লেখা তরজমা

বিড়ম্বনার বাহুবলী

বিড়ম্বনা যখন বাহুবলী

এই যে বাহুবলী, বাহুবলী।  এই যে বাহুবলী।
বাজারের ভেতর দিয়ে যাবার সময় তীব্রকন্ঠের বাহুবলী চিৎকার শুনেই ঘুরে দাড়ালাম। ব্যকরণেই পড়েছি যে বাহু শক্তির অধিকারী সেই বাহুবলী। যেহেতু আমার দুই দুইটি লম্বা বাহু আছে আমিও বাহুবলী। তাই চিৎকার শুনেই পিছনে ফিরলাম।

অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলো মাঝে মাঝেই খুব ভালো লাগে। কিন্তু বাহুবলী চিৎকারের সাথে পিছনের দোকানওয়ালার মিষ্টি হাসির কোনোরূপ যোগসূত্র মগজ আতিপাতি করে খুঁজেও ব্যর্থতা ঘোষণা করতে উদ্যত হচ্ছে ঠিক সেই মূহুর্তেই পিছন থেকে বাণী ধ্বনিত হলো " ভাই, নিবেন নাকি?" আমি তখন চিন্তা করসি জামা-কাপড়ের সাথে আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য বাহুবলী মুভির সিডি কিংবা ক্লিপ কিছু একটা দিবে হয়তো। আমরা আবার সবার আগেই ইন্ডিয়ান খুঁজি কিনা।

ধারণা ব্যাপারটা অত্যন্ত বিরক্তিকর।  আপনি যা ধারণা করবেন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিপরীতটাই ঘটবে। পরীক্ষার হলে এম সি কিউ এর ধারণা করে উত্তর দেওয়া এবং সন্তান সম্পর্কে বাবা- মার ধারণা এর ব্যতিক্রম।  এক্সেপশনাল কিছু তো থাকবেই। আমার পাশে দাঁড়ানো এক ভদ্র মহিলা মূহুর্তেই আমার ধারণাকে সর্বাংশে মিথ্যা প্রমাণিত করে জানতে চাইলো " ভাই ক্রিম কালারটার দাম কতো??"

আমি এবার পুরোপুরি পিছনে ফিরলাম, দেখলাম লাল, নীল, বেগুনি ইত্যাদি বিভিন্ন কালারের বাহুবলী দোকানে স্বমহিমায় দাঁত কেলাচ্ছে।

পত্রিকায় প্রতিদিনই দেখা যায় ভারতীয় কাপড়ে ছেয়ে গেছে ঈদ বাজার। আমরা পোশাক শিল্পে বৃহত্তম রপ্তানিকারক অথচ আমদের পোশাক আমরাই পড়ি না। কথা হচ্ছে এখানে যে বাহুবলী, চেন্নাই এক্সপ্রেস, পাখি, ইত্যাদি নাম নিয়ে যেসব পোশাক বাহির হচ্ছে বাজারে এর অধিকাংশই আমাদের দেশেই তৈরী।

মার্কেটিং ব্যাপারটাকে আমাদের দেশের কিছু ছোট মনের ব্যবসায়ীরা একেবারে শিল্পের পর্যায়ে ( পড়ুন নিম্নমানে) নিয়ে গেছেন।  পোশাক থেকে শুরু করে খাতা, কলম, দাঁতের ব্রাশ, টয়লেট ব্রাশ, আচার, ডায়েরী সহ আরও কিছু জিনিস যেগুলো সম্পূর্ণ ভারতীয় চ্যানেলকে পুঁজি করে দেদারসে চলছে।

আচ্ছা  নামগুলো বাহুবলী, পাখি না হয়ে কি ময়নামতি, পদ্মা,যমুনা কিংবা কৃষ্ণচূড়াও হতে পারতোনা??
কিংবা মসলিন, গ্রাম বাংলার শৈল্পিক কোনো নাম নিয়েও পারতো হতে।��

সুস্থ হোক আমাদের মনোভাব, বেচে থাকুক শুদ্ধতায়।��

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ