লেখা তরজমা

বই-আড্ডাঃ ঝিলাম নদীর দেশ


এই ব্যস্ত সময়ে দম ফেলারও ফুরসৎ পাওয়া যায় না, এক শ্বাসের ফাকে আরেক শ্বাস ঢুকে তোলপাড় চালায়, বলে দ্রুতলয়ে চলো, সময় কোথা সময় নষ্ট করবার! 

যাইহোক, সময়-টময় ম্যানেজ করে হুড়মুড় করে বহুবারের মত কাশ্মীর ট্যুর দিয়েই ফেললাম। ঝিলামের কোলঘেষে শিকারায় চন্দ্রস্নান, নিশাতবাগের মধুকাড়া ফুলের সুবাস, চেশমা শাহীর বেহেশতী যুদন, তারপর আমাদের শালিমারে সুমিষ্ট পানির শালিমারবাগটাও রাঙিয়ে এলাম।  পুষ্পাচ্ছন্ন কাশ্মীরী আসমান যেন হাজার বছরের লালিমা রাঙা প্রেম নিয়ে আমাদেরই প্রতীক্ষাতে ছিল। আহা! আমাদের কাশ্মীর! যদি পারতাম পেহেলগামের পথের ছোট্ট ওই বাড়িটায় পড়ে থাকতে! চিনারের সারিতে মুগ্ধ স্বপ্নের ডালপালা ছড়াতে! আহা! যদি পারতাম এর সুগন্ধ গায়ে মেখে দুনিয়াজুড়ে এর সংগ্রামকে জানাতে! এর নির্যাস আহরণ করে সৌন্দর্যকে বর্ণনা করতে! যদি পারতাম! 

ওকে, ভয়ের কিছু নাই। আমি নিজে যাই নাই। তবে বুলবুল সরওয়ারের রচনায় নিজে না গিয়েও থাকা যায় না, চোখের সামনে সব বিমূর্ত হয়ে উঠে। এটাকে ভ্রমণ কাহিনী বলা যায়, বলা যায় নিখাদ এক উপন্যাসও। এ যেন এক তৃপ্তিকর ট্রাজেডি! 

যে বইগুলো পড়ে কখনো ক্লান্ত হইনি তন্মধ্যে এটি দুই নম্বরে আছে। প্রথমটি দেশে-বিদেশে। কি অদ্ভুত মায়া জড়ানো এর প্রতিটা হরফ! মনকে বিষন্ন করে, পরমুহূর্তেই আবার আনন্দ দেয়, হঠাৎ খিলখিলিয়ে হাসায়, ইতিহাসের আয়নাকে হুট করে সামনে এনে বর্তমানকে প্রতিবিম্ব করে, প্রেমে মগ্ন হয়, বিরহে আচ্ছন্নতা আসে, আর আসে কয়েক রাশ মোহময়তা। গোগ্রাসে গেলা যায় না, ভাবায়, চোখদুটো নির্মিলিত হয়, আসমানের ঠিকানায় দুয়েক ছত্র শায়েরীও ছুটে, বইয়ের পাতা নাকের সাথে তীব্রভাবে ঘষতে ইচ্ছে হয়, যদি এতটুকুও পেহেলগামের তোপরাক পাওয়া যায়, যদি পাওয়া যায় লিডারের স্রোতধারার একটি ফোটা, যদি ঝিলাম থেকে একটু জল এসে চোখকে সিক্ত করে, যদি আঙুরথোকায় স্বাদ পাওয়া যায় কাশ্মিরী সমীরণের, লাল চেরিতে যদি ফুটে উঠে কাশ্মিরের বিষাদ, যদি গুলমার্গের শুভ্রতায় মায়ার নতুন সংজ্ঞা পাওয়া যায় সেই আশাতেই। 

বেশী কথাতে না যাই, বুলবুল সরওয়ার ভ্রমণ কাহিনীতে পাঠকদের হৃদয়কে চুরমার করতে পছন্দ করেন। জাহাঙ্গীরের মেহবুবা, নূরজাহানের খোদা-কি-তোহফা ঝিলামের জলধারার মত, হৃদয়ও গলে-জমে একাকার হয়। অনুভূত হয় সাচ্চা এক সাক্ষাতের আক্ষেপ ঝরা সিমুলেশন! 

সিদ্দিকের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা, হুট করে এত পুরনো স্মৃতির জানালা আবার সামনে আনাতে। ব্রেক তো দরকারই ছিল, ছুটি কাটাতে যে কাশ্মীরেই যাব এটাতো তারই কারসাজি। ঠিক সময়ে বইটা দিয়ে একটা সুন্দর সময় উপহারের জন্য। তো যারা চান কম খরচে কাশ্মীরে ঘুরে আসতে, প্যাকেজ ঘোষণা দিলাম, অফারের সময়সীমা শেষনিঃশ্বাস তক লিখে রাখুন। 


বই- ঝিলাম নদীর দেশ
লেখক- বুলবুল সরওয়ার

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ