লেখা তরজমা

রসায়নের গল্প - ০১

 


রসায়নের গল্প

সাজ্জাদুর রহমান

নতুন ক্লাসে ভর্তি হওয়া যতটা আনন্দের মাঝেমাঝে ততটাই বিরক্তিকর যদি প্রথমদিনেই সাউদার মত বাচাল মেয়ের সাথে বসতে হয় চেনা নেই, জানা নেই এসেই কথা বলা শুরু করে দিল অথচ রুহির কোনো আগ্রহই ছিলনা আর স্যারেরও আসার কোনো খবর নেই প্রথম দিননতুন স্কুল,  সবাই অপরিচিত সবমিলিয়ে রুহির ইচ্ছা হচ্ছে নিজের চুল টেনে ছিড়তে

প্রথমদিন দেখে স্কুলেও আগে আসতে হয়েছে সাউদার প্যাচপ্যাচানি থেকে সুস্থ ভাবে বাসায় ফিরে যাওয়াই এখন রুহির একমাত্র লক্ষ্য অপরিচিত লোকের সাথে কেউ এত কথা বলতে পারে রুহির জানা ছিলনা

অবশেষে পাঁচ মিনিট লেইট করে হাসিমুখে সালাম দিয়ে  স্যার ক্লাসে ঢুকলেন রুহি হাফ ছেড়ে বাঁচল, অন্তত ওই মেয়েটার কথায় কান ঝালাপালা হবে না এবার

স্যারের সাথে নতুন বই দেখে রুহির চোখমুখ চিকচিক করে উঠল বইপড়ুয়া রুহি নতুন বইয়ের জন্য সবসময় পাগল তার ভালো লাগে নতুন বইয়ের মনকাড়া ঘ্রাণ বইয়ের পাতায় হারিয়ে যাবার চেয়ে বেশি আনন্দ আর কিচ্ছুতেই আছে নাকি!

-        আমি তোমাদের নূর স্যার প্রথমেই দুঃখিত দেরি হবার জন্য বইগুলো গুছিয়ে আনতেই দেরি হয়ে গেল

-        ইটস ওকে, স্যার সমস্বরে সবাই বলে উঠল

স্যারের মিষ্টি কথা শুনে রুহির মন এক মুহূর্তেই ফুরফুরে হয়ে গেল তারচেয়েও বেশি আনন্দ পেল যখন দেখল বই বিতরণ শুরু হয়েছে বই হাতে নিয়েই চোখ বন্ধ করে ঘ্রাণ শুঁকার জন্য রুহি যেই প্রস্তুতি নিল তখনি স্কার্ফে টান লেগে তা খুলে গেল

আর কাহাতক সহ্য করা যায় এবারও সাউদা, প্রথম থেকেই তার পিছনে লেগে আছে শুধু টান দিয়েই ক্ষান্ত হয়নিতার বইগুলোও নিয়ে গিয়েছে প্রথম দিনেই এরকম পাগলের পাল্লায় পড়তে হবে কে ভেবেছিল রুহির ইচ্ছা করছে সাউদার একেকটা চুল টান দিয়ে ছিড়ে দড়ি বানিয়ে দড়িলাফ খেলতে নেহাত সে ভদ্র মেয়ে, তাই কিছু বলছে না!

কিন্তু রুহি অবাক হল আরে সাউদাও দেখি তার মতঘ্রাণ শুঁকছে বইয়ের তারমানে সাউদাও বইপাগল, ঠিক তার মতই মেয়েটা পাগল হোক আর যাইহোক, বইপাগল মেয়ে কখনোই খারাপ বন্ধু হবে না রুহি মনে মনে বেশ খুশিই হল

এতক্ষণ রুহি খেয়ালই করেনি, স্যার অলরেডি তার পুরো পরিচয় বোর্ডে লিখে দিয়েছেন স্যার রসায়নে অনার্স, মাষ্টার্স করেছেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে রুহির মনে পড়ল তার বাবাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই পড়াশুনা করেছেন

স্যারের মিষ্টি গলা রুহির ভাবনায় সবসময় ছেদ ফেলে দিচ্ছে ভুলে রুহির স্কার্ফ খুলে ফেলাতে সাউদাও তাকে সরি বলেছে এখন সবকিছু রুহির কাছে ঠিকঠাক লাগছে

-        পরিচয় দেখেই বুঝেছ আমি তোমাদের রসায়ন পড়াব

-        জ্বি স্যার,সমস্বরে আবারো সবাই বলে উঠল

-        আমি তোমাদের ম্যাজিক , কালো জাদু, ডাইনীবিদ্যা শিখাব

ক্লাসের সবাই এবার উচ্চস্বরে হেসে উঠল স্যারের গলা শুধু মিষ্টি না, মানুষটাও মজাদার, মনে মনে ভাবল রুহি

-        প্রাচীন কালে ইউরোপে রসায়নকে বলা হত দ্যা অকাল্ট সায়েন্স। অকাল্ট (Occult)  শব্দের অর্থ কে বলতে পারবে?

-        সুপারন্যাচারাল, ব্ল্যাকম্যাজিককেউ কিছু বুঝার আগেই সাউদা দাড়িয়ে বলে ফেলল

-        গুডগার্ল, বসো যার বাংলা অর্থ অতিপ্রাকৃত, জাদুময় বা সুপ্তকে বলতে পারবে কেন রসায়নকে এরকমটা বলা হত?

-        যারা রসায়ন চর্চা করতেন চার্চ তাদের ঈশ্বরের শত্রু ভাবত চার্চ বিজ্ঞানচর্চাকারী সবাইকেই ডাইনীদের অন্তর্ভূক্ত করেছিল তাই রসায়নকে উইচক্র্যাফটও বলা হত আর বাইবেলের দোহাই দিয়ে তারা তাদের পুড়িয়ে মারত রসায়নকে তারা জাদুবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত করেছিল

রুহি তাকিয়ে দেখল এবারো সাউদা তার হিংসাও হল আবার ভালোও লাগল যাক, প্রথমদিনেই সে ভালো একজন বন্ধু পাচ্ছে

-        বাহ, তুমি তো অনেক কিছুই জানো আরো পড়াশুনা করবে অল দ্যা বেস্ট অফ ইউ, বসো সবাই তো এবার জানলে কেন রসায়নকে দ্যা অকাল্ট সায়েন্স বলা হত

-        কিন্তু স্যার, আমি পড়েছি রসায়নকে দ্যা ডিভাইন সায়েন্স বলা হয় দুটো কেমন বিপরীত লাগছে

খুব তাড়াতাড়ি কথাগুলো বলেই ঘেমে গেল রুহি সাউদার আগে সে বলেছে এই নিয়ে দারুণ আনন্দ পেল

-        হ্যা, মাই গার্ল দুটি শব্দই তৎকালীন রসায়নের জন্য তাৎপর্যপূর্ণযেমন মধ্য যুগকে ইউরোপীয়রা বলে অন্ধকার যুগ কিন্তু মুসলিমদের জন্য সেটা ছিল রেনেসাঁর যুগ স্থান, কাল ভেদে সবকিছুই পরিবর্তন হয়তাই রসায়ন এক জায়গায় স্বর্গীয় তো আরেক জায়গায় নরকীয়

-        জ্বি,স্যার বুঝতে পেরেছি

-        মহাকবি দান্তে অলিঘিয়েরির নাম কে কে শুনেছ?

-        আমি ড্যান ব্রাউনের ইনফার্নোতে তার সম্পর্কে জেনেছিলাম

এবারও সাউদা এই মেয়েটা এত্ত কিভাবে জানে ড্যান ব্রাউনের ইনফার্নো আজকেই পড়ে ফেলবে, মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল রুহি

-        বাহ, আবারো তুমি বসো,বইটা আমিও পড়েছি মহাকবি দান্তে রসায়নচর্চাকারীদের নরকের  অষ্টম অংশে স্থান দিয়েছেন সময় পেলে তোমরা তার ডিভাইন কমেডি পড়ে নিও

ঢং ঢং ঢং

 

যাহ! ঘন্টা বেজে গেল ক্লাসটাতো ভালোই লাগছিল সালাম দিয়ে স্যার ক্লাস থেকে বের হয়ে গেলেন প্রথম দিন দেখে ফার্স্ট ক্লাসের পর স্কুলও ছুটি হয়ে গেল রিকশায় যেতে যেতে রুহির মাথায় মধ্যযুগ টার্মটা ঘুরতে লাগল স্যারের ব্যাখ্যায় মস্তিষ্কের ক্ষুধা পুরোপুরি মেটেনি যাইহোক, আব্বুকে জিজ্ঞেস করে নিব আজকেইমনে মনে সিদ্ধান্ত নিল রুহি

 

মধ্যযুগের ঘূর্ণিমালায়

-        ক্রুসেড সিরিজ পড়েছ?

-        জ্বি,আব্বু আসাদ বিন হাফিজ স্যারের লিখা

-        মধ্যযুগের ইতিহাসে ক্রুসেডের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

-        আমার কনফিউশন হচ্ছে এটার নাম দুইটা কেন? তাও আবার দুইটাই বিপরীত? রুহির চোখ জিজ্ঞেস করতে গিয়ে ছোট হয়ে আসল।

-        ইউরোপীয়রা যেখানে মধ্যযুগকে দ্যা এইজ অব ডার্কনেস বলে ঠিক তেমনি আমাদের কাছে মধ্যযুগ হচ্ছে দ্যা এইজ অব লাইটনেস ঐতিহাসিকরা এই মধ্যযুগকে দ্যা এইজ অব ফেইথও বলেছেন কারণ প্রতিটা নামের পিছনেই ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপট রয়েছে

-        আমি জানতে আগ্রহী,আব্বু। নড়েচড়ে হাত টেবিলে রেখে থুতনিতে লাগিয়ে বসল সে।

-  ঐতিহাসিকরা মধ্যযুগকে চিত্রিত করেছেন দ্যা হলি রোমান এম্পায়ার এর পতন থেকে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের আমেরিকা নেভিগেশনের মধ্যবর্তী সময়টুকুকেএই সময়টুকু ৪৭৬-১৪৯২ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল

-        তারমানে হাজার বছরেরও বেশি! দুই ঠোঁটের মাঝে শূণ্যতায় একটা বিরাট হা প্রতিস্থাপিত হল।

-        কিন্তু মূল মধ্যযুগ ধরা ৪৭৬-৮০০ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়কে

-        কেন?

-        দ্যা হলি রোমান এম্পায়ার এর পতনের পর ইউরোপে সেই সময়টুকুতে না এসেছিল কোনো গ্রেট লিডার, না এসেছিল কোন ভাল শিল্প কোনো গ্রেট লিডার না থাকার দরুন ক্যাথলিক চার্চের ক্ষমতা বহুগুণে বেড়ে গেল তাদের কথাই হয়ে গেল ঈশ্বরের বাণী ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে বিজ্ঞান চর্চার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল চার্চ

-        তারা রসায়নকে ডাইনীবিদ্যা, জাদুবিদ্যা বলতসুযোগ পেয়েই ক্লাসে শোনা কথাটুকু বাবার সামনে ঝেড়ে দিল রুহি

-        হ্যাঁ চার্চই ১০৯৫ সালে ক্রুসেড শুরু করেছিল যার ফলে চার্চের ক্ষমতা আরো বেড়ে গেল এবং ইউরোপও অন্ধকার থেকে আলোতে আসার পথ পেল ক্রুসেডের সুযোগ নিয়ে চার্চের ব্যালেন্সও আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গিয়েছিল

-        সালাহউদ্দিন আইউবীর কাহিনী আমি পড়েছি, আব্বু অনেক এডভেঞ্চারাস

-        ঠিক যখন ইউরোপ অন্ধকারে ধুকে ধুকে পথ চলছে তখনি মুসলিমরা আলকেমি চর্চা করে সভ্যতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌছাচ্ছিল তাই আমরা মধ্যযুগকে দ্যা এইজ অব লাইটনেস বলি

-        আলকেমি কি?

-        বলছি,শুনতে থাকো। রুহিকে তড়িৎ থামিয়ে দিয়ে বাবা আবার শুরু করলেন।  আলকেমিকে অনেকে শুধু রসায়ন চর্চা বলে অভিহিত করে কিন্তু আলকেমির বিস্তৃতি আরো বিশালরসায়ন, ধাতুবিদ্যা, পদার্থবিজ্ঞান, চিকিৎসাশাস্ত্র, জ্যোতিষশাস্ত্র, আধ্যাত্মবাদ, শিল্পকলা এগুলো সবগুলোই আলকেমি চর্চার অন্তর্ভূক্ত ছিল

-        তাহলে তো বলাই যায় বিজ্ঞান চর্চাটাই আলকেমি নামে পরিচিত ছিল

-        হ্যাঁ,ঠিক বলেছ আর রসায়ন হচ্ছে বিজ্ঞানের সবথেকে বড় এবং প্রধান শাখা রসায়নের সাথে বিজ্ঞানের অন্যান্য সব শাখাই কানেক্টেড তাই আলকেমি চর্চাকে আংশিকভাবে অনেকে শুধু রসায়ন চর্চা বলে থাকে

এই, খেতে আসোতো বাবা মেয়ের গল্পে দুপুর গড়িয়ে বিকাল হতে চললমায়ের কপট রাগী ডাক শুনে বাবা-মেয়ে হাসতে হাসতে খেতে চলল

রসায়ন! রসায়ন! রসায়ন! রুহির মাথায় রসায়ন বোঁ বোঁ করে ঘুরতে লাগল

 

বিকালে ঘুম থেকে উঠে মাথাটা সোজা রাখতে পারলনা রুহি মাথা ঘুরাচ্ছে কিন্তু তারথেকেও বেশি ঘুরাচ্ছে তাকে রসায়ন এই ছাতার রসায়নের জন্য তার দুপুরের ঘুমটাও হলনাস্বপ্নেও জাবির ইবনে হাইয়ান নামে কাউকে দেখল বোধহয় বাবাকে জিজ্ঞেস করতে হবে আজকে রাতে পড়াতো দূরের কথা সন্ধ্যাতেই ঘুম এসে যাবে তার নিজের উপর বিরক্ত হয়ে আসর নামাজ আদায় করতে গেল রুহি

 

দ্যা ফাদার

এই মানুষটি সবমিলিয়ে দুইহাজারের বেশি বই লিখেছেন! কিন্তু কিভাবে সম্ভব? নামাজ শেষে চা নিয়ে বাবার সাথে বসার পরেই জাবির ইবনে হাইয়ান সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল রুহি তারপরই তার আশ্চর্যান্বিত হওয়া

হ্যাঁ, দুইহাজারের বেশি বই লিখলেও তার বইগুলোর পৃষ্ঠাসংখ্যা সাধারণত কম থাকতো এই ধরো গড়ে সাত থেকে আট পৃষ্ঠা এমনকি তার লেখা দুই পৃষ্ঠারও বই আছে

কিন্তু তাকে রসায়নের জনক  বলা হয় কেন? কাপ থেকে ঘাড় উঁচিয়ে বাবাকে শুধাল সে।

ওইযে বলেছিলাম না বিজ্ঞান চর্চা বিশেষ করে রসায়নকে সবাই জাদুবিদ্যা কিংবা নিষিদ্ধ কিছু ভাবত রসায়নকে বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি তো তখনো ইউরোপ দেয়ই নি এমনকি মুসলিম বিদ্বানগণও রসায়নকে বিজ্ঞানের শাখা হিসেবে মানতে নারাজ ছিলেন

কিন্তু বাবা, তুমি তো বলেছিলে এটি বিজ্ঞানের প্রধান শাখা তাহলে কিভাবে?

হ্যাঁ,বলছি শুনো জাবির জন্ম নেয় ৭২০-৭৩০ খ্রীষ্টাব্দের মাঝামাঝি কোন এক সময়ে তখন রসায়ন চর্চা করা নিয়ে মানুষের মাঝে ভয়ভীতি কাজ করত আর বিদ্বান লোকেরা যখন এটাকে জাদুবিদ্যার অন্তর্ভূক্ত করেছিল, তাই সাধারণভাবেই মানুষ এতে আগ্রহী ছিলনা কিন্তু জাবির হাটলেন স্রোতের একেবারে উল্টোদিকে রসায়নকে তার কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে একটি পরিপূর্ণ বিজ্ঞান শাস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেন

স্রোতের বিপরীতে সেই সময়ে তাকে কতটাই না কষ্ট করতে হয়েছে!

তাতো হয়েছেই, তবে সে তৎকালীন আব্বাসী খলীফা হারুনুর রশীদের পৃষ্টপোষকতা পেয়েছিলেন বর্তমানে ইউফেট্রিস নদীর তীরে অবস্থিত ইরাকের কুফা শহরে তার ল্যাবরেটরিও ছিল

তারমানে রসায়ন শাস্ত্র সম্পূর্ণ মুসলিমদের তত্ত্বাবধানেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল

হ্যাঁ,তা ঠিক কিন্তু রসায়নের ইতিহাস আরো অনেক অনেক আগের থেকেই পাওয়া যায়

ইসলামের প্রথম রাসায়নিক ছিলেন মুহাম্মদ(সাঃ)

আব্বু, এটা সত্যি!

হ্যাঁ তাকে চিকিৎসাবিদও বলা চলে বিভিন্ন হাদীস গ্রন্থে তিব্বুন নবী নামক অধ্যায় সংযোজিত আছে

তারমানে মুসলিমদের সাথে রসায়নের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত

হ্যাঁ,ঠিকই বলেছ এরপর আসে হযরত আলী(রাঃ) এর নাম তাকে রাসূল(সাঃ) “দারুল হিকমা” উপাধি দিয়েছিলেন উপাধিটার অর্থ জানো তুমি?

জ্বি, আব্বুদারুল হিকমা” অর্থ জ্ঞানের দরজা

আরবী সাহিত্যে রসায়ন নিয়ে আলী(রাঃ) এর প্রচুর উক্তি রয়েছে তিনি পুরোপুরিভাবে ভাবে রসায়ন চর্চা করেননি ঠিকই তবে এ সম্পর্কে  ভালো ধারণা রাখতেনইতিহাস থেকে এটাও জানা গিয়েছে যে তিনি স্বর্ণ তৈরি করার পরিকল্পনা করেছিলেন

বাহ, আমরা সেই কত আগের থেকেই বিজ্ঞানে এগিয়ে ছিলাম এই আধুনিক যুগে এসেই পিছিয়ে পড়েছি

হতাশ হবার কিছু নেই মা আমরা পিছিয়েছি নিজেদের ভুলের কারণেই আমরা গবেষণা থেকে দূরে সরে গিয়েছি যেটুকু আমাদের অগ্রজগণ দিয়ে গিয়েছিলেন আমাদের উত্তরাধিকার হিসেবে তা থেকে আমরা আর আগে বাড়তে পারিনি

আমাদের এই অলসতার সুযোগটাই ইউরোপ নিয়েছে তারা এখন বিজ্ঞানের কর্ণধার বনে গিয়েছে

আল্লাহ্ আকবর, আল্লাহ্ আকবর.......

কানে আযানের ধ্বনি ভেসে আসাতে বাবা-মেয়ের গল্পে ছেদ পড়ল এক সুন্দর সোনালী অতীত দিনশেষের সূর্যের লাল আভায় হারিয়ে গিয়েছে সে পথ খুঁজছে ফিরে আসারফিরে সে আসবেই

(২০১৭ এর লেখা। ইচ্ছা ছিল রসায়নের শুরু থেকে আজতকের ইতিহাস গল্পাকারে লেখার, তা আর হয়ে উঠেনি। এই লেখাটুকুই ছিল শুরুর অংশ।) 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ