বাঙলানামা - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস নিরীক্ষণ
সাজ্জাদুর রহমান
ইতিহাস নিয়ে আমাদের জ্ঞানচর্চায় বেশকিছু দ্বিচারিতা দেখা যায়। একদল বলে যা অতীত হয়েছে তা হয়েছেই, সেসব নিয়ে পড়ে থাকা প্রগতির পথে অন্তরায়। কেউ বলে, ইতিহাস বারবার ফিরে আসে, তাই আমাদের জাতি, মানুষদের পূর্ব অভিজ্ঞতাগুলো আগামীর পথচলায় সহায়ক হবে। এই অংশ হালযামানায় ইতিহাসের হুবহু পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চায়। তবে আমাদের এ দুটিকে ছেড়ে ভাবতে হবে।
প্রশ্ন আসে, ইতিহাস তো মূলত অতীতেরই উপাখ্যান, সেখানে অতীত বলতে ঠিক কতদূর পর্যন্ত বুঝব? অতীত কিংবা বর্তমানের সীমা টানা আমাদের কাজ নয়, আমাদের কাজ আগামী অতীতের জন্য সর্বোচ্চটা দিয়ে যাওয়া। সেক্ষেত্রে ইতিহাসের বিশ্লেষণী অধ্যায়ন অন্তত কারা আমাদের শত্রু তা দেখিয়ে দেবে। মানুষ বরাবরই শত্রুকে চিনতে ব্যর্থ হয়।
ঠিক টিক টিক করে নয়, বেশ জোরেসোরেই বড় বড় পদক্ষেপ ফেলে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শত বছর উদযাপন করেছে। এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নামটাকে শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখাটা হবে বেশ ভালোরকমের ভুল। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি উদ্দেশ্য ছিল, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছিল কিছু উচ্চাকাঙ্খা, এর ছিল অনেক সম্ভাবনা, অনেক স্বপ্ন এবং এটি ছিল একটি জাতির সবকিছুর কেন্দ্রস্থল। এই বিশ্ববিদ্যালয় অনেক দেখেছে, আঘাত পেয়েছে, আবার উঠেছে, আবার পড়েছে, আবার দাড়িয়েছে, আরোও পতিত হচ্ছে তবে এখন আর গর্জন দিচ্ছে না, মিউ মিউ করছে।
এই দেশ কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস স্ববিরোধীতায় পূর্ণ। এইসব স্ববিরোধীতাগুলো প্রকাশ্য, তবে সেগুলো আমরা প্রশ্নাতীত করে রেখেছি। ইতিহাসকে যখন আমরা প্রশ্ন করা থামিয়ে দিই সেটি তখন ধীরে ধীরে নিজেকে কেন্দ্র করে এক ধর্মীয় আবহ তৈরি করে, জাতিসত্ত্বা ধর্মে রূপ নেয় আর ইতিহাস হয় মনুষ্য ঐশীবাণী।
"বাঙলানামা" ঢাবির এই শতবর্ষে আমাদের দারুণ এক উপহার দিয়েছে। এটি আমাদেরকে দিয়েছে প্রচলিত বয়ানকে প্রশ্ন করার এক মোক্ষম সুযোগ। আমাদেরকে সুযোগ দিয়েছে নিজেদের অবস্থান থেকে আরো স্বচ্ছ, যথার্থ এবং যথাযথ হতে। সবার এই সুযোগটি লুফে নেওয়া উচিত, বিশেষত যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, এখন পড়ছেন কিংবা ভবিষ্যতে পড়ার ইচ্ছা রাখেন। আমি বলব বাংলা ভাষী সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে পুরো বাংলার ইতিহাসই ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
যখন ম্যাগাজিনটি কিনলাম, অবাকই হলাম এক মলাটে এত সমৃদ্ধ সব লেখা! এগুলোর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ কিংবা রিভিউ লেখাটা আমার কম্ম নয়। আমি শুধু অনুভূতিই জানাতে আসলাম। এখানে থাকা প্রবন্ধগুলোর বিচারে দাম নিতান্তই কম! সবার নাগালের মধ্যেই, আশি টাকা।
আসলে, মুগ্ধতার ব্যাপারে ভাষা দিয়ে খুব বেশি বর্ণনা অপচয়, সেটা চোখেমুখেই প্রকাশ্য থাকে। তাই আমি বলব চেখে দেখুন, স্বাদ বহুদিন লেগে থাকবে।
শুভকামনা রইল "বাঙলানামা" টিমের জন্য।
0 মন্তব্যসমূহ