এরদোয়ান দ্যা চেঞ্জ মেকার বইটি শেষ করলাম। বইটি আমার কেমন লাগলো, পড়ার পর অনুভূতি কেমন, ভালো নাকি খারাপ এসব নিয়েই আজকের লিখা।
একটি বই পড়া মানে জ্ঞানসমুদ্রের একটি দরজা খুলে যাওয়া। একটি দরজা খুলে যাবার পর ভেতরে আরো দরজা থাকবে, আপনি কৌতূহল বশত দরজাগুলো খোলার চেষ্টা করবেন আর সেই সাথে আপনার জ্ঞানের পথে কয়েক ধাপ হাটা হয়ে যাবে।
তুরস্ক সম্পর্কে ছোটবেলা থেকেই যথেষ্ট আগ্রহ ছিলো। বড় হয়েছি উসমানী খিলাফতের রোমাঞ্চকর যুদ্ধযাত্রার কাহিনী পড়তে পড়তে, সুলতান মুহাম্মদের ইস্তান্বুল বিজয়ের কাহিনী পড়ে উত্তেজনায় কেপে উঠেছি, সুলেমান দ্যা ম্যাগনিফিকেন্ট এর বিজয়গাথা গুলো মনের কোণে বহু আকাঙ্ক্ষার জন্ম দিয়েছে। সেই তুরস্ক যেখানে এশিয়া এবং ইউরোপ মিলিত হয়েছে, এই তুরস্কই নেপোলিয়নের বিশ্বের রাজধানী।
তুরস্কের প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে কিছু বই পড়া হলেও বর্তমান সম্পর্কে পত্রিকাই ছিলো শেষ ভরসা। উসমানী খিলাফতের পরের ইতিহাস নিয়ে যথেষ্ট অজ্ঞ ছিলাম। ভাসা ভাসা ধারণা নিয়ে নিজেকে প্রবোধ দেওয়া যায় না। এরদোয়ান দ্যা চেঞ্জ মেকার বইটি প্রকাশ হবে, এরকম যখন শুনলাম তখন মনের কোণে হাসি উকি দিয়েছিলো। সেই ধারাবাহিকতায় বইটিও আমার ভালো লেগেছে।
বইটি ভালো লাগার কারণ কি?
নাম শুনে মনেই হচ্ছে এটি এরদোয়ানের জীবনী। একজন মানুষের জীবনীতে তার ব্যক্তিগত তথ্য, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, সমকালীন তার প্রভাব ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বইটিতে সবই রয়েছে কিন্তু এসবের সাথেই পাওয়া যাচ্ছে আধুনিক তুরস্কের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট। এরদোয়ানকে বর্ণনা করার জন্য লেখককে আধুনিক তুরস্কের ইতিহাস নিয়েও লিখতে হয়েছে।
কাছিমপাশায় জন্ম নেওয়া এক শিশু পরবর্তীতে একজন চেঞ্জ মেকার হবেন, এটাইবা কে জানতো। কিংবা একজন পেশাদার ফুটবলার একটি দেশের খোলস পরিবর্তনের অগ্রনায়ক হবেন,কেউ কি ভেবেছিলো?
সবসময় প্রথম স্থান অধিকারকারী ছাত্রটি একসময় দেশের নেতৃত্ব দিবে এটাও কি তার শিক্ষকরা ভেবেছিলো?
এরকম হাজারো প্রশ্ন থেকে যায়, উঠে আসে মনের গভীর কোণে। বইটির প্রথম অধ্যায় যেনো এতোসব জিজ্ঞাসার জবাব সুন্দর ভাবে দিয়ে দিলো।
এরদোয়ানের রাজনৈতিক জীবন, তার মহান কাজকর্মের সাথীদের সম্পর্কে যখন জানতে পারলাম, তখন মনে হলো,
“আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবেকথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।”
এখানে ছেলের জায়গায় শুধু নেতা ব্যবহার করলেই পরিপূর্ণ হয়ে যাবে।
সাফল্য সবসময় হাতের মুঠোয় এসে ধরা দেয় না, পরিশ্রম, কষ্ট, ধৈর্য্য, সহিষ্ণুতা ইত্যাদির মাধ্যমেই অর্জিত হয়। হতে হয় সাহসী, দৃঢ় মনোবলের অধিকারী। আত্মবিশ্বাস এখানে জ্বালানি যোগায়। ২০১৬ সালের জুলাই মাসের সংঘটিত ক্যু এরদোয়ানের জীবনে সেরকমই একটি অধ্যায়। সফল ও সুন্দর ভাবেই তিনি যেটির মোকাবিলায় জয়ী হয়েছিলেন। লেখকের বর্ণনায় ক্যুর ঘটনাদি যেনো চোখের সামনে ভেসে উঠছিলো। জনতার দৃঢ় মনোবল সাথে নেতার প্রতি আস্থা এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা, এই তিনের সমন্বয়ে বিশ্ববাসী সাক্ষী হয়েছিলো এক অবিস্বরণীয় বিজয়ের। প্রত্যক্ষদর্শী হয়েছিলাম একজন চেঞ্জ মেকারের নতুন এক উত্থান পর্বের।
এভাবে লিখতে গেলে প্রতিটি অধ্যায় নিয়েই লিখতে হবে। নির্বাচনকালীন তার সুচিন্তিত পদক্ষেপ এবং দেশব্যাপী প্রচারণার জন্য অভিনব কৌশল পাঠকদের মুগ্ধ হতে বাধ্য করে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় তার প্রচারণার জন্য দুটি বিজ্ঞাপন বেশ নজর কাড়ে।
সর্বোপরি এরদোয়ান একজন চেঞ্জ মেকার। যিনি ইউরোপের রুগ্নদেশ তুরস্ককে সমৃদ্ধশালী করেছেন, সারা বিশ্বের নির্যাতিত জনতার পক্ষে আঙুল তুলেছেন, মানবিক সহায়তা নিয়ে পৌছে গিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। একজন মহান নেতা, একজন চেঞ্জ মেকার এবং তিনি এরদোয়ান। তিনি রিসেপ তায়্যিপ এরদোয়ান।
0 মন্তব্যসমূহ