
তিনশত তের সাজ্জাদুর রহমান

০১
অতিসত্ত্বর সত্তরজনের বাহিনী তৈরি হয়ে গেল। নেতৃত্ব দেবেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ(সাঃ)। সাহাবীদের মাঝে আগ্রহের কমতি নেই তবে মদীনার নিরাপত্তাও ভাবতে হবে। যায়েদ ইবনে হারিসাহ(রাঃ) কে শহর রক্ষার দায়িত্ব ও আমীর নিযুক্ত করে পথে রওনা দিলেন নবী(সাঃ)। আলী ইবনে আবু তালিব(রাঃ) এর হাতে সাদা ঝান্ডার নিচে মুসলিম বাহিনী এগিয়ে গেল মদীনা পেরিয়ে সাফওয়ান উপত্যকায়, বদর প্রান্তরের একদম কাছেই। শহরের উপকন্ঠে আক্রমণ করে গবাদি পশু লুটে নিয়ে গিয়েছে কুচক্রী কুরয ইবনে জারির ফিহরি ও তার দল। গোপনে এসে তড়িৎ গতিতে কিছু চারণভূমিও ধ্বংস করে গিয়েছে তারা। লম্পট সেই দলটিকে ধরতেই হঠাৎ এই দ্রুতযাত্রা।
রাসূল(সাঃ) যেসব অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহণ করতেন সেগুলোকে বলা হত গাযওয়াহ। আর সারিয়্যাহ হচ্ছে সেগুলোই যেসবে নবী(সাঃ) এর নির্দেশে কোন সাহাবীর নেতৃত্বে মুসলিম সেনাদল অংশগ্রহণ করত। তাড়া করতে করতে সাফওয়ান উপত্যকায় পৌঁছিয়েও দৃষ্টির সীমানায় অনুপস্থিত থাকে সেই মুশরিক দল। সৈন্যবাহিনী নিয়ে মদীনায় প্রত্যাবর্তন করেন মহানবী(সাঃ)। কোন প্রকার সংঘাতও হয়নি দু’পক্ষের মাঝে। তবে প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়েছিল যুদ্ধের। চোখের আড়ে যে বদর প্রান্তর দেখে এসেছিলেন মুসলিম সেনানীরা তারই টানে আবার ফিরতে হয়েছিল। বদরের প্রথম যুদ্ধ নামে অভিহিত এই গাযওয়াহ অমীমাংসিতই থেকে গেল। বদর প্রান্তর, ইতিহাস বলে যায় আবার ফিরতে হবে এখানে!
গাযওয়ায়ে সাফওয়ানের মাধ্যমে মুসলিমরা এক ধরণের সতর্কবার্তা পেল। মক্কার অধিবাসীদের উপরে নজরদারী বাড়াতে হবে। যেহেতু যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি অতএব তাদের যেকোন অগ্রগতি মদীনাবাসীর জন্য হুমকি হতে পারে। দূর্বল জায়গা খুঁজে শত্রুকে আঘাত করে যদি যুদ্ধের মানসিকতাটাকে কমজোর করে ফেলা যায় তবে জয়ের সম্ভাবনা তো বেশিই থাকে, এটিই যুদ্ধের স্বাভাবিক নিয়ম। বাণিজ্যিক কাফেলাগুলো ছিল মক্কাবাসীদের যাবতীয় ধন-সম্পদের বিরাট উৎস। যদি তাদের কোন বৃহৎ বাণিজ্যিক কাফেলাকে আটকে ফেলা যায় তবে এক ঢিলে দুই পাখিও মারা যায়। একেতো মক্কাবাসী অর্থনৈতিক এবং মানসিক ভাবে ভেঙে পড়বে কিন্তু অপরদিকে মদীনার অধিবাসীদের আর্থিক লাভ হবার সাথে মনের দিক দিয়ে চাঙা হবে, সাহস বৃদ্ধি পাবে এবং যুদ্ধের আগে ইতিবাচক ভাবে এগিয়ে থাকবে। তাই মক্কা থেকে সিরিয়াভিমুখে বের হওয়া কুরাইশ কাফেলার পথরোধ করা ছিল যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।
সে কথামতই একমাস পরেই দুশ মুহাজিরকে নিয়ে কুরাইশ কাফেলার পথরোধ করতে এগিয়ে গেলেন স্বয়ং মুহাম্মাদ(সাঃ)। মক্কা থেকে হিজরত করে আসা সাহাবীদের বলা হত মুহাজির এবং তাঁদের আশ্রয়দাতাদের আনসার। আনসার অর্থ সাহায্যকারী, মুহাজির অর্থ যে হিজরত করে এসেছে। গাযওয়াহটি ছিল সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। উদ্দেশ্য সিরিয়াগামী কুরাইশ অভিযাত্রীদের বাঁধা দেয়া বাণিজ্যে যেতে। কারণ এ কাফেলায় ছিল বহু বহু মূল্যবাদ দ্রব্যাদি এবং সামগ্রী। যা কুরাইশদের যুদ্ধের আগেই সবদিক দিয়েই এগিয়ে রাখতে পারত। সঙ্গে মাত্র ত্রিশটি উট। ইতোমধ্যেই যুদ্ধ না করার চুক্তি হয়ে গেল বনু মুদলিজ এবং বনু যমরাহর সাথে। মদীনা কিছুটা হলেও নিরাপদ হল। তবে খালি হাতেই ফিরতে হল আবারো মুসলিমদের। তবে সাথে করে উভয় পক্ষই নিয়ে গেল বড় কিছু ঘটবার ক্ষেত্র, যা ভবিষ্যতে আসতে চলেছে।
০২
তপ্ত মরুর বুক চিরে এগিয়ে চলছে ছয়টি জাহাজ। জানুয়ারীর সময়টাতে বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় গরম একটু কমই। সূর্যের তীক্ষ্ণ রশ্মি তবুও কাউকে ছেড়ে কথা বলে না। পায়ের নিচের ফুটন্ত বালিরাশি, মাথার উপরে অভিমান ঝরানো সোনালী আসমান তারই মাঝে উঁচুনিচু পথ পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তারা ক্লান্তহীন ভাবে। উট ছয়টি হলেও মানুষ বারো জন। পালাক্রমে আরোহণ করে এই ধূসর উপত্যকা পার করতে হচ্ছে তাই। একজন উটের পিঠে বসলে অপরজন লাগাম ধরে হাটায়। সে পরিশ্রান্ত হলে অপরজন নেমে তাকে সুযোগ দেয়। অবশ্য এরকম সহমর্মিতার শিক্ষা তাঁরা পেয়েছে প্রধান থেকেই। বাস্তব জীবনে সেটারই প্রতিফলন ঘটাচ্ছে মাত্র। দুইদিনের পথ পাড়ি দিতে হবে, তবেই পাওয়া যাবে পরবর্তী নির্দেশনা। কঠোর আদেশ দিয়েছেন তিনি, দুইদিন অতিক্রম করার আগেই চিঠিটি না খোলার জন্য।
হঠাৎ বাতাসের ধাক্কায় জমে থাকা ধুলোবালির গুমোট গন্ধ পেয়ে ঘাড় বাঁকিয়ে দেখল নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিটি। জানালার কপাটগুলো ধুলোর আস্তরণে ভারী হয়ে বাতাসের সাথে তাল মিলানোতে অযোগ্যতার প্রমাণ রাখছে, দরজাগুলো বাড়িটির অস্তিত্বকে অস্বীকার করছে। বাতাসের স্বাভাবিক আনাগোনায় জমে থাকা ধুলোর অবাধ বিচরণে বিরান হয়ে যাওয়া বাসস্থানটিকে এক নজরে ভুতুড়ে বলেই আখ্যা দেয়া যায়। দলবলসহ ব্যক্তিটি বাড়িটির দিকেই এগিয়ে গেল। আবু জাহেল এবং উতবা বিন রাবিয়ার নেতৃত্বে মক্কার কিছু লোক ঘুরে বেড়াচ্ছে। সদ্য হিজরতের জন্য আদেশপ্রাপ্ত কিছু মুসলমান চোখ ফাঁকি দিয়ে মদীনায় পা রাখতে পেরেছে বলে খবর তাদের জানা। তাই খোঁজ হচ্ছে আরোও বেশী। বনু জাহাশ পুরো খান্দান সহ হিজরত করেছে আমাদের ফাঁকি দিয়েই, চেঁচিয়ে উঠল উতবা। চোখদুটো বড় হয়ে উঠল আবু জাহেলের। তবে আসবাব সহ যাবতীয় সবই ফেলে গিয়েছে তাঁরা উতবা, চকচকে চোখে শূণ্য ঘরের দিকে চেয়ে রইল সে।
আবু সালামা(রাঃ) এর হিজরতের ঘটনাবলী ছিল হৃদয়বিদারক এক উপাখ্যান। স্ত্রী-পুত্রকে ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল তাকে। তবুও আল্লাহর পথ থেকে একচুলও নড়েননি সিংহহৃদয় এই পুরুষ। প্রথম হিজরতকারী হিসেবে মদীনায় পা রেখেছিলেন তিনি। হিজরতকারী দ্বিতীয় ব্যক্তিটিই হচ্ছেন আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ(রাঃ), পুরো পরিবার নিয়েই খেজুর বাগান ঘেরা এই উপত্যকা আলোকিত করেছিলেন তিনি। মক্কার দিনগুলো ভেবে কত কষ্টেই দিনাতিপাত না করেছেন! জানতে পেরেছিলেন হিজরতের পরেই মুশরিকদের দ্বারা বাড়িঘর জবরদখল হবার কথা, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে, পানিহীন ক্লান্ত দু’চোখ নিয়ে এসেছিলেন রাসূল(সাঃ) এর দরবারে। বিনিময়ে পেয়েছিলেন জান্নাতের সুসংবাদ। দুঃখী চিত্ত মুহূর্তেই খুশীর জোয়ারে ভেসে উচ্ছ্বল হয়ে উঠল। শুভ্র সাদা দাঁতের ফোকর থেকে বেরিয়ে আসল সুললিত কন্ঠমালায় গাথা বাক্য, “তোমার জন্য তাহলে জান্নাতই উত্তম”। চোখ থেকে দুই ফোটা নোনা জল গড়িয়ে হাতের পিঠে আঘাত হানল। সম্বিৎ ফিরে পেলেন আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ(রাঃ)। বারোজনের দলটির নেতৃত্ব তিনিই দিচ্ছেন। দু’দিনের পথ অতিক্রম করে এসে পড়েছেন খেয়াল করে বুঝলেন তিনি। উট থামিয়ে বাহিনিকে ক্যাম্প করতে আদেশ দিলেন সত্ত্বর। স্বস্তি নিয়ে বসে রাসূল(সাঃ) এর পবিত্র আদেশনামা খুলে বসলেন তিনি।
“এ ঝুকিপূর্ণ পথে শাহাদাতকে অবধারিত জেনে যারা আমার সাথে যেতে ইচ্ছুক, তাদেরকেই সাথে নিব। ইচ্ছুক না হলে নিঃসঙ্কোচে ফিরে যেতে পারে কেউ”। রাষ্ট্রপ্রধানের আদেশ পড়ার পর বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে বললেন দলনেতা আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ(রাঃ)। “আল্লাহর রাসূল আপনাকে যে পর্যন্ত যেতে বলেছেন, সে পর্যন্ত আপনার সাথে যেতে প্রস্তুত আছি আমরা”, সমস্বরে বলে উঠল বারোজনের সবাই। কন্ঠে উদ্দাম, চেহারায় দৃঢ়তা, চোখে সাহস এবং চেহারায় শাহাদাতের তামান্না দিয়ে একেকটি আলোকিত প্রতিচ্ছবি তাঁরা সবাই। হাতের মুঠোয় কাগজটি শক্ত করে চেপে ধরলেন তিনি। আল্লাহর সাহায্য চেয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আবারো যাত্রা শুরু হল গন্তব্য পানে।
দশজন নিয়ে গন্তব্যভিমুখে ছুটছেন আব্দুল্লাহ(রাঃ)। মরুপ্রান্তরের সোনালী বালুর আভা তাঁদের চেহারায় এসে ফিরে যাচ্ছে সত্যের রোশনীতে হার মেনে। দৃপ্ত চেহারায় শপথ পূর্ণ করবার আকাঙ্ক্ষা প্রোজ্জ্বল, কালো চোখে পথের পানে গভীর দৃষ্টি। পিছনে পড়ে থাকা দুজনের চেহারায় কে যেন কালো রঙ মাখিয়ে দিয়েছে। শূণ্য চাহনিতে মরুপানে তাকিয়ে দেখছেন সাথীদের এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য। উট হারিয়ে ফেলেছেন তাঁরা, সামনে তাই আর যেতে পারবেন না। গন্তব্য বহুদূর, পদব্রজে গিয়ে আদেশ পালনের অঙ্গীকার রক্ষাও করা যাবে না। মায়াভরা চোখে তপ্ত বালুতে আক্ষেপের জলে গাল ভিজিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) এবং উতবাহ ইবনে গাযওয়ান (রাঃ)।
চোখের সামনে সারি সারি খেজুর গাছ দৃশ্যমান হল। থোকা থোকা ফলে মুখরিত সব বৃক্ষ। উটগুলো ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত হয়েছে পথ চলতে চলতে। খেজুর শাখায় আশা সঞ্চারিত হল। পত্র আবার খুলে সামনে ধরলেন আব্দুল্লাহ(রাঃ)। এটিই সেই মধ্যবর্তী স্থান। আদেশানুযায়ী এখানেই থামতে হবে, লক্ষ্য রাখতে হবে কুরাইশদের বাণিজ্য পথের দিকে। কারণ রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা এক কুরাইশ কাফেলার আগমনের প্রতীক্ষা করবে, সেখানে ওৎ পেতে থাকবে এবং তাদের অবস্থা আমাদের জানাবে”। মরুর জাহাজগুলো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্লান্তহীনতাকে ত্যাগ করল। তপ্ত বালির সোনালী বক্ষে এলিয়ে দিল নিজেদের পিঠ। সাহাবাগণ অবতরণ করলেন। ইবনে জাহাশ(রাঃ) এর ভাষা সবার কর্ণকুহরে তরঙ্গায়িত হল। যার যার অবস্থা নিশ্চিত হবার পর সবাই নির্দেশানুযায়ী লুকিয়ে পড়ল। এখন শুধুই অপেক্ষা সঠিক সময়ের, প্রতীক্ষা শুধুই আগুন জ্বলে উঠবার।
আরবদের পবিত্র মাস ছিল চারটি। মোহাররম, রজব, যিলক্বদ এবং যিলহজ্জ্ব। এই মাসগুলোতে আরবে শান্তি বিরাজ করত, যুদ্ধ ছিল নিষিদ্ধ। রাসূলের আদেশ নাকি পূর্বসূরীদের নিয়ম কি বেছে নেবেন ভাবতে গিয়ে দলনেতা নিজেকে আবিষ্কার করলেন কুয়াশাচ্ছন্ন প্রান্তরে। হারাম মাস রজবের শেষ দিন আজ। একদিন অপেক্ষা করে কাফেলাকে ধরতে হলে সেটি নিরাপদ সীমানায় পৌঁছে যাবে। হারাম মাসে আক্রমণ করা মানে তাদের অপমান করা আবার যদি না হয় তবে মুসলমানদের এ অভিযান ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। ভাবনার দোলাচলে দোল খেতে খেতে সাথীদের সাথে পরামর্শ করে দ্বিতীয় সিদ্ধান্তের কাছে মাথা অবনত করলেন তিনি। খেজুর গাছের সারি থেকে আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর ধ্বনিত হল। পথ দিয়ে যাওয়া কাফের কাফেলা আতঙ্কিত হয়ে থেমে গিয়ে প্রতিরোধের প্রস্তুতি সম্পন্ন করবার পদক্ষেপ নিল। ততক্ষণে ঝড় ধেয়ে এসেছে নাখলাহ প্রান্তরে, শাই শাই করে ছুটে আসা তীরের ফলকগুলো মক্কার অধিবাসীদের আবাবিলের পাথরখন্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিল যা বর্ষিত হয়েছিল অহংকারী হাবশার উপরে।
বাহনের পিঠ থেকে ছিটকে পড়লেন আমর ইবনে হাযরামী, বুকের ঠিক মাঝখানটায় তীর বিদ্ধ হয়েছে তার। আযরাঈলের রথে চড়তে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করল না সে। কিসমিস এবং চামড়া ভর্তি বাণিজ্য কাফেলাটিকে ততক্ষণে ঘিরে ধরেছে মুসলিম সেনানীরা। বাকিরা অস্ত্র ফেলে দিল উপায় না পেয়ে। সুযোগ পেয়ে ছুটে পালাল নওফেল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুগীরাহ। পিছে রেখে গেল তার ভাই উসমান এবং বিশ্বস্ত সঙ্গী হাকীমকে। কাফেলাসমেত আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ (রাঃ) বিজয়ীবেশে মদীনাভিমুখে উটের মুখ ঘুরালেন। ভীতি সঞ্চার হল মক্কার প্রতিটি প্রাণে। মুসলিমরা আর দূর্বল নয়। তাঁরা সীমানার বাইরে গিয়েও স্বদেশকে রক্ষা করতে পারে, শত শত মাইল পেরিয়েও পালন করতে পারে রাষ্ট্রপ্রধানের আদেশ। তাঁরা সর্বদা সজাগ, সচেতন এবং দূরদর্শী। হেলার সব সুযোগই দমন করে ফেলেছে তাঁরা।
মদীনা ফিরেই রাসূল (সাঃ) এর অসন্তোষের মুখোমুখি হলেন তারা। কারণ তিনি আক্রমণের অনুমতি দেননি। গণীমত এবং বন্দীদের ব্যাপারে তাই তিনি হস্তক্ষেপ করলেন না। মুশরিকরাও রটিয়ে দিল মুসলিমরা হারাম মাসের বিধান লঙ্ঘন করেছে। ফলে বিজয়ীবেশে ফিরে আসা সাহাবারা পড়ে গেলেন অস্বস্তিতে। মুমিনের হতাশায় আল্লাহর কথাই হচ্ছে চূড়ান্ত ভরসা। আল্লাহ্ তার ওহী পাঠালেন। সূরা বাকারাহ এর ২১৭ নং আয়াত সেই ঘোষণা আজও দিয়ে চলছে।
হুমকির মুখে পড়ল কুরাইশদের সমৃদ্ধ বাণিজ্যবহর। যতই হোক, তীক্ষ্ণ এবং বুদ্ধিমান শত্রুরাষ্ট্রের পার্শ্ববর্তী কোন পথ অবশ্যই নিরাপদ নয় আর তাদের ব্যবসায়ীদের জন্য। একটা এসপার উসপার করতেই হবে। চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় লালচে অনলে নিজেদের চেহারার প্রতিচ্ছবি অঙ্কন করল তারা। সময় এসেছে শক্তিশালী পদক্ষেপ নেবার। অপেক্ষা নয় আর, হবে এবার চূড়ান্ত আক্রমন।
( বদর যুদ্ধ নিয়ে একটি লেখার একাংশ। এখানে বদরের আগের কিছু ছোটখাটো গাযওয়াহ এবং সারিয়্যাহের কথা বলা হয়েছে। গতবছর বলেছিলাম পুরোটা লিখব, হয়ে উঠেনি। )
বদর আমাদের অনুপ্রেরণা। সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী এ লড়াই সবসময় চলবে, বহুবছর আগে ই ১৭ রমজানে যার সূচনা হয়েছিল।
0 মন্তব্যসমূহ