লেখা তরজমা

পলাশীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস



প্রেক্ষাপট

১৭৫৬ সালের এপ্রিল মাসে নবাব সিরাজউদ্দৌলার ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তার এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে বিরোধ অনিবার্য হয়ে পড়ে। নবীন নবাব প্রথম বারের মত বাংলায় কোম্পানির অবৈধ কার্যক্রমের তীব্র প্রতিবাদ জানান। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তাঁর তিনটি প্রধান অভিযোগ ছিল;

  • অনুমতি ব্যতীত ফোর্ট উইলিয়মে প্রাচীর নির্মাণ ও সংস্কার,
  • ব্যক্তিগত অবৈধ ব্যবসা এবং কোম্পানির কর্মচারীদের দ্বারা দস্তকের নির্লজ্জ অপব্যবহার,
  • এবং নবাবের অবাধ্য প্রজাদের বেআইনিভাবে আশ্রয় প্রদান।

উল্লিখিত অভিযোগসমূহের মীমাংসার জন্য পদক্ষেপ নিতে নবাব ব্রিটিশদের আহবান জানান এবং শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিরসনের জন্য কলকাতায় অনেক প্রতিনিধিদল পাঠান। তিনি কোম্পানির নিকট কৃষ্ণদাসকে তাঁর হাতে সমর্পণের দাবি করেন এবং নতুন প্রাচীর ভেঙে ফেলতে ও কলকাতার চারদিকের পরিখা ভরাট করতে নির্দেশ দেন। তার বিশেষ দূত এ সকল দাবিসহ চিঠি নিয়ে কলকাতায় যাওয়ার পর ইংরেজরা তাকে অপমান করে। কলকাতার ইংরেজ গভর্নর রজার ড্রেক যে চরম অপমানজনকভাবে প্রতিনিধি নারায়ণ সিংহকে বিতাড়িত করে তা সবিস্তার শুনে তিনি অত্যন্ত রাগান্বিত হন এবং তৎক্ষণাৎ কাসিমবাজার কুঠি অবরোধের আদেশ দেন। কুঠির প্রধান আত্মসমর্পণ করে কিন্তু কলকাতার ইংরেজ গভর্নর অবাধ্যতা ও একগুঁয়েমি দেখান। ফলে তিনি কলকাতা অভিযান করে তা দখল করে নেন।

এই পরাজয়ের পর বাংলায় কোম্পানির পুনঃপ্রতিষ্ঠা দুই উপায়ে সম্ভব ছিল, হয় নবাবের নিকট আত্মসমর্পণ নচেৎ পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে বল প্রয়োগ। বাংলায় যে সকল ব্রিটিশ ছিল তারা অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর জন্য মাদ্রাজের ফোর্ট সেন্ট জর্জে জরুরি তলব পাঠায়। সেখান হতে রবার্ট ক্লাইভ ও এডমিরাল ওয়াটসনের অধীনে একদল ব্রিটিশ সৈন্য বাংলায় পাঠানো হয়। তারা ১৭৫৭ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা পুনরুদ্ধার করে এবং নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের সঙ্গে আলীনগরের সন্ধি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। কিন্তু ইংরেজরা সন্ধির শর্তাদি অগ্রাহ্য করতে থাকায় যুদ্ধের চাপা উত্তেজনা চলতে থাকে।

ষড়যন্ত্র

ইংরেজরা নবাবের প্রতি বিরূপ পারিষদদের নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। মুর্শিদাবাদ দরবারে কিছু প্রভাবশালী অমাত্য নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রতি যে অসন্তুষ্ট ছিল তা অস্বীকার করা যায় না। নবাবকে উৎখাত করার উদ্দেশ্যে তারা ষড়যন্ত্র শুরু করে। তবে ব্রিটিশগণ সক্রিয়ভাবে এ ষড়যন্ত্রে জড়িত না হলে আদৌ কোন পলাশী ‘বিপ্লব’ সংঘটিত হওয়া সম্ভব হত কি-না তা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। নবাবকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র চূড়ান্তকরণে অন্যান্য ষড়যন্ত্রকারীর তুলনায় ব্রিটিশেরাই তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেশি উদগ্রীব ও অগ্রণী ছিল। লন্ডনে কোম্পানির পরিচালকমন্ডলী তেমন উদ্যোগী না হলেও ভারতে কোম্পানির কর্মচারী এবং ব্রিটিশ বাণিজ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ফটকাবাজ ব্যবসায়ীগণ সময়ে সময়ে ভারতে ভূ-খন্ডগত অধিকার প্রতিষ্ঠার অনুকূলে সুস্পষ্ট মতামত রাখে। আঠারো শতকের মধ্যভাগে কোম্পানির কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ব্যবসা নিদারুণ সমস্যার সম্মুখীন হয় এবং তারা তাদের নিজস্ব ব্যবসার উন্নতি পুনরুদ্ধার কল্পে আধা-সাম্রাজ্যবাদী নীতি গ্রহণ করে।

অনেক ঐতিহাসিক যদিও দৃঢ়ভাবে মত পোষণ করেন যে, ভারতীয় ষড়যন্ত্রকারীগণই সহযোগিতা লাভের আশায় পরিকল্পিত ‘বিপ্লব’ ঘটানোর জন্য ব্রিটিশদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তবুও দলিলাদির সঠিক ও সতর্ক বিশ্লেষণে সন্দেহাতীত ভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ব্রিটিশরাই তাদের পরিকল্পিত ‘বিদ্রোহ’ বাস্তবায়নের জন্য নবাব দরবারের বিরুদ্ধবাদীদের সমর্থন আদায়ের জন্য যোগাযোগ করার ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। কাসিমবাজার থেকে ১৭৫৭ সালের ৯ এপ্রিল তারিখে লুক স্ক্রেফটন ক্লাইভের বিশ্বাসভাজন জন ওয়ালশকে লেখা পত্রে এ ধারণার অনুকূলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি লিখেন, ‘ঈশ্বরের দোহাই, আমাদের নির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা মতো অগ্রসর হওয়া দরকার... কোম্পানির প্রতি অনুরক্ত নবাব পাওয়া কোম্পানির জন্য কতই না গৌরবজনক হবে’। ইয়ার লতিফকে নতুন নবাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি ১৮ এপ্রিল আবারও ওয়ালশকে লিখেন। ইতোমধ্যে ২৩ এপ্রিল সিলেক্ট কমিটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনকে সরকারি নীতি বলে গ্রহণ করে। একই দিন ক্লাইভ স্ক্রেফটনকে মুর্শিদাবাদে থাকার অনুমতি দিতে কমিটিকে অনুরোধ জানায় কেননা, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদিতে ব্যস্ত থাকার মতো কাজ তার জন্য সেখানে ছিল’। পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন যোগানোর জন্য ওয়াটস এবং স্ক্রেফটন মুর্শিদাবাদে সক্রিয়ভাবে ব্যস্ত ছিল।

রবার্ট ওর্ম থেকে জানা যায়, নবাবের প্রতি মীরজাফরের অসন্তুষ্টির বিষয়ে জানতে পেরে ক্লাইভ ওয়াটসকে মীরজাফরের সঙ্গে বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দেয়। ওয়াটস এবং স্ক্রেফটন কলকাতার বিখ্যাত ব্যবসায়ী উমিচাঁদ এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নবাব দরবারের প্রধান প্রধান কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ওয়াটস কর্তৃক প্রেরিত প্রতিনিধি উমিচাঁদের নিকট ইয়ার লতিফের নবাব হওয়ার ইচ্ছা সংগোপনে প্রকাশ করেন এবং আরও জানান যে দিওয়ান রায় দুর্লভরাম ও প্রভাবশালী ব্যাংক মালিক জগৎ শেঠ তাকে সমর্থন করবে। ওয়াটস সঙ্গে সঙ্গে পরিকল্পনাটি লুফে নেয় এবং তা ক্লাইভকে জানায়। এটি ক্লাইভের অনুমোদন লাভ করে।

কিন্তু শীঘ্রই আর এক দাবিদার রঙ্গমঞ্চে উপস্থিত হয়। ওর্মের বর্ণনা অনুসারে কলকাতায় বসবাসকারী খাজা পেট্রস নামে জনৈক আর্মেনীয় ব্যবসায়ীর মাধ্যমে মীরজাফর নবাব হওয়ার ইচ্ছা ইংরেজদের নিকট প্রকাশ করেন। অবশ্য পরবর্তী সময়ে পিতার নিকট লেখা ওয়াটসের চিঠিতে অন্য ধারণা পাওয়া যায়। এতে বলা হয় যে, ওয়াটস স্বয়ং নবাব করার পরিকল্পনাটি মীরজাফরকে জানায়। ওয়াটস আরও লিখেন, মীরজাফর ‘সাগ্রহে আমার পরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং আমাদের সহযোগিতায় তাকে নবাব করার বিনিময়ে যে কোন রকমের যুক্তিপূর্ণ চুক্তি করতে সম্মত হয়’। কলকাতার সিলেক্ট কমিটি মীরজাফরের অনুকূলে সর্বসম্মত প্রস্তাব গ্রহণ করে এবং ওয়াটসকে মীরজাফরের সঙ্গে চুক্তির শর্তাদির বিষয়ে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কিন্তু ষড়যন্ত্র তখনও প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল এবং মীরজাফরকে সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাস করা যাচ্ছিল না। এ কারণে ২ মে মীরজাফরকে নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য ক্লাইভ ওয়াটসকে জানান, ‘ভয়ের কোন কারণ নেই, ব্রিটিশরা নবাবকে দেশছাড়া করার জন্য ‘যথেষ্ট শক্তিশালী’ এবং প্রতিশ্রুতি দে যে শেষ শক্তিটুকু দিয়ে হলেও ইংরেজরা মীরজাফরের জন্য কাজ করে যাবে’। ৩০ মে পর্যন্ত মীরজাফর মুর্শিদাবাদে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ওয়াটস তার সঙ্গে কোন প্রকার চুক্তি স্বাক্ষরে ব্যর্থ হন। অবশেষে ৫ জুন ওয়াটস লাল (উমিচাঁদকে ধোকা দেওয়ার জন্য মিথ্যা চুক্তি) ও সাদা চুক্তিনামায় মীরজাফরের স্বাক্ষর আদায়ে সক্ষম হন।

যুদ্ধের বিবরণ

চুক্তি স্বাক্ষর সত্ত্বেও পরিকল্পিত ‘বিপ্লব’ বাস্তবায়নের জন্য সিলেক্ট কমিটি ভীষণ অস্থির হয়ে পড়ে। সরাসরি মুর্শিদাবাদের দিকে অগ্রসর হওয়া সর্বোত্তম হবে, না মীরজাফরের নিকট থেকে আরও পরামর্শ এবং অভিযান পরিচালনার কৌশল বিষয়ে জানার জন্য অপেক্ষা করবে এ নিয়ে ১১ জুন সিলেক্ট কমিটি ধীর ও সতর্ক চিন্তাভাবনা করতে থাকে। সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয় ‘বর্তমান সন্ধিক্ষণে সর্বোত্তম সুবিধাজনক কাজ হবে মীরজাফরের পক্ষে বিপ্লব বাস্তবায়িত করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ,’ কেননা আরও বিলম্ব হলে নবাবের নিকট ষড়যন্ত্র প্রকাশ হয়ে যাবে এবং মীরজাফরকে সরিয়ে দেওয়া হবে, ফলে ‘আমাদের গোটা পরিকল্পনা’ ‘ভন্ডুল’ হবে এবং ব্রিটিশেরা একা ‘সম্মিলিত দেশিয় শক্তির বিরুদ্ধে লড়ার জন্য মাঠে থাকবে’। তদনুসারে ১৩ জুন ক্লাইভ মুর্শিদাবাদ অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন।

১৯ জুন ক্লাইভ কাটোয়া পৌঁছে। স্থানটি আগের দিন কর্নেল কুট দখল করে নেয়। ২১ জুন ক্লাইভ ‘সমর পরিষদের’ সভা ডাকেন এবং ‘তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ’ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কিন্তু ক্লাইভ পরে সিদ্ধান্ত পাল্টান এবং পরদিন অগ্রসর হওয়ার জন্য মনস্থ করেন। ২২ জুন সকালে ব্রিটিশ বাহিনী ক্লাইভের নেতৃত্বে পলাশীর পথে যাত্রা করে। অবশ্য ২২ তারিখ দুপুরের পর পরই ক্লাইভ মীরজাফরের কাছ থেকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বার্তা পান এবং পলাশীর পথে তার যাত্রা অব্যাহত রেখে দুপুর রাতের পর সেখানে পৌঁছেন।

ইতোমধ্যে নবাব মুর্শিদাবাদ থেকে রওয়ানা দেন এবং শত্রুকে মোকাবিলা করার জন্য পলাশীতে শিবির স্থাপন করেন। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন সকাল ৮টার দিকে যুদ্ধ আরম্ভ হয়। মীর মর্দান, মোহন লাল, খাজা আব্দুল হাদী খান, নব সিং হাজারী প্রমুখের অধীন নবাব সেনা বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ চালায়, অন্যদিকে মীরজাফর, ইয়ার লতিফ এবং রায় দুর্লভরামের অধীন নবাবের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ সেনা নিষ্ক্রিয়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে ও পরিস্থিতি অবলোকন করে। এমনকি বেশ কয়েক ঘণ্টা যুদ্ধের পরও চূড়ান্ত কিছু ঘটে নি। ক্লাইভ এমন প্রতিরোধ পাবেন আশা করেন নি এবং জানা যায় যে, ‘দিনে যথাসম্ভব তীব্র যুদ্ধ চালিয়ে’ ক্লাইভ রাতের অন্ধকারে কলকাতা পালিয়ে যাওয়ার চিন্তা করছিলেন। কিন্তু বেলা তিনটার দিকে কামানের গোলা মীর মর্দানকে আঘাত হানে এবং তাঁর মৃত্যু হয়।

মীর মর্দানের মৃত্যুতে হতভম্ব নবাব মীরজাফরকে ডেকে পাঠান এবং তাঁর জীবন ও সম্মান রক্ষার জন্য তাকে অনুরোধ করেন। মীরজাফর নবাবকে ঐ দিনের মতো যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং পরদিন সকালে নতুন উদ্যমে যুদ্ধ শুরু করার পরামর্শ দেয়, আর এ খবর শীঘ্র ক্লাইভের নিকট পৌঁছানো হয়। পরামর্শমত নবাবের সেনানায়কেরা পিছুতে থাকলে ইংরেজ সেনারা নতুন করে প্রচন্ড আক্রমণ চালায় এবং ফলে নবাব বাহিনী বিশৃঙ্খলভাবে যত্রতত্র পালিয়ে যায়। অপরাহ্ণ ৫টার দিকে যুদ্ধ শেষ হয়ে যায় এবং বিজয়ী ক্লাইভ বীরদর্পে তখনই মুর্শিদাবাদ যাত্রা করেন। জন উড নামে জনৈক ব্রিটিশ সৈন্য পলাশীর যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত ছিল, তার মতে ‘এটাই ছিল সেই বিশিষ্ট ও চূড়ান্ত যুদ্ধ যেখানে কোন ব্যাপক আক্রমণ ছাড়াই রাজ্য জয় করা হয়’।

সমাপ্তি

ষড়যন্ত্র এবং পরবর্তীকালে ‘পলাশী-বিপ্লব’ ইংরেজদের দ্বারা শুধু উদ্ভাবিত ও উৎসাহিতই হয় নি, বরং যুদ্ধের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তারা দেশীয় ষড়যন্ত্রকারীদের ব্রিটিশ পরিকল্পনা সমর্থন করতে প্রলুব্ধ করে। সাধারণ ধারণা - ষড়যন্ত্রটি ছিল ভারতজাত, এর পেছনে ব্রিটিশদের পরিকল্পিত কোন কূটকৌশল ছিল না, ষড়যন্ত্রের মূলে বা এর উত্তরণে তাদের অতি সামান্য ভূমিকা ছিল কিংবা কোন ভূমিকাই ছিল না, এটি ছিল বাংলার ‘অভ্যন্তরীণ সমস্যা’ যা ‘অবশ্যম্ভাবীভাবে ব্রিটিশদের জড়ায়’ এবং বাংলায় ব্রিটিশ বিজয় ছিল প্রায় সম্পূর্ণ আকস্মিক, এ কথাগুলি এখন ধোপে টেকে না। ইংরেজরা তাদের ষড়যন্ত্রের জোরে ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার সভাসদদের বিশ্বাসঘাতকতার দরুণ পলাশীতে বিজয়ী হয়। নবাবের পরাজয় ছিল রাজনৈতিক, সামরিক নয়।

এ পর্যন্ত সবকিছুই আমরা বুঝতে পারি। এই প্রেক্ষাপট আমাদের সামনে এটিই বারবার বলে যায় যে শত্রুকে চিনতে আমরা সবসময়ই ব্যর্থ হই, তাকে প্রশ্রয় দিয়ে যাই। তাই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আলোচনা এখানে ধূপে টেকে না। তবুও সেই আশাই রাখছি।






একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ