানগুলো সবসময়ই বক্স গঠনের মত হতে হয় না, এগুলো ভাস্কর্যের মতও হতে পারে। আমেরিকার ইতিহাসে মুসলিমদের অবদান উল্লেখ করতে গিয়ে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও তাকে স্মরণ করেছিলেন। তিনি উঁচু দালান তৈরির ক্ষেত্রে গাঠনিক এবং আর্থিক দিকের ব্যাপক কাজ কমিয়ে দিয়েছিলেন। এইজন্যই এখন বুর্জ খলিফার মত আকাশছোঁয়া দালান আমরা দেখতে পাচ্ছি। বুর্জ খলিফাতে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চেয়ে অর্ধেকের মত ইস্পাত লেগেছে! এটি হচ্ছে উঁচু দালানগুলোর ক্ষেত্রে একটি সাহসী, কম ভারসম্পন্ন এবং দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ”।
শুধু এরকম আকাশছোঁয়াই তো নয়, আরোও দারুণ সব স্ট্রাকচার খান সাহেবের
হাত ধরে উঠে এসেছে। ১৯৮১ সালে সম্পন্ন হওয়া কিং আব্দুল আযীয বিমানবন্দরের হজ্জ টার্মিনাল
তন্মধ্যে একটি। এটি দেখতে তাবুর ছাদের মত। এগুলো গুটিয়েও রাখা যায় যখন এসবের কোনো কাজ
থাকে না! এই অসাধারণ প্রজেক্টটি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরষ্কারও পেয়েছে। আগা খান
এওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার হচ্ছে তন্মধ্যে অন্যতম। এটিকে মুসলিম স্থাপত্যে একটি অনন্যসাধারণ
নকশা হিসেবে ধরা হয়। এটি এরকম ক্ষেত্রে স্টাকচারাল উপাদান হিসেবে কাপড়ের ব্যবহারকেও
বেশ গুরুত্ববহ করেছে এবং পথিকৃৎ হয়েছে।
এছাড়াও কিং আব্দুল আযীয বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনাইটেড স্টেটস এয়ার ফোর্স একাডেমিও তার ডিজাইন করা। ইলিনয়সের ডেয়ারফিল্ডের ব্যাক্সটার ট্রাভেনল ল্যাবরেটরির জন্য তিনি এবং ব্রুস গ্রাহাম মিলে ক্যাবল (তার) ভিত্তিক ছাদের নকশাও করেছেন।
পুরষ্কার এবং সম্মাননা
তার ক্যারিয়ার হাজারো পুরষ্কারে
ভুষিত। ১৯৭১ সালে ওয়েসন মেডাল এবং ১৯৭৩ এ আলফ্রেড লিন্ডাও এওয়ার্ড পান। এগুলো আমেরিকান
কনক্রিট ইনস্টিটিউট তাকে দেয়। ১৯৭২ সালে থমাস মিডলব্রুকস এওয়ার্ড, ১৯৭৭ সালে আর্নেস্ট
হাওয়ার্ড এওয়ার্ড লাভ করেন। আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব স্টিল কনস্ট্রাকশন ১৯৭৩ সালে তাকে
দ্যা কিমব্রু মেডাল প্রদান করে। লণ্ডনের ইনস্টিটিউশন অব স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারস থেকে
এই সালেই অস্কার ফেবার মেডাল পান। ইন্টারন্যশনাল এসোসিয়েশন ফর ব্রীজ এন্ড স্ট্রাকচারাল
ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ১৯৮৩ সালে ইন্টারন্যশনাল এওয়ার্ড অব মেরিট ইন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং
পদক পান। ১৯৮৭ সালে জন পালমার এওয়ার্ড পান ইলিনয়সের স্টাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারস এসোসিয়েশন
থেকে এবং ইলিনিয়স ইঞ্জিনিয়ারিং কাউন্সিলের হল অব ফেমে ২০০৬ সালে স্থান পান।
শুধু কি তিনিই পেয়েছেন? না, তার নামেও বিভিন্ন এওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে।
দ্যা কাউন্সিল অন টল বিল্ডিংস এন্ড আরবান হেবিটেট তাদের একটি এওয়ার্ডকে “ফজলুর রহমান
খান লাইফটাইম এচিভমেন্ট মেডাল” নামকরণ করেছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময় চেয়ার হিসেবে নানা
বিশ্ববিদ্যালয় রাঙিয়েছেন।
২০২১ সালে পরিচালক লায়লা কাযমী তাকে নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি বানানো শুরু করেন। যার নাম “রিচিং নিউ হাইটসঃ ফজলুর রহমান খান এন্ড দ্যা স্কাইস্ক্র্যাপার”। এখানে তার সাথে সহযোগী হিসেবে অর্নিলা গুহ এবং বেগোনা লোপেজও আছে, যিনি নিউ ইয়ররকের স্বনামধন্য একজন ডিরেক্টর। এটি প্রযোজনা করছে ফিল্ম ইন্ডিপেনডেন্ট নামক একটি প্রতিষ্ঠান।
মুক্তিযুদ্ধে অবদান
১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। তিনি এর পক্ষে জনমতামত এবং ফান্ডিং জোগাড়ে জোর কাজ চালিয়েছিলেন। তিনি শিকাগো ভিত্তিক বাংলাদেশ ইমার্জেন্সি ওয়েলফেয়ার আপীল অর্গানাইজেশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
মৃত্যু
১৯৮২ সালের ২৭ ই মার্চ জেদ্দাহতে থাকাকালীন তার হার্ট এটাক হয়।
এবং তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নেন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৫২ বছর। তার মরদেহ ইউনাইটেড
স্টেটসে ফিরিয়ে নিয়ে শিকাগোর গ্রেসল্যান্ড সিমেট্রিতে দাফন করা হয়।
এই ক্ষণজন্মা মানুষটি আমাদের অনেক কিছুই দিয়ে গিয়েছেন। সবচেয়ে সেরা
দানটি হচ্ছে সবখানেই একজন বাংলাদেশী হিসেবে তাকে আমরা স্মরণ করতে পারি। তিনি আমাদের
পথ দেখিয়েছেন, স্বপ্ন দেখা শিখিয়েছেন। আমাদের জন্য সেই পথে হেটে বহুদূর যাওয়াই এখন
কেবল কর্তব্য।
তথ্যসূত্র
[1] “1971:
Bangladesh Liberation War | Dr. Fazlur R. Khan.”
https://drfazlurrkhan.com/1971-bangladesh-liberation-war/ (accessed Apr. 23,
2022).
[2] R. G.
Weingardt, “Engineering Legends: Great Americal Civil Engineers,” 2005.
[3] M. M. Ali,
“Evolution of Concrete Skyscrapers: from Ingalls to Jin Mao,” Electronic
Journal of Structural Engineering, vol. 1, no. 1, pp. 2–14, 2001,
Accessed: Apr. 20, 2022. [Online]. Available:
http://www.ejse.org/Archives/Fulltext/200101/01/20010101.htm
[4] M. M. Ali,
“Art of the skyscraper: the genius of Fazlur Khan,” p. 239, 2001.
[5] Richard.
Weingardt, Engineering Legends: Great American Civil Engineers: 32 Profiles
of Inspiration and Achievement. ASCE Publications, 2005. Accessed: Apr.
20, 2022. [Online]. Available:
http://books.google.com/books?id=rF1IFsQ0wdcC&pg=PA78
[6] K. S. M. M.
M. Ali, “Structural developments in tall buildings: current trends and future
prospects,” Architectural Science Review, no. September 2007, Accessed:
Apr. 20, 2022. [Online]. Available:
http://www.accessmylibrary.com/coms2/summary_0286-32962093_ITM
[7] A. Council
on Tall Buildings and Urban Habitat. World Congress (6th: 2001: Melbourne and
Council on Tall Buildings and Urban Habitat., “Tall buildings and urban
habitat: cities in the third millennium: 6th World Congress of the Council on
Tall Buildings and Urban Habitat, 26 February to 2 March 2001,” p. 760, 2001.
[8] National
Academy of Sciences (U.S.), “Biographical memoirs. Volume 62,” p. 498, 1993.
[9] M. M. Ali,
“Art of the skyscraper: the genius of Fazlur Khan,” p. 239, 2001.
[10] Y. Sabina.
Khan, Engineering Architecture: The Vision of Fazlur R. Khan. W. W.
Norton & Company, 2004. Accessed: Apr. 20, 2022. [Online]. Available:
https://books.google.com/books?id=S3l80jXPOewC
[11] “Who was
Fazlur Rahman Khan? The genius who made today’s skyscrapers possible,” The
Daily Telegraph, Apr. 2017, Accessed: Apr. 20, 2022. [Online]. Available:
https://www.telegraph.co.uk/technology/2017/04/03/fazlur-rahman-khan-genius-whose-simple-invention-made-todays/
[12] Reaching
New Heights: Fazlur Rahman Khan and the Skyscraper. Accessed: Apr. 20,
2022. [Online]. Available: https://www.frkdocumentary.com/

0 মন্তব্যসমূহ