লেখা তরজমা

পড়ালেখা আমার, পড়ালেখা তোমার

পড়ালেখা ব্যাপারটায় অভিভাবকদের ধাক্কাধাক্কির চেয়ে ঢের জরুরী শিক্ষার্থীর সদিচ্ছা। মাধ্যমিকে পড়া একজন শিক্ষার্থীকে পড়ালেখার জন্য বকা দেওয়ার চেয়ে খারাপ কিছু আর নেই। এই সময়ে বকা খেলে নিজেকে খুব একা মনে হয়। যদি বকা টাকে কেউ ভালো ভাবে না নেয় তবে।

ক্লাস নাইনের একজন ছাত্রের জন্য সবচেয়ে জরুরী পড়ালেখার জন্য নিজ থেকেই আগ্রহ থাকা। আগ্রহ ব্যাপারটা এমন যেনো না হয় সারাদিন পাঠ্যবইয়ে মুখ গুজে থাকবে। পড়ালেখার পদ্ধতি যেহেতু সৃজনশীল তাই নিজের চিন্তাকেও সৃজনশীলতার পথ দেখাতে হবে। নিজের চিন্তাগুলিকে ডায়েরীতে লিপিবদ্ধ করা খুবই ভালো, তা নিয়মিত কিংবা অনিয়মিত হোক। আমি আমার ডায়েরীতে আমার চিন্তাগুলি লিখতাম আর আব্বুকে দেখাতাম। ক্লাস নাইন টেনে আব্বুর পরামর্শ সবচেয়ে বেশি উপকারে এসেছে। 😊

পড়ালেখার জন্য বকা খুব কমই খেয়েছি। ক্লাস নাইনের প্রথমদিকে পরীক্ষাতে ৬০-৭০ এর ঘরে নাম্বার বেশি থাকতো। ৬০ এর নিচেও কিছু সাবজেক্ট এ ছিলো। স্বাভাবিক ভাবে সব বাবা- মা চায় তার সন্তান ৮০ পাক। না পেলে তুমুল বকাঝকা। এই বকাঝকা টাই শিক্ষার্থীর মনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে। তারা মনে করে বকাঝকার মাধ্যমে তাদের অর্জনকে ছোট করা হয়েছে কিংবা এবার খারাপ হয়েছে তো আরেকটু পড়লেই ওর রেজাল্ট আরো ভালো হতো, তাই বকার কোনো মানে হয় না। আমার ক্ষেত্রে আমার পরিবার আমাকে বুঝিয়েছে তোমার আরো চেষ্টা করা উচিত, বকাঝকা করেনি। উৎসাহ দিয়েছে, খারাপ রেজাল্ট নিয়ে কথায় কথায় তিরষ্কার করেনি।☺

সামর্থ্যের চেয়ে বেশি এক্সপেকটেশন কখনোই কাউকে সুখী করে না। নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে অবগত হয়েই কাজ করতে হবে।  কিন্তু যোগ্যতা কিংবা সামর্থ্য ব্যাপারটা আপেক্ষিক। মানুষের ভাবনার উপর নির্ভরশীল।  আমি কিংবা আপনি যদি ভাবি আমাদের এই যোগ্যতা কিংবা সামর্থ্য প্রয়োজন তবে আমরা অবশ্যই সেটা অর্জন করি। কোনো কাজে অজুহাত দেওয়া টাও সেইম ব্যাপার। আপেক্ষিক, ইচ্ছার উপর ভর করে চলে। শিক্ষার্থীদেরও সেইম কন্ডিশন,  তাদেরকে ইচ্ছা করাতে হবে, জোর করে নয়।😊

এই ইচ্ছার জন্যই বা পরীক্ষার দিবো সেই জন্যই ক্লাস টেনকে নাইন থেকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিলো। ক্লাস নাইন থেকে অনেক বেশি। কারণ তখন বুঝেছিলাম পড়তে হবে নিজের জন্যই, এটলিস্ট ক্লাসে যাতে দাঁড়িয়ে না থাকতে হয়। 😃

রেজাল্ট নিয়ে এই জন্যই চিন্তা করতে হবে যে, কারণ রেজাল্টাই সবাই জানতে চাইবে, কিভাবে পড়ালেখা করা হয়েছে সেটা নয়। রেজাল্ট ভালো করার জন্যেও তো পড়তেই হবে,  অনেক না হলেও পড়ার উপরে থাকতে হবে। ধারাবাহিকতা ব্যাপারটা এখানে ট্রাম্প কার্ড। পড়তে হবে পাঠ্যবই সহ সহায়ক সব বই। সহায়ক বলতে এখানে গাইড নয়,  এমন বইগুলো যেগুলো আগ্রহ সৃষ্টি করবে পড়ালেখায়। ফিজিক্স,  কেমিষ্ট্রি বইগুলোতে মজা পেয়েছিলাম তথাকথিত আউট বই পড়েই। আগ্রহ ব্যাপারটা নিজ থেকেই আসবে,  ভয় দেখালে এটা পালিয়ে যাবে। নিজ থেকেই যে বুঝতে পারে,  তার কি আর মোটিভেটর প্রয়োজন হয়??😃

#ব্যক্তিগত_অভিমত। 😊

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ