ফেসভ্যালু বলতে একটা টার্ম বেশ প্রচলিত। বিষয়টা কি, কেনইবা দরকার?
বর্তমান বিভিন্ন ঘটনা পর্যবেক্ষণকে পাশ কাটিয়ে আমরা একাডেমিক দিকে ফিরব। ফেসভ্যালু বলতে এমন কাউকে বুঝানো হয় যার মুখ অত্যন্ত দামী। অর্থাৎ কি বলল তা নিয়ে কথা না হয়ে কথা হবে কে বলল তা নিয়ে। কথাটা কার মুখ দিয়ে বের হচ্ছে সেটিই প্রাধান্য পাচ্ছে, যৌক্তিক বা অযৌক্তিক, কথার অসাড়তা, সার্থকতা এসব কিছু ধর্তব্য হচ্ছেনা।
সাধারণত আমরা কি করি? যদি সোশ্যাল মিডিয়া বিহেভিয়ারকেই প্যারামিটার ধরি, তবে দেখতে পাই কোন একজন ব্যক্তির স্ট্যাটাস কেন্দ্র করে কত ঘটনা রটনা শুরু হয়ে যায়। সেসব ব্যক্তিদের আমরা ইনফ্লুয়েন্সার বলতে পারি। ইনফ্লুয়েন্সার টার্মটা ইনস্টাগ্রামে খুউব ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এক কথায় যাদের ইনফ্লুয়েন্সিং পাওয়ার আছে, মানুষের চিন্তা নিয়ে খেলা করার দক্ষতা আছে তারাই ইনফ্লুয়েন্সার। এই খেলার দক্ষতার পজিটিভ নেগেটিভ দুটোই আছে, থাকবেই।
এক্ষেত্রে আমাদের কিছু দৈন্যতা ফুটে উঠে। দুঃখজনক হলেও অস্বীকার করবার উপায় নেই যে থিংকিং ক্যাপাবিলিটি আমাদের প্রচুর কম, গুটিকয়েক ব্যতীত। তাই দেখা যায় অধিকাংশ সময়ে আমরা জেনেবুঝেই, গভীরতা বুঝতে না পেরে অন্ধভাবে অনুসরণ করে যাচ্ছি কিন্তু মনে করছি এটা আমার মস্তিষ্কপ্রসূত যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। এই যে এইটুকু অন্ধকার মস্তিষ্ককে ঘনীভূত রাখছে এটা পজিটিভ বা নেগেটিভ হোক দুদিক থেকেই সমান ভয়ানক। এর মাধ্যমে আমাদের পার্থক্য করা, যাচাই করার যে স্কিলটা সেটায় মরিচা পড়ছে।
এই সূক্ষ্ম গ্যাপগুলোকে কাজে লাগায় ইউটোপিয়ান ধ্বজাধারী মানুষেরা। পজিটিভনেসকে উপরে উপরে তুলে ধরে পিছন থেকে নেগেটিভজমের ছুরি চালিয়ে শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় আমাদের। একই ভাবে বলা যায়, ভালো, মধুর কথা দ্বারা আমাদের বিশ্বাস অর্জন করে নিচ দিয়ে সেই বিশ্বাসকেই প্রশ্নবিদ্ধ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যায়। যেহেতু থিংকিং ক্যাপাবিলিটি নিয়ে আমরা চিন্তিত না এবং এটাকে বৃদ্ধি করবার জন্য যথেষ্ট সময় দিতেও আগ্রহী না অতএব এই ফাঁদ আমাদের কাছে মৌমাছির চাকের মত। কিন্তু প্যারালাল ভাবে। চাকে ঢিল ছুড়লে মৌমাছির হুল ফুটানো সহ্য করতেই হবে। তবে সেটা ঢিল ছুড়ার পরে। আর এখন যা হচ্ছে সেটা হল, আপনাকে আগেই মধু দিয়ে দেওয়া তারপর মৌমাছিও লেলিয়ে দেয়া। এক ঢিলে দুই বাচ্চাপাখির বদলে যদি ঢিলটা পাখির মাকে মারেন, তাহলে বাচ্চাসমেত মা পাখি ফ্রি পাচ্ছেন। ক্ষতি কি? কম খরচের লাভবান ব্যবসায়!
সাজ্জাদুর রহমান
0 মন্তব্যসমূহ