লেখা তরজমা

পিচ্চি বার্তা

এই পিচ্চির সাথে আমার পরিচয় জুমার নামাজের সময়। বসার জন্য পিচ্চিটাকে একটু চেপে বসতে বলার সাথে সাথেই দুইজনের জায়গা দখল করে রাখা পিচ্চিটি চেপে বসলো। আমিও সৌজন্যতাবশত এক টুকরো হাসির মাধ্যমে তাকে ধন্যবাদ জানালাম এবং বিনিময়ে পেলাম মন ভুলানো আরো কয়েক টুকরো মিষ্টি হাসি।��

বসে বসে খুতবা শুনছি, পিচ্চিটি বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছে।  আমি তাকাতেই আবার সেই হাসি, কৃত্রিমতা ছাড়া মিষ্টি হাসি। দুজনের হাসি বিনিময়ের মাধ্যমেই নামাজ শেষ হলো। নামাজ শেষে চাচ্ছিলাম পিচ্চিটির একটি ছবি নিবো। ওকে বললাম আমার ইচ্ছার কথা। উত্তর আসলো "আমার ছবি সাপোর্ট করবে না"��

আমি ছবি তুলে দেখালাম সাপোর্ট করে কিন্তু সে দিলো শর্ত জুড়ে। তাকে গেম খেলতে দিতে হবে তবেই আমি পাবো আরো কয়েকটা ছবি তোলার সুযোগ। কমন পিচ্চিদের মতোই আবদার, দিলাম গেম খেলতে। কিন্তু গেম শেষ হবার সাথে সাথেই পিচ্চির মত গেলো পাল্টে। সে আমাকে ছবি তুলতে দিবে না। আমি বললাম তোমার ছবি তুলবই, তখন সে আবারো শর্ত দিলো যদি তাকে নিজ হাতে ছবি তোলার সুযোগ দেওয়া হয় তবেই সে এক পায়ে খাড়া। ওর সাথে ডিল হলো আমি ওর ছবি তুলবো আর ও আমার ছবি তুলবে। তারপর নামাজের পরের আধাঘণ্টা ওর সাথেই কাটালাম।

সব পিচ্চিরাই সুন্দর, বিশেষ করে পিচ্চিদের মনোভাব। সহযোগিতার মানসিকতা , ভালোবাসায় পূর্ণ এরকম পিচ্চি গুলো খুব সহজেই আমাদের মন জয় করে নেয় এবং খুব সহজেই আমাদের সাথে মিশে যায়। এদের হাসি মুখগুলো শেখায় কিভাবে মানুষকে আপন করে নিতে হয়, মানুষকে ভালোবাসতে হয়। পিচ্চিদের সাইকোলজিক্যাল স্ট্রাকচারটাই অস্বাভাবিক রকমের পরিণত। তারা ভালো খারাপের পার্থক্যটা বুঝতে পারে, বলতে পারে না। কিন্তু যখন আমরা ভালো খারাপের পার্থক্যটা বলতে পারি তখন বুঝার চেষ্টাও করি না।  জীবনের প্রভাত দেখা এইসব শিশুরা মানুষকে শুধু ভালোবাসতেই পারে, ঘৃণার পথ তারা এখনো মাড়ায়নি। ওদের জন্য শুভকামনা, ওদের মনোভাব আমাদের মাঝেও বিস্তৃত হোক।��

শেষের আগেঃ

পিচ্চিটা নামাজের সময় সেন্টার ফ্রুট চিবাচ্ছিলো, আমাকেও ওর পকেটে থাকা একটা অফার করে।  আমি রোযা রেখেছি বলার পরে আমাকে ইফতারির দাওয়াতও দিয়েছে।��

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ