লেখা তরজমা

অপকবিতা শীর্ষক তিনটি বয়ান

০১ 

হঠাৎ মোড় ঘুরতেই দেয়ালে চাকুরীর বিজ্ঞাপন। 

কাজ খুবই কম, এক্কাদোক্কা করে মাথা গুণা,

কে যায়, কে যেতে চায় তাদের নাম লিখে রাখা,

হাসিমুখে তাদের সালাম জানানো, আর

মানপত্রে তাদের মহিমা গাওয়া। 

তবে কোনো সময়সীমা নেই,

যখন-তখন ডাক আসবে,

সব ছেড়ে গণনায় দাঁড়াতে হবে

এইটুকুই আয়োজন। 


অনভ্যস্ত হাতে আবেদন করে ফেললাম।

দেখলাম আমি একা নই,

শত শত মানুষ পাশে দাঁড়িয়ে,

কেউ যেতে চায়, কেউ গুণছে

কাতারের পর কাতার।


০২ 

আমাদের এই ইনসোমনিয়াময় সময়,

পাতার ফাঁকে উঁকি দেওয়া রোদ,

জানালার পাশে পাখির গান,

ধূম্রভেদী বাস্তবতায় আমরা ঝিমুই

আধো চোখে খুঁজি রাতের শরাব,

তৃষ্ণাকাতর বুকে অথই সাগর তাই

রাস্তায় খুঁজে ফিরি স্বচ্ছ বাতাস!

দমবন্ধ জাদুবাস্তবতায় পূর্ণিমার চাঁদ,

ঠিক তোমার মুখের মত, গোলগাল।


আমার ইনসোমনিয়া, আমার সময়

আমার সুররিয়ালিটি, আমার গুলমোহর!

তোমাকে মনে পড়ে,

ঠিক যেমন পেট পুড়ায় ক্ষুধা লাগলে,

ঠিক যখন নুছরত শোরগোল করে,

ঠিক যেভাবে দৃষ্টি শূণ্য হয়,

ঠিক যেখানে আমরা কথা হারাই। 


আমি মজনুন, উদ্ভ্রান্ত, উম্মাদ,

খুঁজি তাই বিশ্বাসের পাটাতন।

লায়লা দূর থেকে বহুদূরে

নিত্য দেখায় নৃত্যের আস্ফালন,

আমার ইনসোমনিয়ায়। 

সবুজ মাঠ, পালতোলা নাও, সফেদ পানি,

ধূলোমাখা আকাশ, রিনিঝিনি বাতাস,

নাম ধরে ডাকা, চুপিসারে কথা

দূরের বাঁশি, রাখালিয়া সুর, ভাটিয়ালি ঢেউ,

রোদের সর, পাখির বুলি, চাঁদের পাহাড়,

আমার সুররিয়ালিটি, আমার ইনসোমনিয়া,

আমার ইনসোমনিয়া, আমার ইনসোমনিয়া!


০৩ 

এইতো যাচ্ছে আসছে ভালো

কোথায় কে ক্লান্ত হলো

পথ চলা তো অনেক বাকী

বসে তুমি পড়লে কেনো

তিমির আধারে ওই আসমান

মিশে আজ যাচ্ছে দেখো

উচ্চশিরে নারা দিয়ে

দমাদম আগে বাড়ো। 

জ্বালতে হবে কুসুম আলো

যাবে কি মুছে আঁধার কালো?

ওয়াদা নাও এই কাজের

দেখো সব ভেস্তে গেল!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ