নির্বাক কথামালার ফাঁকেফাঁকে উঁকি দেয়া সময়গুলো আলস্যতায় নিজেদের হারিয়ে ফেরে বারংবার। সমুদ্রের নীল পানিতে অবগাহনে মনতৃষ্ণা দূর হলেও কন্ঠে জলের আকুতিকে হার মানতে হয়। সুবিশাল নীল সীমানায় চোখ হারাতে গিয়ে দৃষ্টিশূন্য পাখির ডানায় ভর করে ফিরে আসে একপশলা লোনাজল। সব কেমন অদ্ভুত অপূর্ণতায় পরিপূর্ণ, উদ্ভট চিন্তামালায় গচ্ছিত। তুলনামূলক চিন্তাতত্ত্বতে পরিমাপ করলে সব কেমন, কেমন করে যেন অদ্ভুতুড়ে। এক আর একে দুই হতেই হবে কথাতো নেই। পরিপূর্ণতা যদি শূন্যতেই থাকে তবে বিযুক্ত করাটাও তো এক প্রকার শুদ্ধ।
অবস্থা দুই রকমই। থাকা বা না থাকা। দুটি মিলিয়ে পূর্ণ হবে শূন্য। থাকাকে অঋণাত্মক শূন্য ধরে এবং না থাকাকে ঋণাত্মক শূন্য ধরে হিসেব করলেই বরাবর শূন্যই পাই। তবে, শূন্যেরই বা কবে থেকে এরকম ধনাত্মক কিংবা অধনাত্মক মান এল, সেটাও প্রশ্ন! আর্যভট্ট থেকে তাড়া খাবার আগেই এ বেলা ভাগতে হবে।
কথা হচ্ছিল পূর্ণতা নিয়ে! আসলেও পূর্ণতা কি? সরল সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করতে গেলে উঠে আসে হাজার খানেক অপূর্ণতার সমষ্টি। এরচেয়ে বেশি বৈ তো নয়। আরো সহজ ভাষায় এই নশ্বর জগতে, যেখানে পরম বলতে কিছুই নেই সেখানে পূর্ণতা বলেও কিছু থাকবে ভাবাটাও পুঁজিবাদী ব্যাপারস্যাপার। তাই ভাবনাটা চূড়ান্তভাবেই অসমীচীনতায় পরিপূর্ণ। এতদসত্ত্বের ভাবনা থামানো অপরাধ। তারচেয়েও বড় অপরাধ এসব অযথা জিনিস নিয়ে রাত-বিরাতে কথা কপচানো।
পরস্পরাপেক্ষিক এসব বিষয় অস্থিরতার উপর্যুপরি বৃদ্ধি ব্যতীত লাভজনক অন্যকিছুতেই রূপান্তরিত হতে পারেনা। ধনাত্মক পূর্ণতা আবার ঋণাত্মক পূর্ণতা সবমিলিয়ে আবার শূন্যই। কি অসীম শূন্যতায় শূন্যের মাঝে শূন্যকেই খুঁজে ফিরে শূন্যতে ফিরে আসছে একদল মানুষ। বিপরীত ভঙ্গিতে শূন্যতাকে পূর্ণতা দিয়ে পরিবর্তন করা যেতেই পারে।
আগামীর বিতর্ক হোক শূন্যতা এবং পূর্ণতার সামঞ্জস্যতা নিয়ে এবং বৈপরীত্য নিয়েও। পরিপূর্ণতার জন্য পরিবর্তন প্রয়োজন, অপূর্ণতার জন্যও।
এবার এতক্ষণের আজাইরা আলাপকে পাশ কাটানো যাক। কথাগুলো আজাইরা ছিল কিনা সেটাও আরেকটা দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ঘটাবে। সেসব থেকে মুক্ত হয়ে ফিরতে হচ্ছে “হয়ত কবিতা হতেও পারত” ক্যাটাগরীর একটি লেখাতে। অবশ্য অনুবাদ।
“যখন তুমি করছো মনে পারবে না আর যেতে
আজকে তুমি বড়ই একা, গিয়েছিলে হারিয়ে স্রোতে।
চারদিকের ঘোর অমানিশায় আচ্ছন্ন যখন তুমি
সাহায্যহীনতায় অন্ধ হয়ে গিয়েছিলে পথে নামি।
বলছি তোমায় শুনো,
হতাশ তুমি হয়োনা এখন, আশা হারিয়োনা যেন।
মহান রব যে তোমার সাথেই রয়েছে নিত্যদিনই।
তাঁরই দয়ায় শ্রেষ্ঠ পথ তুমি খুঁজে পাবে নিশ্চয়ই।
তাঁর ছায়াতে নাও আশ্রয়, তিনিতো দূরের নন।
বিশ্বাসীদের অন্তরে তিনি জাগ্রত সবসময়।
হাত তুলো আজ তার দুয়ারে, মাঙ্গো দোয়া রাতভর
তাঁর রহমতের পথ যেন তোমার দৃষ্টিগোচর হয়।”
পরিশেষে,
কয়েক রাশ শুভকামনা। একরাশ খুব কম হয়ে যায়।
__________________________________________
পরস্পরাপেক্ষিক ভাবনাগুচ্ছ এবং একটি হতে যাওয়া কবিতা
সাজ্জাদুর রহমান
0 মন্তব্যসমূহ