আমারে পাইলে তুমি একটা সাজানো-গোছানো সংসার পাইতা,
ভোরে হাসিমুখে ঘুম থেকে উঠতা,
আমরা একলগে নাস্তা বানাইতাম।
আমাগো একটা ছোট্ট সংসার হইত।
আমারে পাইলে তোমার দিনমান উজ্জ্বল থাকত,
তোমার কাজলের দাগ নষ্ট হইত না,
তোমার চোখের নিচে কালি পড়ত না,
তোমার চুলগুলা অকালে ঝরত না,
তোমার গালভরা টোল থাকত।
আমারে পাইলে তোমার কপালে ভাঁজ পড়ত না,
তোমার হাত পুড়ত না,
তোমার পায়ের পাতা কোমল থাকত,
তোমার নখ থাকত ফকফকা সাদা।
আমারে পাইলে তুমি একটা রাজ্য পাইতা।
তিনখানা চেয়ার, একটা টেবিল, পুরানা ম্যাট্রেস, পলেস্তারা খঁসা দেয়ালেও সুখে হারাইতা,
আমারে পাইলে তোমার চোখ ঝিলমিল করত,
তোমারে পাইলে আমরা একসাথে চাঁদ দেখতাম।
আমারে পাইলে সাগরের তত্ত্ব বুঝতা,
পাহাড়ের নিঃসঙ্গতা টের পাইতা,
আকাশের বিশালতায় হারাইতে চাইতা,
দুপুরের অলসতায় ঘুমাইতে চাইতা,
বিকালের অবসন্নতায় চা-য়ে ডুবতা,
সন্ধ্যার আবছায়ায় গযল শুনতা।
আমারে পাইলে তুমি দুনিয়াই তো পাইতা!
তুমি নিজের মত দুনিয়ারে চাইলা।
তুমি আমারে দেখাইলা জান্নাত,
বাইছা নিলা জাহান্নাম।
তুমি আমারে বুঝাইলা জীবন,
বাইছা নিলা পলায়ন।
তুমি আমারে জড়াইলা ভালোবাসায়,
ভুইলা গেলা সব আলাপন।
আমারে পাইলে তুমি হয়ত খিলখিলায়ে মারাই যাইতা!
তাই খোদা তোমারে বাচাইয়া নিলেন।
রহমদীল খোদা আমারেও বাচায় দিলেন।
আমাগো বাইচা থাকার স্বার্থে তুমি তো জীবনরেই কুরবানী দিলা!
আমারে পাইলে তুমি
সাজ্জাদুর রহমান
1 মন্তব্যসমূহ
--
আমি চেনা কেউ তবুও খুব অচেনা।
বাহ,খুব চমৎকার লিখেছেন।।