লেখা তরজমা

আমাদের কল্প

গল্প বললে তো নিজের টাই বলা ভালো।তাই না??

_______________
একদম শেষে:
__________

ক্যাম্পাসে সুখময় দিন ছিলো সেগুলো। হাসি, আড্ডায় পার করে দিতাম। বাদামের ঠোঙা হাতে নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা পার হয়ে যেতো। কিংবা রিকশার হুড তুলে পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে বেড়ানো। মফিজের দোকানের চা বা মনু মিয়ার বিরিয়ানি,  মিস করছি সেগুলো, খুবই মিস করছি।

কেনো বলছি এগুলো জানেন??
না বলেই না কি করবো বলেন? আপনাদের কষ্ট করে শুনতেই হবে। যতদিন বেঁচে থাকবো ঠিক ততদিন, ঠিক ততদিনই।

শুরুর গল্প:
________

- এক্সকিউজ মি। একটু কথা বলা যাবে??
- ওহ, ওকে। বলুন।
- না,  মানে আমি ক্যাম্পাসে একেবারেই নতুন। যদি...
- আমিও, আপনার মতোই।একেবারেই ইনটেক্ট।
- আমি ভাবলাম আপনি বোধহয় বড় ভাই।
- দেখে তাই মনে হয়?
- আমরা তো তুমি করেই বলতে পারি??
- আমি তুই করেই বলবো।
- ওকে, তুই কোন ডিপার্টমেন্ট এ?
- এপ্লাইড ফিজিক্স । তুই?
- ম্যাথ।
- তোকে পাক্কা তিন মাস পর দেখলাম। একবার ফোনও তো দিতে পারতি। মোবাইল বন্ধ, আইডি ডিএক্টিভ।
- আব্বু মোবাইল নিয়ে গেছিলো রে।
- যাই হোক আবার তো একসাথেই হলাম। বলছিলাম তুই আমাকে ছেড়ে  যেতে পারবি না।
- ব্রাদার্স ফর এ রিজন।
- আজকেই কি প্রথম আসলি তুই?
- মাত্রই ঢুকে তোর মুখ দর্শন করলাম।

কয়েক বছর পর:
____________

কলেজের দিন গুলো ছিলো স্বপ্নে মোড়া। স্বপ্নের উপরে স্বপ্ন আকাশ ছুতো। স্বপ্নেরা উড়তো সেই নীলাকাশে ডানা মেলে। বাবা- মার প্রত্যাশার ভীড়ে আর পরিপার্শ্বের চাপে স্বপ্ন মানেই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার। নিয়মের বাহিরে এসে কিছু করার ইচ্ছা তো সবারই থাকে। কিন্তু মাথা উঁচু করে তা করতে পারে কজন? ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হবার মিছে স্বপ্নকে আকাশে উড়িয়ে দিয়ে নিজের প্যাশন নিয়ে যারা আগাতে পারে তারা আর যা হোক কখনো হতাশ হবে না। ফারহানের কথাই যদি বলি, ঢাকা মেডিকেলে টিকেও ঢাবিতে ভর্তি হলো। এপ্লাইড ফিজিক্স চেঞ্জ করে জার্নালিজম নিলো। হি জাস্ট লাভ হিজ প্যাশন। আই হ্যাভ টু ডু সেইম। ম্যাথের নাড়িভুঁড়ি প্যাচাতে আর ভালো লাগেনা। এর চেয়ে বুয়েট ঢের বেটার ছিলো। এটলিস্ট ভালো বিয়ে করার জন্যও হলে কিছু বলতে পারতাম। এখন মহা সমুদ্রে সাতার কাটছি। শুধু নিজের কথাই কপচাচ্ছি, আমি ফারহানের কথা বলার জন্য এতকিছু লিখছি। ফারহান,  মাই বেস্ট ফ্রেন্ড, মাই সৌল।

কলেজের প্রথম দিনেই পরিচয় হয়েছিলো। চশমা পড়া ফারহান কে মিচকা শয়তান মনে হয়েছিলো। আয়তাকার ফ্রেমের চশমাতে তবুও বেটার লাগছিলো সেদিন। মূলত নাম মিল থাকার কারণেই প্রথম দিনেই পরিচয় হয়েছিলো। আমিও ফারহান, তবে ফারহান হাসান।  আর ও ফারহান আহমাদ।

কেমিষ্ট্রির তুখোড় ছাত্র ছিলো সে। আমি ফিজিক্স ভালো পারতাম। হায়ার ম্যাথে স্যারের থেকে ভালো বুঝাতো ও। স্যার ওকে দিয়েই ক্লাস করাতো। হাসি খুশি, প্রাণোচ্ছল সেই ফারহান আজ চোখের পর্দাতে বারবার ফিরে আসছে।

ওর বাবা ছিলো চিকিৎসক।  মা কলেজের লেকচারার।  এভার হ্যাপিয়েস্ট ফ্যামিলি আই হ্যাভ সিন। ফারহান রা এক ভাই এক বোন। এতো ভালো পরিবার, প্রাণোচ্ছল পরিবার খুব কমই দেখা যায়।

কলেজের ক্লাস গুলোতে দুষ্টামি করতাম সবসময়।  ও তো ছিলো দুষ্টের রাজা। স্যাররা সবই জানতো কিন্তু কিছুই বলতে পারতো না। আসলে ক্লাসের টপারদের কেউই কিছুই বলে না। সাত খুন মাফ।

দিন তো সবসময় ভালো যায় না। কিন্তু আমদের কখনো খারাপ যেতো না। আমাদের সবারই একটা নির্দিষ্ট ভিশন ছিলো, যাকে স্বপ্ন বলা যেতে পারে। ফারহানের কোনো লক্ষ্য, স্বপ্ন কিছুই ছিলো না। পড়ার জন্য পড়তো না, সায়েন্স পড়তো শুধু সব সুযোগ হাতে রাখার জন্য। ফারহান সত্যিই সব সুযোগ পেয়েছে, কাজে লাগানোর ব্যাপারটা ওকেই জিজ্ঞাসা করুন না কেনো।

তড়িৎ সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে ওর জুড়ি মেলা ভার। কোনো কাজের ঠিক এক মিনিট আগেই ওর থেকে সবচেয়ে সেরা সিদ্ধান্ত টা আসতো। হি ইজ এ মেডিওকোর ডিসিশন মেকার। ওর চেহারাটাই ছিলো নিরীহ, বুদ্ধিদীপ্ত,  গোবেচারা, চালাক, বোকা সব রকমেরই। ঠিক কথার দ্বারা এটা ডিফাইন করা যাবে না। আপানারা দেখলেই বুঝবেন। যদি এক শব্দে বলতে হয়, হি ইজ এট্রাক্টিভ, টু মাচ এট্রাক্টিভ। কলেজের সব স্যাররাই ওর দিকে তাকিয়ে থাকতো। আর স্কুলে স্যাররা পুরো ক্লাস ওর দিকে তাকিয়েই করাতো। আমিও তাকিয়ে থাকতাম, অন্যরকম একটা ভাব ছিলো। মূহুর্তেই রাগ থেকে হাসিমুখে ফেরা কিংবা একই সাথে দুইজনের সাথে দুই রকম ব্যবহার।  এ ক্লাস ক্যাপ্টেন, এ অটোক্র‍্যাট লিডার। ও অন্যের ডিসিশন কখনোই পছন্দ করতো না, একদমই না।  যদি কারো সাথে ওর ডিসিশন মিলে যেতো তবে সেটা চেঞ্জ হয়ে যেতো। হি জাস্ট ওয়ান্ট অলওয়েজ টু বি ইউনিক। দ্বৈত চরিত্রে বসবাস করা এক সুবোধ বালক। বিশ্বাসযোগ্য,  ভরসাযোগ্য এক মুখ। প্রশান্তচিত্ত এর এক মানুষ।

হাসিটা খুব, খুউব সুন্দর ফারহানের। ওর সব হাসিই খুব দারুণ।  সব রকমের হাসিই। ইউ হ্যাভ টু লাভ হিজ হাসি, বিকজ দিস ওয়াজ এ ট্রু হাসি।

কখনোই অভিযোগ করতো না, কখনোই না। ওর এক্সকিউজ কেউ না শুনলে কিংবা বিশ্বাস না করলে কেঁদে দিতো। ও একটা দ্বৈত চরিত্রের মানুষ ছিলো। ওর সম্পর্কে আর কি কি বলবো জানেন?
শুনতে থাকুন।

গোপনীয়তা রক্ষায় ওর মতো ভল্ট আর কেউ ছিলোনা। কোনো কথা যদি না বলার জন্য বলা হতো তবে বোম্ব মারলেও তা ভুলেও মুখ ফসকাতো না। অসাধারণ ফারহান।

আমি কি ফারহান সম্পর্কে একটু বেশি বলছি??
আপনাদের সময় তো আছে??
ওকে,শুনতে থাকুন।

স্যারেরা আমাদের বলতো দুই ভাই। যারা মায়ের পেট থেকে শুধু আলাদা হয়ে বের হয়েছে। বন্ধুরা বলতো ছোটবেলায় মেলায় হারিয়ে যাইয়া দুই ভাই। আমরা দুই ভাই ই ছিলাম, শুধু দুই ভাই নয়, সম্পর্ক যে আরো বড়। স্বর্গীয় সম্পর্ক বলা যায় এটাকে। সরাসরি স্বর্গ থেকে নাযিল হওয়া।

ফারহান যদি শুনতে পারে আমি এভাবে ওর কথা বলছি আপনাদের তবে আগামীকাল ই আমাকে টিসি দিবে, বন্ধুত্ব থেকে। আমি আর কিছু বলবো না। মনে হয় অনেক বেশিই বলে ফেলেছি।

আজ, আজকে ওর জীবনের শ্রেষ্ঠ একটি দিন। অনেকদিনের অপেক্ষার একটি দিন। সেরা একটি দিন। আজকেই তো সব কথা বলবো। আজকেই।
আমার প্রিয়, আমার সেরা, আমার বেস্টি।ফারহান, তুই ভালো থাকবিই, থাকতে হবেই তোকে।

অসমাপ্ত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ