সুকরূণ কন্ঠে কান্নার সুর ভেসে আসলেই মনে কিছু অশুভ ঈঙ্গিত দেয়।আনন্দের জন্য মানুষ মুচকি হাসে,অট্টহাসিটা দেয় আনন্দের আধিক্য হলে কিন্তু বিলাপ করে কান্না শুনলেই বুঝা যায় কিছু অঘটন ঘটেছে।নিচ তলা থেকে হঠাৎ এমনই করূণ কান্নার সুর ভেসে এলো।কান্নার প্রেক্ষাপট হচ্ছে একটি জীবনের অপমৃত্যু।দুই বৎসর বয়সের এক পিচ্চির হঠাৎ পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া।
মানুষ অহরহই মারা যাচ্ছে।এর পিছনে অন্যতম একটি প্রধান কারণ সচেতনতার অভাব।ব্যাপারটা এরকম না যে সচেতন হলে মানুষ মারা যাবে না।আজকে যে শিশুটি মৃত্যু বরণ করেছে তার প্রস্রাবের নালীতে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিলো।গাজীপুর চৌরাস্তার মতো এলাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও শিশুটির বাবা-মা ভরসা করেছিলেন এক গ্রাম্য কবিরাজের।নিজেদের জীবনে আধুনিকতার বুলি আওড়ালেও আমরা সমাজের স্তরে স্তরে আধুনিকতার স্বরূপ বুঝাতে পারিনি।আজকে যে শিশুটি মৃত্যু বরণ করলো তার বাসার পাশে একজন চিকিৎসক থাকে যাকে আমি চিনি।যিনি তাকে বিনা খরচেই চিকিৎসা দিতে পারতেন।শিশুটির মৃত্যুর পরে আমরা জানতে পারি তার সমস্যার কথা।কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাহায্য না নিয়ে অন্ধ বিশ্বাসে একজন গ্রাম্য কবিরাজের উপর ভরসা করা শিশুটির মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করেছে বলাই যায়।বিশ্বাসে সবসময় বস্তু মিলায় না, অতিরিক্ত বিশ্বাস বিপরীত বস্তুও মিলায়।সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন চিন্তাকে পরিবর্তন করার।
আমাদের চিন্তা এখনো বাস্তবতার চেয়ে কল্পনাকে আশ্রিত করেই গড়ে উঠে।ভার্চুয়াল জগতে সুপারম্যান দেখে আমরা আকাশে উড়বার অপকল্পনা করি,বাস্তব জীবনে সুপারম্যান হবার চেষ্টাটুকুও করি না।কল্পিত এই চিন্তার সমষ্টি আমাদের এখনো বিশ্বাস করায় অস্বাভাবিক কিছুকে ভয় করতে।আমরা ভয় করি নতুন কিছু করার প্রচেষ্টাকে,নতুনত্বকে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি মাথা তুলতে বাধা দিতে।সেই একই কারণে আমরা ভীত হই মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে।সচেতনতা বৃদ্ধি করতে শুধুমাত্র কিছু পদক্ষেপ নিলেই হবে না, প্রয়োজন পদক্ষেপের সর্বোচ্চ বাস্তবায়ন। বিশ্বটাকে গড়তে হলে সবার আগে নিজকে গড়ার মতোই সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা নিজের থেকেই শুরু করা উচিত।
0 মন্তব্যসমূহ